আস্তিকরা বলেন ‘আল্লাহর গযব’

 

।। অধ্যাপক স.ম. আব্দুল মজিদ কাজিপুরী ।।

আমরা কখনো অবচেতন মনে, কখনোও বা অভিজ্ঞতা বশতঃ, আবার অনেক সময় সচেতনভাবে, এমন কি স্বতঃস্ফুর্তভাবেও শিরকের তথা অংশীবাদী গুনাহ্ করে থাকি যা স্পষ্টতই ক্ষমার অযোগ্য। আখিরাতে যে আইন বই থেকে আইনের ধারা উদ্ধৃতি করে আল্লাহ্ তাঁর বান্দাদের বিচার করবেন, সেই আইন গ্রন্থ কুরআনে কারীমে অনেক আগেই আল্লাহ্ তায়ালা সুস্পষ্ট ভাষায় ঘোষণা করেছেন-

নিশ্চয়ই আল্লাহ্ তাঁর সাথে অংশী স্থাপন করলে (অর্থাৎ তাঁর আধিপত্যে অপর কাউকে শরীক সাব্যস্ত করলে) তাকে কখনই ক্ষমা করবেন না। এদেরকে ব্যতীত আর যাকে খুশী ক্ষমা করবেন। (সরা নিসা- ৪৮ ও ১১৬ আয়াত দেখুন)।

যেমন, কোন মহিলা বুকে পেটে জোড়া লাগানো দুই মাথা চার পা বিশিষ্ট সন্তান প্রসব করেছে দেখলে বা শুনলে, কোন গাভীর পাঁচ পা বিশিষ্ট বাচ্চা হয়েছে দেখলে বা শুনলে, কোন পুরুষ দীর্ঘদিন পর মেয়েতে রূপান্তরীত হয়েছে দেখলে বা শুনলে আমাদের অনেকেই বলে থাকেন- প্রকৃতির অদ্ভুত খেয়াল -নাঊযুবিল্লাহ্। মুক্তবুদ্ধির দাবীদার বুদ্ধিজীবী বুদ্ধিবাজ উদ্দীন আহ্মদ ও বেগম খাতুন ভাই ও বোনেরা! বলুন তো, এসব বিকলাঙ্গদের স্রষ্টা কি প্রকৃতি, নাকি আল্লাহ্? আল্লাহ্ যদি সে দিন আপনাকে প্রশ্ন করেন, হে আমার বান্দা! বল দেখি প্রকৃতিকে কে সৃষ্টি করেছে? বলুন, সেদিন তাঁর এ প্রশ্নের কি জবাব দিবেন?

আল্লাহ্ তো মানুষের সকল কথা ও কাজকর্ম লিখে রাখছেন (সরা ইয়াসীন- ১২ আয়াত) এবং প্রত্যেককেই তাদের কথা আর কাজের জন্য জিজ্ঞাসাবাদ করবেন (সরা হুজরাত- ৯২-৯৩, সরা নামল- ৯৩ আয়াত দ্রষ্টব্য)। বস্তুত আল্লাহর কাছে সম্ভব অসম্ভবের প্রশ্ন অবান্তর। তিনি যা-ই ইচ্ছা করেন তা-ই সৃষ্টি করেন (সরা ইয়াসীন- ৮২ আয়াত)।

বিবি মরিয়ম হযরত জিব্রাঈল (আ.)কে বলেছিলেন- কিরূপে আমার সন্তান হবে? কোন মানুষই তো আমাকে স্পর্শ করেনি এবং আমি ব্যাভিচারিণীও নই। হযরত জিব্রাঈল (আ.) বলেছিলেন- এরূপেই হয়, তোমার প্রতিপালক বলেছেন, উহা আমার পক্ষে সহজসাধ্য…। (সরা মরিয়ম- ২০-২১ আয়াত)।

অতপর লক্ষ্য করুন, হযরত যাকারিয়া (আ.) আল্লাহ্কে বলেছিলেন, হে আমার প্রতিপালক! কিরূপে আমার পুত্র হবে। আমি তো বৃদ্ধ হয়েছি আর আমার ¯ীও বন্ধ্যা। আল্লাহ্ বল্লেন, আল্লাহ্ যা-ই ইচ্ছা তা-ই করে থাকেন (সরা ইমরানঃ ৪০ আয়াত দ্রষ্টব্য)।

