ভাস্কর্যের নামে দেশব্যাপী ‘মূর্তি সংস্কৃতি’ ছড়িয়ে দেওয়ার চেষ্টা চলছে

 

।। মুহাম্মদ আমিনুর রশীদ গোয়াইনঘাটী ।।

বিশ্বের তৃতীয় বৃহত্তম মুসলিম দেশ আমাদের এ বাংলাদেশ। দেশের শতকরা প্রায় ৯০ ভাগ অধিবাসী মুসলমান। ইসলাম এদেশের রাষ্ট্র ধর্ম। দেশের আনাচে-কানাচে ছড়িয়ে আছে অসংখ্য শিক্ষা প্রতিষ্ঠান। শিক্ষাই জাতির মেরুদন্ড। এসব শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীরাই জাতির ভবিষ্যত, আগামী দিনের আশা ভরসা। আজকের ছাত্ররাই আগামী দিনের রাষ্ট্রনায়ক হয়ে দেশ পরিচালনা করবে। চিকিৎসক হয়ে রোগ নিরাময়ের ব্যবস্থা করবে। কবি ও সাহিত্যিক হয়ে উত্তম আদর্শে অনুপ্রেরণা যোগাবে। দেশের সর্বোচ্চ আদালতে বসে ইনসাফ ভিত্তিক বিচার পরিচালনা করবে। আমাদের ছাত্র সমাজই এদেশে ইসলাম ও মুসলিম জাতির ঐতিহ্যের পতাকা সমুন্নত রাখবে।

কিন্তু পরিতাপের বিষয় যে, আমাদের এ আশার পাতে ছাঁই ঢেলে দিচ্ছে ইসলাম ও মুসলিম জাতির প্রতি শত্রু ভাবাপন্ন নাস্তিক্যবাদি অপশক্তি। আর এই অপশক্তিকে ইন্ধন যোগাচ্ছে ইসলামের প্রতি বৈরি ভাবাপন্ন ইহুদী, খ্রীস্টান ও পৌত্তলিকতাবাদি শক্তি। তারা কখনো চায় না ইসলাম ও মুসলিম জাতির উন্নতি ও অগ্রগতি হোক। পবিত্র কুরআনের ভাষায়- আপনার ওপর ইহুদী খ্রীস্টানরা কখনো সন্তুষ্ট হবে না, যতক্ষণ আপনি তাদের ধর্মাবলম্বী না হন। (সূরা বাকারা- ১২০)

তাই তারা ইসলাম ও মুসলমানদেরকে ধ্বংস করার নিমিত্তে লেলিয়ে দেয় তাদের গোয়েন্দা চক্রদেরকে আমাদের শিক্ষাঙ্গনগুলোতে। শুরু হয়ে যায় শিক্ষাঙ্গনে তাদের অপতৎপরতা।

বাংলাদেশ স্বাধীন হবার পর থেকে তাদের এ অপতৎপরতা বহুলাংশে বেড়ে যায়। তারা তাদের চরদের মাধ্যমে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়সহ অন্যান্য সব বিশ্ববিদ্যালয়, মেডিকেল কলেজ, ইঞ্জিনিয়ারিং কলেজ এবং প্রধান প্রধান সাধারণ কলেজের শিক্ষক ও ছাত্রনেতাদের হাত করার মহাপরিকল্পনা গ্রহণ করে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ই হচ্ছে বাংলাদেশের সবগুলো আন্দোলনের সুতিকাগার। জাতীয় প্রয়োজনে যে কোন আন্দোলনের সূত্রপাত ঘটে এ বিশ্ববিদ্যালয় হতে। তাই ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়কে বাংলাদেশের বিবেকও বলা চলে। বিদেশী ভল্লুকেরা সর্বপ্রথম তাদের চরদের দ্বারা এ বিশ্ববিদ্যালয়ে ব্যাপক তৎপরতা চালিয়ে কতিপয় শিক্ষক ও ছাত্রনেতাকে হাত করে নেয় এবং তাদের মগজ ধোলাই করে বিজাতীয় ভোগবাদি সংস্কৃতির প্রচার ও প্রসার ঘটায়। অতঃপর ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে বস্তাপঁচা বিজাতীয় সংস্কৃতির ঢেউ দেশের অন্যান্য বিশ্বেবিদ্যালয় ও কলেজে অবলীলায় ছড়িয়ে পড়ে। ইসলাম ও মুসলিম জাতির প্রতি শত্রু ভাবাপন্ন ইসলাম বিদ্বেষী অপশক্তির লক্ষ্যার্জনে বেশ ফলও ধরেছে। কারণ, বর্তমানে বহু বাংলাদেশী মুসলিম শিক্ষার্থী বিভিন্ন কায়দায় ইসলামী সংস্কৃতির পরিবর্তে ভোগবাদি পশ্চিমা ও পৌত্তলিক সংস্কৃতির নিষ্ঠাবান ধারক ও বাহকে পরিণত হয়েছে। শুধু তাই নয়, বরং তারা এখন ইসলামী সংস্কৃতিকে রীতিমত নোংরামী, প্রগতি বিরোধী ও অপসংস্কৃতি মনে করতঃ এর প্রতি চরম বেয়াদবী ও ধৃষ্টতা প্রদর্শন করতেও শিখেছে।

