হাদীস ও সুন্নাতের গুরুত্ব

 

।। আল্লামা হাফেজ মুহাম্মদ জুনায়েদ বাবুনগরী (দা.বা.) ।।

এ কথা অস্বীকার করার উপায় নেই যে, কুরআন মাজীদের পর ইসলামের দ্বিতীয় উৎস হল, রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের হাদীস। মূলতঃ কিতাবুল্লাহ্ ও হাদীসে রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম হচ্ছে দ্বীনের ভিত্তি। এ দু’য়ের মধ্যে পার্থক্য সৃষ্টি করা অর্থাৎ- এ কথা বলা যে, কুরআনই দ্বীনের ভিত্তি, হাদীস নয়। ইসলামের সাথে চরম শত্রুতা বৈ কিছুই নয়। বস্তুতঃ হাদীস ব্যতীত শুধু কুরআন দ্বারা দ্বীনের পুর্ণরূপ বিকশিত হতে পারে না। উম্মতের ঐক্যমতে কুরআন অবশ্যই পূর্ণাঙ্গ কিতাব এবং দ্বীন ও শরীয়তের উৎস। কিন্তু তা এক সংক্ষিপ্ত কিতাব বিধায় এর ব্যাখ্যা হওয়া দরকার। রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম হলেন কুরআনের ব্যাখ্যাকার এবং তার হাদীস তথা কমবহুল জীবন কুরআনেরই ব্যাখ্যা বিশ্লেষণ। যেমন- কুরআনের এক আয়াতে বলা হয়- “এই কুরআন আপনার প্রতি নাযিল করেছি, যাতে মানুষের প্রতি অবতীর্ণ বিষয়গুলোকে আপনি স্পষ্ট করে দেন”। (সূরা নাহল)।

কুরআনের ব্যাখ্যা বিশ্লেষণের প্রয়োজন না হলে আল্লাহ্ আপন নবীর প্রতি এ দায়িত্ব অর্পন করতেন না।

প্রখ্যাত মুহাদ্দিস ও মুজতাহিদ ইমাম আওযায়ী (রাহ.) বলেন, ‘হাদীস কুরআনের তত মুখাপেক্ষী নয়, কুরআন হাদীসের যে পরিমান মুখাপেক্ষী’। (তা’লীকুচ্ছাবীহ)। অর্থাৎ কুরআনের মর্ম অনুধাবনের জন্যে হাদীসের সাহায্য নেয়া ব্যতীত গত্যন্তর নেই। যেমন- গৃহ নির্মাণের জন্যে শুধু ম্যাপ সামনে রাখলে চলে না, বরং পদে পদে ইঞ্জিনিয়ারের নির্দেশনা আবশ্যক হয়। তেমনি ইসলামের ইমারতও শুধু কুরআন দ্বারা পূর্ণতা লাভ করতে পারে না, বরং এতে রিসালাতের হিদায়াতও আবশ্যকীয়। আর এতে নিহিত রয়েছে খোদার অসংখ্য হিকমত ও রহস্য।

হাদীস ও সুন্নাতের গুণে ইসলামী ফিক্বাহ্শাস্ত্র এমন বিশ্বজনীনতা লাভ করেছে, যার উদাহরণ বিগত ও বর্তমান যুগের কোন আইনশাস্ত্রে পাওয়া যায় না। তদুপরি এ কথাও মনে রাখতে হয় যে, রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের বাণী ও কর্ম তথা তাঁর পবিত্র জীবনাদর্শ ব্যতীত কারো পক্ষে সত্যিকার মুসলমান হওয়া সম্ভব নয়।

যেমন, তাওহীদের পর সর্বাধিক গুরুত্বপূর্ণ ইবাদত হল নামায। নামাযের অন্যতম বৈশিষ্ট হল, শবে মিরাজে নামায ফরয হয়। অথচ অপরাপর ইবাদতের হুকুম আসে ওহীর মাধ্যমে জমিনে। কুরআন মজীদের স্থানে স্থানে নামাযের আদেশ রয়েছে। কিন্তু নামাযের নিয়ম-কানুনের বিবরণ কুরআনে পাওয়া যায় না। নামাযে আছে ছানা ও সূরা পাঠ, রুকু সিজদায় তাসবীহ্, বৈঠকে আত্তাহিয়্যা ও দরূদ ইত্যাদি। তা ছাড়াও আছে দু’ তিন ও চার রকাত বিশিষ্ট নামায। সেগুলোর উল্লেখ কুরআনে নেই। তাই নামাযের নিময়-কানুনের তালীম দানের উদ্দেশ্যে রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন যে, “তোমরা আমাকে যেরূপ নামায পড়তে দেখ, সেরূপ নামায পড়”। সুতরাং বুঝা যায়, চৌদ্দশ’ বছর পর্যন্ত নামাযের যে নিয়ম চলে আসছে, তা রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের বাণী ও কর্ম দ্বারাই রূপায়িত হয়েছে।