দেশে যখন জাতীয় পর্যায়ে ব্যাপকভাবে ঘুর্ণীঝড়, ভমিকম্প বা বন্যা দেখা দেয়, তখন উদ্দীন আহ্মদ আর বেগম খাতুনদের কেউ কেউ বলেন- “এ তো আল্লাহরই গযব” আবার তাদের অনেকেই বলেন, “আমরা কি এমন করেছি যে, আল্লাহ্ আমাদের উপর গযব নাযিল করবেন। গযব সে তো অনেক দরবর্তী ইতিহাস। যেমন নহ্ নবী (আ.)এর কওমের উপর দিয়ে প্লাবন বয়ে গিয়েছিল বরং এতো প্রাকৃতিক দুর্যোগ।”

আল্লাহ্-রাসল, কুরআন-হাদীস, কবর-হাশরের ধ্যান-ধারণা থেকে মুক্ত নির্ভয় বুদ্ধিবাজ বুদ্ধিজীবী উদ্দীন আহ্মদ আর বেগম খাতুন ভাই ও বোনেরা! আচ্ছা বলুন তো প্রকৃতি কে? প্রকৃতি কি মানুষের উপর দুর্যোগ হানার বা বিপর্যয় সৃষ্টির ক্ষমতা রাখে? প্রকৃতি কি আপন ক্ষমতায় স্বাধীন, নাকি ক্ষমতাহীন পরাধীন? প্রকৃতি কি নিজে নিজেই সৃষ্টি হয়েছে নাকি কেউ তাকে সৃষ্টি করেছে? যেমন, আল্লাহ্ অবিশ্বাসী বেয়াড়াদেরকে লক্ষ্য করে বলেছেন- তিনিই তো মানুষকে শুক্র বিন্দু থেকে সৃষ্টি করেছেন। তার পরেই না সে প্রকাশ্য বিতর্ককারী সেজেছে। (সরা নাহল- ৪, সরা ইয়াসীন- ৭৭ আয়াত)। তবে কি তারা কোন কিছু ছাড়াই সৃষ্টি হয়েছে, নাকি তারা নিজেরাই নিজেদের সৃষ্টিকর্তা? (সরা তুর-৩৫ আয়াত দ্রষ্টব্য)।

মুক্তবুদ্ধির ভাই ও বোনেরা! আল্লাহ্ই কি “আল্লাহু আহাদ” একমাত্র একক নন? “আল্লাহুস্ সামাদ” আল্লাহ্ কি কারও মুখাপেক্ষী? না, তিনি করোরই মুখাপেক্ষী নন। “লা কুয়্যাতা ইল্লা বিল্লাহ্”- আল্লাহ্ ব্যতীত আর কোনই শক্তি নাই (সরা কাহাফঃ ৩৯ আয়াত)। শুনুন, আল্লাহর আধিপত্যে কোনই অংশী নাই (সরা বনি ইসরাঈলঃ ১১১ আয়াত)। আল্লাহ্ই সর্ববিষয়ের স্রষ্টা। তিনি অদ্বিতীয় মহাপরাক্রান্ত (সরা রা’দ- ১৬ আয়াত)।

এবার দেখুন ও লক্ষ্য করুন- তিনিই আল্লাহ্ যিনি নভোমন্ডল ও ভূ-মন্ডল এবং এতদোভয়ের মধ্যে যা কিছু আছে তা ছয়দিনে সৃষ্টি করেছেন। অতঃপর আর্শোপরি সুপ্রতিষ্ঠিত হয়ে কার্যসমহ নিয়šণ করছেন (সরা সিজদা- ৪, সরা ইউনুস- ৩ আয়াত দ্রষ্টব্য)।

এবার বলুন, প্রকৃতি কি আল্লাহর সৃষ্ট নভোমন্ডল, ভূ-মন্ডল এবং তার মধ্যে যা কিছু আছে তার বহির্ভুত বিষয়? আল্লাহ্ তো তাঁর কার্যসমহের উপর পরাক্রান্ত- ওয়াল্লাহু গালিবুন আলা আমরিহী (সরা ইউসুফ- ১১ আয়াত)।