সম্প্রতি আমাদের দেশের মুসলিম বিদ্বেষী নাস্তিক্য চিন্তা লালনকারী প্রভাবশালী এ মহলটিই ইসলাম ও মুসলমানদের জন্যে কালসাপ হয়ে দাঁড়িয়ে আছে। তারা স্কুল-কলেজ-ভার্সিটি থেকে শুরু করে গোটা বাংলাদেশ থেকে ইসলাম ও মুসলিম ঐতিহ্য মুছে ফেলতে আদাজল খেয়ে নেমেছে। এমনকি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ইসলামের ইতিহাস ও সংস্কৃতি বিভাগ তুলে দেবার দাবীও ওঠেছে ইতিহাস সমিতি থেকে।

দেশ স্বাধীন হবার পর পরই তথা কথিত ধর্মনিরপেক্ষ বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠার নামে ঢাক বিশ্ববিদ্যালয়ের মনোগ্রাম হতে পবিত্র কুরআনের বাণী ‘ইকরা বিসমি রাব্বিকাল্লাযি খালাক্ব’ এবং সলিমুল্লাহ মুসলিম হল এবং ফজলুল হক মুসলিম হল থেকে ‘মুসলিম’ শব্দটি বাদ দেয়া হয়। পরবর্তীতে বিশ্ববিদ্যালয়ের মনোগ্রাম থেকে বাদ পড়ে যাওয়া পবিত্র কুরআনের বাণী এবং উপরোল্লিখিত হলদ্বয়ের নামের সাথে মুসলিম শব্দটি পুনঃসংযোগের দাবী বিভিন্ন সময় বিভিন্ন মহল থেকে ওঠলেও বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ কোন অশুভ শক্তির কারণে, এ ব্যাপারে কোন ইতিবাচক পদক্ষেপ নেয়নি।

শেষ পর্যন্ত ১৯৯৪ সনের ৮ই জুন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সলিমুল্লাহ হলের প্রভোষ্ট ও সমাজ বিজ্ঞান বিভাগের সাবেক প্রধান ডা. অধ্যাপক কামরুল আহসান চৌধুরী বিশ্ববিদ্যালয়ের বার্ষিক সিনেট অধিবেশনে মনোগ্রামে পবিত্র কুরআনের আয়াত এবং হলদ্বয়ে ‘মুসলিম’ শব্দটি পুনর্বহালের জন্যে লিখিত প্রস্তাব উত্থপন করেন। এ প্রস্তাব উত্থপনের অপরাধে হিন্দু ও খ্রীস্টান সংস্কৃতির ধারক ও বাহক কতিপয় মস্তান ডা. আহসানের বিশ্ববিদ্যালয়স্থ অফিস কক্ষে দুই দফা হামলা চালায় এবং তার জীবন নাশের হুমকি দেয়। কিন্তু পরিতাপের বিষয় যে, বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষও এসব সন্ত্রাসী মাস্তানের বিরুদ্ধে কোনো শাস্তিমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করেনি। (সাপ্তাহিক মুসলিম জাহান- ১৩-১৯ সেপ্টেম্বর ১৯৯৫)।