অনুরূপ, যাকাতও ইসলামের গুরুত্বপূর্ণ ইবাদত এবং আর্থ-সামাজিক সমস্যা সমাধানে যাকাতের ভূমিকা অনস্বীকার্য। কুরআন মাজীদে অহরহ এর তাগিদ দেয়া হয়। কিন্তু নিছাবের কোন বিবরণ পাওয়া যায় না। আমাদের শ্রদ্ধেয় ইমামগণ সংশ্লিষ্ট হাদীস সমূহের আলোকে যাকাতের পূর্ণাঙ্গ নিয়ম-কানুন রচনা করে দিয়েছেন।

রাষ্ট্রনীতি ও সমাজনীতির কথাও এখানে উল্লেখ্য। আল্লাহর খিলাফত প্রতিষ্ঠার জন্যেই জমিনে মানুষের আগমন। কিন্তু খিলাফত প্রতিষ্ঠার পন্থা কি, আইনের রূপরেখা কি হবে, প্রশাসনিক ক্ষমতার সীমা পরিসীমা কি এবং শাসক ও শাসিতের পারস্পরিক সম্পর্ক হবে কোন ধরণের, ইত্যাকার আরও বহু প্রশ্ন আছে, যেগুলোর মৌলিক নির্দেশনা কুরআনে থাকলেও তাফসীলি কার্যক্রমের উল্লেখ পাওয়া যায় না। হ্যাঁ, এর তাফসীল পাওয়া যাবে হাদীস শরীফ তথা রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের পবিত্র জীবনাদর্শে এবং এ জীবনাদর্শের ছাঁচে গড়া চার মহান খলীফার খিলাফতে রাশেদার আমল ও কার্যক্রমে, যা আজকের সমস্যা সংকুল মানব সমাজের জন্যে অবশ্যই পথের দিশা। মোটকথা, যে ইসলাম পূর্ণাঙ্গ জীবন বিধানরূপে স্বীকৃত, তা’ হাদীস ও সুন্নাতে রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ব্যতীত রাষ্ট্র ও সমাজে এবং ব্যক্তিগত ও প্রাত্যহিক জীবনে প্রতিষ্ঠা লাভ করতে পারে না।

কুরআন অনুধাবনে হাদীসের আবশ্যকতাঃ

যারা বলতে চান, মুসলমানদের জন্যে কুরআনই যথেষ্ট, হাদীসের প্রয়োজন নেই, তাদের চিন্তা করা উচিত যে, কুরআন ব্যতীত জ্ঞানের অন্য কোন বিশ্বস্ত উৎস যদি না থাকে এবং হাদীসের প্রতি দৃকপাত করা না হয়, তবে স্বয়ং কুরআনের বহু আয়াতের মর্ম অস্পষ্ট থাকবে। যেমন- সূরা আনফালের এক আয়াতে বলা হয়েছে- “এবং আল্লাহ্ যখন তোমাদের প্রতিশ্রুতি দিচ্ছিলেন যে, দু’ দলের কোন একটি তোমাদের পরাভূত হবে”।

এখানে যে দু’দলের উল্লেখ হল, তারা কোন্ কোন্ দল এবং কি কি প্রতিশ্র€তি দেয়া হয়েছিল, তা’ হাদীস ব্যতীত আর কোন্ সূত্রে জানা যাবে? অথচ কুরআনে তো তার উল্লেখ নেই। যখন নেই, অবশ্যই মানতে হবে যে, কুরআন ব্যতীত অন্য কোন ওহীও রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের প্রতি নাযিল হত।

সূরা তাওবার এক আয়াতে বলা হয়- “আল্লাহ্ অনেক রণাঙ্গণে তোমাদের সাহায্য করেছেন……”। এখানে যে রণাঙ্গনের উল্লেখ হল, তা কোনটি? হাদীস ব্যতীত বুঝার কি সাধ্য আছে?