এখন তাহলে বলুন- প্রকৃতি কি আল্লাহর সার্বভৌমত্বের ঊর্ধ্বে তাঁরই বান্দাদের উপর আঘাত হানতে বা বিপর্যয় সৃষ্টি করতে পারে? আরও লক্ষ্য করুন- তোমরা কি লক্ষ্য করছ না- আল্লাহ্ই মেঘমালা পরিচালনা করেন, অতঃপর সেসবকে একত্রিত করেন, স্তুপীকৃত করেন, অতঃপর তা থেকে বৃষ্টিধারা বর্ষণ করেন। তিনিই আকাশ হতে পর্বতসমহ হতে বৃষ্টিধারা অবতারণ করেন, তন্মধ্যে শিলারাশিও রয়েছে। তিনি যাকে উচিত মনে করেন তার প্রতি নিক্ষেপ করেন, যাকে খুশী তা থেকে রক্ষা করেন। বিদ্যুŽছটা দিয়ে দৃষ্টিকে অপহরণ করেন এবং তিনিই দিন ও রাত্রি বিবর্তন করেন। নিশ্চয় এতে চক্ষুষ্মানের জন্য বিশেষ শিক্ষা রয়েছে (সরা নর- ৪৩-৪৪ আয়াত)।

এবং আকাশ হতে পানি বর্ষণ করি। তারপর আমি উহাকে ভূতলে স্থির রাখি এবং নিশ্চয় আমি ঐ পানিকে অপসারণ করতেও শক্তিমান। (সরা মু’মিনুন- ১৮ আয়াত)।

এ ব্যাপারে আল্লাহ্ তায়ালা অহংকারী বান্দাদের প্রতি চ্যালেঞ্জ ঘোষণা করেছেন, তিনিই স্তম্ভবিহীন আকাশ সৃষ্টি করেছেন, যা তোমরা দেখছ, তিনি পৃথিবীতে পর্বতমালা সংস্থাপিত করেছেন যেন তোমাদেরকে নিয়ে পৃথিবী আলোড়িত না হয়…. অতএব তোমরা আমাকে দেখাও যে তিনি ব্যতীত কে কি সৃষ্টি করেছেন বরং অবিশ্বাসী অত্যাচারীরা প্রকাশ্য ভ্রান্তির মধ্যেই রয়েছে। (সরা লোকমান- ১০-১১ আয়াত দ্রষ্টব্য)।

মুক্তবুদ্ধির দাবীদারবৃন্দ! এর পরেও কি আপনারা বলবেন-  দেশজুড়ে এবারের বন্যা আল্লাহর গযব নয় বরং প্রাকৃতিক দুর্যোগ?

“গযব” ওহীর ভাষা, কুরআনের শব্দ মানে- ক্রোধ। আল্লাহর ক্রোধের প্রকাশ ঘটে শাস্তিতে। এ শাস্তি বড়ও হতে পারে, ছোটও হতে পারে। সংক্ষিপ্তও হতে পারে, আবার ব্যাপক এবং ব্যাপক হতে ব্যাপকতরও হতে পারে। যেমন আল্লাহ্ প্লাবন দিয়ে হযরত নহ (আ.)এর কওমকে ধ্বংস করেছিলেন। (সরা মু’মিনুন- ২৭-২৮)।

দুর্ভিক্ষ মহামারী ও ফল-শস্য হানী দিয়ে ফিরাউনের কওমকে ধ্বংস করেছিলেন। (সরা আরাফ- ১৩০)।

হযরত শোয়েব (আ.)এর কওমকে ভমিকম্প দিয়ে ধ্বংস করেছিলেন। (সরা আনকাবুত- ৩৭)।

হযরত লুত (আ.)এর কওমকে আকাশে তুলে উল্টে দিয়ে ধ্বংস করেছিলেন। (সরা হদ- ৮২)।

আ’দ জাতিকে শিলা বর্ষণ করে, সামদ জাতিকে বজ্রধ্বনীতে, কারুণকে মাটিতে ধ্বসিয়ে দিয়ে ধ্বংস করেছিলেন। (সরা আনকাবুত- ৪০)।

বস্তুতঃ আল্লাহর গযবের দ্বারা তাঁর কিছু মহান উদ্দেশ্য কার্যকর করেন। যথা-

(এক) আশরাফুল মাখলুকাত মানুষ যখন সৃষ্টির জন্য ক্ষতিকর হয়ে দাঁড়ায়। যখন তারা আল্লাহ্ ও রসলের আদেশ-নিষেধের সীমা ছাড়িয়ে সুদরে বিভ্রান্ত হয়ে বিরুদ্ধাচরণে লিপ্ত হয়, তখন তাদেরকে গোষ্ঠীশুদ্ধ সমলে ধ্বংস করে নতুন এক প্রজন্মকে এনে পৃথিবীতে শান্তি প্রতিষ্ঠা করা, যেমন তিনি উপরোল্লিখিত কওমগুলোকে ধ্বংস করেছিলেন।