তিক্ত হলেও সত্যি যে, আমাদের এক বিশেষ প্রতিবেশী দেশ বাংলাদেশ থেকে ইসলাম ও মুসলিম ঐতিহ্যকে একেবারে মুছে ফেলে এদেশকে রাম মন্দির এবং মূর্তির দেশে পরিণত করার দুঃসাহস দেখাচ্ছে। এ কাজে তাদের গোয়েন্দা সংস্থা কোমরে গামছা বেঁধে নেমেছে। এ দুরভীসন্ধি বাস্তবায়নে এদেশীয় এজেন্টদেরকে তারা  তাদের কাছে পাচ্ছে। এ লক্ষ্যে তারা অনেকটা পথ এগিয়েও গেছে। এ সম্পর্কে সাপ্তাহিক মুসলিম জাহান তার এক প্রতিবেদনে জানিয়েছে। আমাদের প্রতিবেশী রাষ্ট্রের চক্রান্ত সমূহের সবচেয়ে জঘন্য এবং সুদূর প্রসারী প্রকল্প হলো ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়কে মূর্তির এলাকায় পরিণত করে, ধীরে ধীরে এ প্রক্রিয়াকে দেশের অন্যত্র ছড়িয়ে দেয়া। (যেভাবে আজ সুপ্রীম কোর্ট প্রাঙ্গনে ছড়িয়ে দেয়া হয়েছে)।

এ উদ্দেশ্যে বিভিন্ন অজুহাতে অবান্তর ও অবাস্তব ইস্যুর আবরণে এ মূর্তি স্থাপনের প্রক্রিয়া এগিয়ে চলছে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় অঙ্গনে ইতোমধ্যে বিভিন্ন আকার ও প্রকৃতির অনেকগুলো মূর্তি তৈরি করা হয়েছে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় অঙ্গনে এমন কিছু হিন্দু বুদ্ধিজীবী ও রাজনৈতিক ব্যক্তিত্বের মূর্তি স্থাপনের পরিকল্পনা নেয়া হয়েছে বলে জানা গেছে, যারা কোনোভাবেই ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রতিষ্ঠার সাথে জড়িত ছিলেন না। রবীন্দ্রনাথ থেকে শুরু করে তৎকালে এমন হিন্দু বুদ্ধিজীবী কেউ ছিলেন না, যারা ঢাকায় বিশ্ববিদ্যালয় স্থাপনের প্রচেষ্টার বিরোধীতা করেননি। অথচ আজকের ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় রবীন্দ্র চর্চার প্রধান ঘাঁটি। পাকিস্তান আমলে, এমনকি বৃটিশ আমলেও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় অঙ্গনে কোনো মূর্তি স্থাপন করা হয়নি। আমেরিকা, ইউরোপের বিশ্ববিদ্যালয় অঙ্গনেও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের মতো মূর্তির ছড়াছড়ি চোখে পড়বে না। যে গতিতে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় অঙ্গনে মূর্তি স্থাপন শুরু হয়েছে, তা অব্যাহত থাকলে কয়েক বছর পর কেউ বুঝতেই পারবে না যে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কোন মুসলিম দেশের বিদ্যাপীঠ। (মুসলিম জাহান বর্ষ- ৫, সংখ্যা- ২৩)।

নির্ভরযোগ্য সূত্রের বরাত দিয়ে বহু আগে দৈনিক মিল্লাত জানায়, একটি বিশেষ প্রতিবেশী দেশ ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে মূর্তি নির্মাণের উদ্যোক্তা এবং তাদের অর্থানুকুল্যে বিশেষ উদ্দেশ্যকে সামনে রেখে মূর্তিগুলো নির্মাণ করা হচ্ছে। আগামী ১০ বছরের মধ্যে বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে ভাস্কর্যের নামে দুইশত মূর্তি স্থাপনের জন্যে নেপথ্যে কাজ চলছে বলে জানা গেছে। (দৈনিক মিল্লাত ২৭ মে ১৯৯৪)। পত্রিকাটির রিপোর্ট যে ভিত্তিহীন ছিল না, তা আজ দিবালোকের ন্যায় স্পষ্ট। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়সহ দেশের বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে নামে বেনামে আজ অসংখ্য মূর্তি নির্মাণ করা হচ্ছে।