সাহাবায়ে কেরামঃ

এ প্রসঙ্গে চিন্তা করার বিষয় যে, হযরত সাহাবায়ে কেরাম রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের নিত্য সহচর ও নিজস্ব আরবী ভাষায় পারাদর্শী ছিলেন এবং যাঁদের উপস্থিতিতে কুরআন নাযিল হয়েছিল, স্বয়ং তাঁদের পক্ষেও রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কর্তৃক ব্যাখ্যা দান ব্যতিত কুরআনের অনেক আয়াতের তাফসীর বুঝা সম্ভব হয়নি।

যেমন- একদা রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছিলেন- ক্বিয়ামতের দিন যার হিসাব নেয়া হবে, সে ধ্বংস হবে। হযরত আয়েশা (রাযি.) একথা শোনে আরয করেন, ইয়া রাসূলাল্লাহ্ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)! কুরআন তো বলে “যার আমলনামা ডান হাতে দেয়া হবে, তার হিসাব হবে সহজ। (সূরা আল্ হক্কা)। সুতরাং সহজ পন্থায় হিসাবদানকারীরা ধ্বংস হবে না। উত্তরে রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন, সহজ হিসাবের অর্থ হল, আমলনামা তাদের সামনে রেখে বলা হবে যে, তোমরা এসব কাজ অবশ্য করেছিলে। কিন্তু এতে বিপত্তির সম্মুখীন হবে না তারা। তবে যদি জিজ্ঞাসাবাদ চলে যে, এ কাজ কেন করেছিলে? কিংবা কেন করনি- তাহলে মনে রাখ যে, সে বান্দার পরিত্রান নেই। অতএব, দেখা যায়, রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের ব্যাখ্যা দানের ফলে হযরত আয়েশা (রাযি.)এর সন্দেহ নিরসন হয় এবং আয়াতটির সঠিক অর্থ বুঝতে পারেন।

অনুরূপ, যখন এ আয়াত নাযিল হয়, খাওয়া-দাওয়া কর যতক্ষণ না তোমাদের সাদা ও কাল সুতার মধ্যে পার্থক্য অনুভূত হয়। (সূরা বাকারাহ্)। তখন রমযান মাসে এক সাহাবী সাদা ও কালো দু’ বর্ণের সুতা বালিশের পাশে রেখে শেষ রাতে তার দিকে তাকিয়ে থাকেন। অতঃপর ভোরের আলোতে যখন দু’ সুতার মধ্যে পার্থক্য করা গেল, তখন সেহরী খানা বন্ধ করে দিলেন। এ সংবাদ রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের কানে গেলে তিনি তাকে ডেকে বলেন, এখানে সাদা ও কালো সুতা উদ্দেশ্য নেয়, বরং কথাটির অর্থ রাতের অন্ধকার ও ভোরের আলো। (রুহুল মাআনী)।

রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের ব্যখ্যা দান ব্যতীত স্বয়ং সাহাবায়ে কেরামও যে কুরআনের অনেক আয়াতের অর্থ বুঝেননি, উপরে তার দু’টি মাত্র  উদাহরণ দেয়া হল। মোটকথা, হাদীস ও সুন্নাত ব্যতীত কুরআন বুঝা খুবই মুশকিল। যারা এ দুঃসাহস দেখায়, তারা ভয়ঙ্কর পথে পা বাড়ায়। ইমাম আযম আবু হানীফা (রাহ.) তাই বলেছেন, “হাদীস ও সুন্নাত না হলে আমাদের কেউ কুরআন বুঝত না”। (তালীকুচ্ছাবীহ)।

কুরআনের দৃষ্টিতে হাদীস ও সুন্নাতঃ

হাদীস অস্বীকার করে যারা কুরআনকেই শুধু দ্বীনের উৎস মনে করে, কুরআনের ঐ সমস্ত আয়াতকেও তাদের স্বীকার করতে হবে, যেখানে পরিস্কার বলা হয়েছে যে, হাদীস ও সুন্নাত দ্বীনের উৎস এবং শরীয়তের স্বতš দলিল। যদি স্বীকার না করে, তবে তা হবে কুরআন অস্বীকার করার নামান্তর। শ্রদ্ধেয় উস্তাদ আল্লামা হযরত ইউসূফ বান্নুরী (রাহ.) একদা বলেছিলেন, কুরআনে একশতেরও অধিক আয়াত এমন আছে, যেগুলোর প্রত্যেকটি হাদীসের শরয়ী দলিল হওয়া বুঝায়। উদাহরণ স্বরূপ নিম্নে শুধু তিনটি আয়াতের উল্লেখ করছি। ইরশাদ হচ্ছে-