(দুই) আর মানুষের মধ্যে যারা আল্লাহ্ ও রাসলের আদেশ নিষেধের সীমায় এপার ওপার দোদুল্যমান অবস্থায় জীবন যাপন করে, তাদের মধ্যে ঈমানের ব্যাপারে বোধোদয় ঘটানোর জন্য, তাদেরকে হুদদাল্লাহ (আল্লাহর নির্ধারিত সীমানার) মধ্যে ফিরে আসতে উৎসাহিত ও উদ্বুদ্ধ করার জন্য, তাদেরকে সংক্ষিপ্ত শাস্তি অর্থাৎ গযব দ্বারা ধৃত করেন। যেমন দেখুন- ইরশাদ হচ্ছে-

স্থলভাগ ও জলভাগে বিপর্যয়ের সৃষ্টি হয়েছে, লোকদের নিজেদের কৃতকর্মের দরুন যাতে আল্লাহ্ তাদেরকে তাদের কৃতকর্মের কিছু স্বাদ আস্বাদন করাতে পারেন, এতে হয়ত তারা (আল্লাহর পথে) ফিরে আসবে। (সরা রূম- ৪১)।

বস্তুতঃ আল্লহ্ ও তদীয় রাসল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম মানবকে যেসব আদেশ এবং যেসব নিষেধ করেছেন, মানব সমাজে যখন এসব আদেশ এবং নিষেধের সীমার লংঘন ঘটেছে, আল্লাহ্ তায়ালা তখন অসন্তুষ্ট হয়েছেন।

মানবগণ যখন তাঁর আদেশ নিষেধের সীমা লংঘন করে সীমানা থকে দরবর্তী হতে শুরু করেছে, আল্লাহ্ তায়ালা অসন্তুষ্টি তখন রাগে পরিণত হয়েছে। অতঃপর মানবগণ যখন আল্লাহর আদেশ-নিষেধের সীমানা (হুদদাল্লাহ্) অতিক্রম করে সুদরে বিরুদ্ধাচরণে লিপ্ত হয়েছে, তখনই আল্লাহ্ তায়ালার রাগ ক্রোধে পরিণত হয়েছে।

প্রিয় পাঠক-পাঠিকাবৃন্দ! দোহাই আল্লাহর, কুরআন হাদীসের আলোকে পারিবারিক ও জাতীয় পর্যায়ে আমাদের বিশেষতঃ নারীদের চলাফেরা, কথাবার্তা, কাজকর্ম এবং মুসলমানের মূর্তি প্রেম মিলিয়েই দেখুন এবং বলুন- আমাদের উপর আল্লাহর গযব আপতিত হওয়ার জন্য সংগত কারণ সৃষ্টি হয়েছে কিনা?

যে দেশে ধর্ষিতা হওয়া থেকে শিশুও রেহাই পাচ্ছে না, সে দেশের উপর আল্লাহর গযব নিপতিত হওয়া মোটেও অস্বাভাবিক কিছু নয়। আবার বিভিন্ন পত্র-পত্রিকার ক্যাসেট থেকে মুক্ত বুদ্ধিজীবী বুদ্ধিবাজদের কণ্ঠে জাহেলীয়া যুগীয় সর শোনা যাচ্ছে। তারা দেশে নারী ধর্ষণ রোধ কল্পে পতিতালয়ের অনুমোদন দেয়ার প্রস্তাব করছে। প্রস্তাবটা যেন ঠিক এমনই, চুরি-ডাকাতি যাতে আর না হয়, সেজন্য প্রত্যেকের মালামাল ঢেকে ঘিরে বন্ধ করে না রেখে খুলেই রাখা হোক। সুতরাং এসব গযব নিঃসন্দেহেই আমাদের অপকর্মেরই ফল।

দেখুন, ইরশাদ হচ্ছে- (হে রাসুল!) তুমি বল, সমস্তই আল্লাহর নিকট থেকেই হয়। অতএব তোমাদের কি হয়েছে যে, তোমরা কোন কথা বুঝবার নিকটবর্তী হওনা। তোমাদের প্রতি যে কল্যাণ আসে তা তো আল্লাহরই সন্নিধাম হতে। আর তোমাদের উপর যে অমঙ্গল নিপতিত হয় তা তোমাদের নিজ হতেই। অর্থাৎ- তোমাদের নিজ কর্মের কারণেই হয়ে থাকে। (সরা নিসা- ৭৮-৭৯)।