সুপ্রীম কোর্টের ন্যায় স্পর্শকাতর সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠানের মূল ভবনের সামনে আজ গ্রীক দেবি থেমিসের মূর্তি স্থাপন করা হয়েছে। সুপ্রীম কোর্ট হলো, দেশের সর্বোচ্চ আদালত। ন্যায় ও ইনসাফের সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠান। সেখানে আগে থেকেই ন্যায় বিচারের প্রতীক হিসেবে দাড়ি-পাল্লা বিদ্যমান ছিল। কিন্তু সেই দাড়ি-পাল্লার বদলে ভাস্কর্যের নামে গ্রীক দেবির মূর্তি স্থাপন করা হলো কোন যুক্তিতে? কাকে খুশি করার হীন উদ্দেশ্যে? এর নেপথ্যে কারা কাজ করছে? গ্রিক দেবির মূর্তির সাথে বাংলাদেশের ইতিহাস ঐতিহ্য এবং সংস্কৃতির কোন সম্পর্ক নেই। ইসলামী সংস্কৃতির সাথেও এটা সাংঘর্ষিক। ইসলামে মূর্তির কোনো স্থান নেই। এটা শতকরা প্রায় ৯০ ভাগ মুসলিম অধ্যূষিত বাংলাদেশের মানুষের ধর্মীয় বিশ্বাস ও ঐতিহ্যের সাথে চরম বিশ্বাসঘাতকতা। এটা সরাতেই হবে, নতুবা এর বিরুদ্ধে জনমনে তৈরি হওয়া ক্ষোভ এক সময় বিস্ফোরিত হবেই, ইনশাআল্লাহ।

দুঃখের বিষয়, আমাদের দেশে বেশি কিছু রামপন্থী ও বামপন্থী বুদ্ধিজীবী আছেন যারা সব সময় ইসলাম ও মুসলিম জতির বিরুদ্ধে অবস্থান নিয়ে থাকেন। এসব বুদ্ধিজীবীর নামের আগে লাগানো টাইটেল দেখলে মনে হয় তারা কতবড় যে পন্ডিত ও মহাজ্ঞানী, কিন্তু যখন তারা ইসলাম সম্পর্কে মুখ খোলেন তখন বুঝা যায় তারা একেবারেই অর্বাচীন। সুপ্রীম কোর্ট প্রাঙ্গণ থেকে গ্রীক দেবির মূর্তি অপসারণের দাবিতে যখন শায়খুল ইসলাম আল্লামা শাহ আহমদ শফী (দা.বা.)এর নেতৃত্বে হেফাজতে ইসলাম আন্দোলনে নামে। তখন রামপন্থী ও বামপন্থী বুদ্ধিজীবীরা বলতে থাকেন, হেফাজতীরা ভাস্কর্য আর মূর্তির মধ্যে যে পার্থক্য রয়েছে, সেটাই বুঝে নাই। তারা ভাস্কর্য আর মূর্তিকে এক করে মানুষকে বিভ্রান্ত করছে। আসলে কি তাই, ভাস্কর্য আর মূর্তি এক নয়, বরং দু’ জিনিষ?

সত্যি বলতে কি, ভাস্কর্য আর মূর্তি দুই জিনিষ নয়, বরং একই মুদ্রার এপিঠ-ওপিঠ। ভাস্কর্য বলা হয়, ধাতু বা পাথর প্রভৃতি দিয়ে মূর্তি নির্মাণের শিল্পকে। (দেখুন- সংসদ বাংলা অভিধান, জয় আধুনিক বাংলা অভিধান ইত্যাদি)। সুতরাং ভাস্কর্যই যে মূর্তি এতে কোনো সন্দেহের অবকাশ নেই। তাই হেফাজতের আলেম-ওলামাকে দাঁত পড়া টাক পড়া বুদ্ধিজীবীদের থেকে জ্ঞান নিতে হবে না।