১। আপনার প্রতিপালকের শপথ! তারা ততক্ষণ মুমিন হবে না, যতক্ষণ না পারস্পরিক বিবাদে তারা আপনাকে মীমাংসাকারী মেনে নেয়। অতঃপর আপনার মীমাংসায় তারা মনে সংকোচ না আনে এবং তা পূর্ণরূপে মেনে নেয়। (সূরা নিসা)। এ আয়াতে স্পষ্ট ঘোষণা আছে যে, রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের আদেশ উপদেশের আনুগত্য শুধু যে আবশ্যক, তা নয়, বরং মুমিন হওয়ারও পূর্বশর্ত। সেই আদেশ উপদেশ ও কর্ম-নীতিকেই পরিভাষায় হাদীস বলা হয়।

২। ইরশাদ হচ্ছে- “কোন মুমিন নারী পুরুষের আবকাশ নেই যে, আল্লাহ্ ও তাঁর রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কোন কাজের আদেশ দিলে সে কাজে প্রশ্ন করার তাদের কোন এখতিয়ার থাকে এবং যে আল্লাহ্ ও তাঁর রাসূলের আদেশ অমান্য করে, সে স্পষ্ট গোমরাহীতে নিপতিত হল”। (সূরা আহ্যাব)।

এ আয়াতে আল্লাহ্ নিজের ও তাঁর রাসূলের আদেশ পালনকে ঈমানের জন্য অপরিহার্য এবং মুসলমানদের জন্য তা লাজিম করে দিয়েছেন এবং রাসূলের অবাধ্যতাকে খোদার অবাধ্যতার সাথে তুলনা করেছেন। সুতরাং রাসূলের হাদীস তথা বাণী ও কর্ম যদি শরীয়তের অন্যতম দলীল না হত, তবে উক্ত আয়াতে এত কঠোর সাবধান বাণী দেয়া হতো না।

৩। ইরশাদ হচ্ছে- “সেই আল্লাহ্ নিরক্ষর লোকদের কাছে তাদের থেকে একজন রাসূল প্রেরণ করেছেন, যেন তিনি তাদের নিকট আল্লাহর আয়াতগুলো তিলাওয়াত করে নেয়, তাদের পবিত্র করেন এবং তাদের কিতাব ও প্রজ্ঞার শিক্ষা দান করেন। আর এই লোকেরা ইতিপূর্বে স্পষ্ট গোমরাহীতে পতিত ছিল”। (সূরা জুমা)। এ আয়াতে রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের ৪টি দায়িত্বের উল্লেখ করা হয়- (১) তিলাওয়াতে কুরআন (২) পরিশুদ্ধ করণ (৩) কিতাবের তালিম (৪) প্রজ্ঞার শিক্ষাদান। এখানে কিতাবের তালীম অর্থ কুরআনের তাফসীর ও ব্যাখ্যা দান। আর প্রজ্ঞা অর্থ হাদীস ও সুন্নাত। (ইবনে কাসীর)।

সুতরাং বুঝা যায়, রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের দায়িত্ব ডাক-পিয়নের মত শুধু মানুষের কাছে আল্লাহর বাণী পৌঁছানো নয়, বরং কুরআনের তালীম এবং তাফসীর ও ব্যাখ্যাার দায়িত্বও তাঁর প্রতি ন্যস্ত হয়েছে। যারা শুধু কুরআনকেই শরীয়তের দলীল মনে করে, কুররআন তাদের তাগিদ দিচ্ছে যে, পাশাপাশি যেন হাদীস ও সুন্নাতকেও শরীয়তের দলিলরূপে স্বীকার করা হয়। #


Editor: Chowdhury Arif Ahmed
Executive Editor: Saiful Alam
Contact: 14/A, Road No 4, Dhaka, Bangladesh
E-mail: dailydhakatimes@gmail.com
© All Rights Reserved Daily Dhaka Times 2016
এই ওয়েবসাইটের কোন লেখার সম্পূর্ণ বা আংশিক আনুমতি ছাড়া নকল করা বা অন্য কোথাও প্রকাশ করা সম্পূর্ণ বেআইনি