আমাদের সৌভাগ্য যে, আমরা আখেরী নবী মুহাম্মদ মুস্তফা সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের উম্মত। আল্লাহর অনুগ্রহ স্বরূপ তাঁর প্রেরিত সর্বশেষ নবী মুহাম্মাদুর রাসলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ও ক্ষমা প্রার্থনাকারী। বিশ্বাসী, মুসলমানদের উপস্থিতির কারণে আংশীক ব্যতীত পর্ববর্তী নবীদের কওম সমলে বিধ্বংসকারী আল্লাহর গযব বা শাস্তি আখেরী নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের উম্মতের উপর আর প্রেরিত হবে না।

ইরশাদ হচ্ছে, “আল্লাহ্ তাদেরকে শাস্তি দিবেন না যেহেতু তুমি (হে মুহাম্মদ) তাদের মধ্যে রয়েছ এবং আল্লাহ্ তাদেরকেও শাস্তি দিবেন না যেহেতু তারা ক্ষমা প্রার্থনা করছে”। (সরা আনফাল- ৩৩)।

মুক্তবুদ্ধির দাবীদার বুদ্ধিজীবী উদ্দীন আহ্মদ আর বেগম খাতুন ভাই ও বোনেরা!  এর পরেও কি তবে আপনারা তেমনই বলবেন, এবারের বন্যা, ভূমিধ্বস আল্লাহর গযব নয়, প্রাকৃতিক দুর্যোগ? যেমন মক্কার অবিশ্বাসীগণ বলেছিল- এই পার্থিব জীবন ছাড়া আর কোন জীবন তো আমাদের নাই, এখানেই আমরা মরি বাঁচি। আমাদের মৃত্যু ঘটে প্রকৃতির (কালের) নিয়মে (বিবর্তনে) অথচ এজন্য তাদের কাছে কোন তথ্য প্রমাণই নাই, শুধু তারা কল্পনাই করে যাচ্ছে। (সরা জাসিয়া- ২৪)।

ঠিক আছে, আমরা যে যা নিয়ে ভাবছি, তা-ই নিয়ে অপেক্ষা করি (সরা ইউনুস- ২০, ত্বাহা- ১৩৫, হুদ-৯৩)। এই তো আর মাত্র ক’দিন পরই আল্লাহর হুকুমে আমরা যার যার আপন জনদের হাতে কবরস্থ হব। এই অজানা অন্ধকারে আমরা তো অনেকেই বুদ্ধিজীবী। তবে কেউ বা আল্লাহর অনুগত, আর কেউ বা আল্লাহর আনুগত্য থেকে মুক্ত বুদ্ধিজীবী।

খালি হাতে এখানে আস্ফালন করা কি আদৌ বুদ্ধিমানের কাজ? এর পর আল্লাহর হুকুমে আমরা সবাই যখন কবর থেকে উঠে আল্লাহর আদালত প্রাঙ্গনে সমবেত হব, (সরা নাবা- ১৮) তখন তো আমরা পরস্পরকে চাক্ষুস দেখব, চিনব আল্লাহ্ ও রাসল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের কথা বলতে গিয়ে দুনিয়াতে যারা ফতোয়াবাজ বলে বিদ্রুপ ও তাচ্ছিল্যের শিকার হয়েছিল, তারা বিদ্রুপকারীদেরকে চিনবে এবং তাদের পাল্টা বিদ্রুপ করার অধিকার পাবে (সরা তাতফীফ- ২৯-৩৪ আয়াত দ্রষ্টব্য)। এবং ইনশাআল্লাহ্ জানতে পারব যে, আমরা উভয়ে যা নিয়ে গিয়েছি তাতে আমরা কে ঠিক পথে ছিলাম আর কে বিভ্রান্তিতে ছিলাম। কেননা আল্লাহ্ বলেই দিয়েছেন- তোমরা যে সব বিষয়ে বিরোধ করছ, আল্লাহ্ অবশ্যই উত্থান দিবসে তাঁর মল তত্ত্ব প্রকাশ করে দিবেন। (সরা নাহল- ৯২ আয়াত)। #


Editor: Chowdhury Arif Ahmed
Executive Editor: Saiful Alam
Contact: 14/A, Road No 4, Dhaka, Bangladesh
E-mail: dailydhakatimes@gmail.com
© All Rights Reserved Daily Dhaka Times 2016
এই ওয়েবসাইটের কোন লেখার সম্পূর্ণ বা আংশিক আনুমতি ছাড়া নকল করা বা অন্য কোথাও প্রকাশ করা সম্পূর্ণ বেআইনি