তবে ধন্যবাদ দেই বঙ্গবন্ধু কন্যা মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে। তিনিও সুপ্রীম কোর্টে ভাস্কর্য নির্মাণে অসন্তুষ্টি প্রকাশ করেছেন। গত ১১ এপ্রিল ১০১৭ ইং তারিখে হেফাজত আমীরের নেতৃত্বে দেশের শীর্ষস্থানীয় ওলামায়ে কেরাম কওমী সনদের স্বীকৃতির ব্যাপারে গণভবনে প্রধানমন্ত্রীর সাথে সাক্ষাত করতে যান। তখন তারা বিষয়টি প্রধানমন্ত্রীর নজরে আনেন। তখন প্রধানমন্ত্রী ওলামায়ে কেরামের সাথে একমত পোষণ করে বলেন, “আমিও এটা পছন্দ করি না। আমার অসন্তুষ্টির কথা ইতোমধেই প্রধান বিচারপতিকে জানিয়ে দিয়েছি। তিনি প্রধান বিচারপতির সাথে আলোচনা করে মূর্তি অপসারণের সব ব্যবস্থা নেবেন বলে ওলামায়ে কেরামকে আশ্বাস দেন। যদিও প্রধানমন্ত্রীর আশ্বাসের পর মূর্তিটি সরানো হয়েছিল। কিন্তু একদিনের মাথায় সেটাকে সুপ্রিম কোর্টের এনেক্স ভবনের সামনে পুনরায় স্থাপন করা হয়। এতেই বুঝায় যে, আমাদের দেশে ইসলাম বিদ্বেষী শক্তির কালো হাত অদৃশ্য অপশক্তির ছত্রছায়ায় কত গভীর প্রভাবশালী হয়ে ওঠেছে।

এই অপসারণ ও পুনঃস্থাপনের কড়া প্রতিবাদ করে হেফাজত আমীর বলেছেন যে, আমরা বাংলাদেশে থেমিস থাকবে কি থাকবে না, সেই প্রশ্ন তুলেছি। আমরা দেবী থেমিসের অপসারণ চেয়েছি। কিন্তু দেবী থেমিস সুপ্রিম কোর্ট প্রাঙ্গনের সামনের অংশে থাকবে, নাকি পেছনে, ঢাকা থাকবে, নাকি উন্মুক্ত থাকবে, সেই প্রশ্ন তুলিনি। এই থেমিস দেবীকে বাংলাদেশ থেকেই উৎখাত করতে হবে। হেফাজত আমীর থেমিস ইস্যুতে অত্যন্ত যৌক্তিক ও বাস্তবমুখী জোরালো বক্তব্য দিয়েছিলেন।

এর আগে আমাদের দেশের রামপন্থীরা শিক্ষা ব্যবস্থা নিয়েও গভীর ষড়যন্ত্রে মেতে ওঠেছিল। কিন্তু মাননীয় প্রধানমন্ত্রী এবং শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের নজরে বিষয়টা নিয়ে এলে স্কুল পাঠ্য-পুস্তকে কিছুটা ইতিবাচক পরিবর্তন আনা হয়। এতে রামপন্থীদের গাত্রদাহ শুরু হয়ে যায়। তারা এ পরিবর্তনকে তাদের জন্যে অপমৃত্যু মনে করে। এখন গ্রিক দেবী থেমিসের মূর্তি নিয়ে প্রধানমন্ত্রীর বক্তব্যে তাদের কাটা ঘায়ে নুনের ছিটা লেগে গেছে। প্রধানমন্ত্রীকেও তারা তীব্র ভাষায় আক্রমণ করছে। গাত্র দাহ হলেতো করার কিছু নেই। এটাই স্বাভাবিক। গাত্র দাহ হবেই। কারণ, পবিত্র কুরআন মুমিনদের জন্যে শিফা ও রহমত আর কাফিরদের জন্যে বেদনা ও যন্ত্রণাদায়ক।

বাংলাদেশে শতকরা প্রায় ৯০ভাগ মানুষ মুসলমান। বাকীরা হিন্দু, খ্রীস্টান, বৌদ্ধ ইত্যাদি। হিন্দু, খ্রীস্টান, বৌদ্ধরা তাদের নিজ নিজ ধর্ম স্বাধীনভাবে পালন করবে, নিজ নিজ ধর্মীয় কালচারে চলবে; এতে মুসলমানদের কারোরই কোনো আপত্তি নেই। কিন্তু মুসলমানদের কোমলমতি ছাত্র-ছাত্রীদের ওপর বিজাতীয় ও পৌত্তলিক সংস্কৃতি কেন চাপিয়ে দেয়া হবে? সুতরাং এ ব্যাপারে আমাদের সবাইকে সজাগ দৃষ্টি রাখতে হবে। আমাদের শিক্ষাঙ্গনগুলোকে রামপন্থীদের কালো থাবা থেকে মুক্ত রাখতে হবে। এ লক্ষ্যে দল মত নির্বিশেষে সব মুসলমানকে আন্দোলনে নামতে হবে। এটা সবার ঈমানী দায়িত্ব। বেশ কয়েক বছর আগে সিলেটের শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে জাহানারা ইমামের ভাস্কর্য স্থাপনের উদ্যোগ নেয় বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ। কিন্তু সিলেটের আলেম ওলামা এবং ধর্মপ্রাণ মুসলমানের প্রবল প্রতিবাদের মুখে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ এ পরিকল্পনা থেকে সরে আসতে বাধ্য হয়। এসবের পেছনে যে বন্ধু প্রতীম (?) রাষ্ট্রের গোয়েন্দা সংস্থা ‘র’ ইন্ধন যোগাচ্ছে, তা নিশ্চিত করেই বলা যায়। আশ্চর্যের বিষয় সুপ্রীম কোর্টের মত স্পর্শকাতর প্রতিষ্ঠানে মূর্তি স্থাপন করা হলো, আর দেশের নির্বাহী প্রধান হয়েও প্রধানমন্ত্রী বিষয়টা জানেন না, এটা নির্বাহী প্রধানের প্রতি অবজ্ঞাই বলা যায়। এতেই বুঝা যায় এই অশুভ শক্তির কতটা বাড় বেড়েছে। আজ যদি আমরা এ ব্যাপারে একেবারে উদাসীন হয়ে যাই, তাদের বিরুদ্ধে দুর্বার আন্দোলন গড়ে তুলতে না পারি, তাহলে অদূর ভবিষ্যতে এদেশ মূর্তির দেশে পরিণত হয়ে যাবে এটা একেবারে নিশ্চিত বলা যায়।

ইসলামের শুভ সূচনা হয়েছিল যে মূর্তি ভাঙ্গার মাধ্যমে, সে মূর্তি আজ শতকরা প্রায় ৯০ ভাগ মুসলিম অধ্যুষিত বাংলাদেশে যত্রতত্র স্থাপন করা হচ্ছে। এর চেয়ে কলঙ্কজনক ঘটনা আর কি হতে পারে? এর পেছনে যে কোনো অশুভ শক্তি, যাদেরই কালো হাত ইন্ধন যোগাক না কেন, তাদের সমস্ত ষড়যন্ত্রকে বিকল করতে হবে। বাতিল যত বড় শক্তিধর হোক না কেন সে হক্বের মুকাবেলায় সর্বদা পরাজিত।

আল্লাহ তাআলা ইরশাদ করেন- ‘সত্যি আগমন করল এবং মিথ্যে পলায়ন করল, মিথ্যে চিরকালই এভাবে পলায়ন করে থাকে’। (বনি ইসরাঈল- ৮১)।

পরিশেষে সমস্ত স্কুল, কলেজ, ভার্সিটি থেকে সন্ত্রাস এবং রামপন্থী ও বামপন্থীদের ইসলাম ও মুসলিম বিরোধী কার্যকলাপ কঠোর হস্তে দমন করার জন্যে ক্ষমতাসীন সরকার, প্রতিষ্ঠান কর্তৃপক্ষ এবং প্রত্যেক দেশ প্রেমিক ঈমানদারের দৃষ্টি আকর্ষণ করছি। #

লেখকঃ  মাদ্রাসা শিক্ষক, মুফতী, ইসলামী গবেষক ও কলাম লেখক।


Editor: Chowdhury Arif Ahmed
Executive Editor: Saiful Alam
Contact: 14/A, Road No 4, Dhaka, Bangladesh
E-mail: dailydhakatimes@gmail.com
© All Rights Reserved Daily Dhaka Times 2016
এই ওয়েবসাইটের কোন লেখার সম্পূর্ণ বা আংশিক আনুমতি ছাড়া নকল করা বা অন্য কোথাও প্রকাশ করা সম্পূর্ণ বেআইনি