জিজ্ঞাসা-সমাধান, পরিচালনায়- ফতোয়া বিভাগ, হাটহাজারী মাদ্রাসা।

ইসলামী আইন ও গবেষণা বিভাগ, জামিয়া আহলিয়া দারুল উলূম হাটহাজারী।

জিজ্ঞাসা-সমাধান, পরিচালনায়- ফতোয়া বিভাগ, আল-জামিয়াতুল আহলিয়া দারুল উলূম মুঈনুল ইসলাম, হাটহাজারী, চট্টগ্রাম।

ব্যভিচারিণীকে ত্যাজ্য ও সমাজচ্যুত করা প্রসঙ্গে

(৭৯৫৭) মুসাম্মৎ জাবেদা বেগম, গলাচিপা, পটুয়াখালী।

জিজ্ঞাসাঃ আমাদের এলাকার একজন পরিচিত মহিলা নিম্নোক্ত প্রশ্নের উত্তর আপনাদের থেকে জানার জন্য আমাকে অনুরোধ করেন। প্রশ্নটি হল, উক্ত মহিলার এক মেয়ে স্বামী বর্তমান থাকা সত্ত্বেও অত্যন্ত জঘন্য একটি কাজ করে ফেলে। সে ব্যভিচারে লিপ্ত হয়, যা অকাট্যভাবে প্রমাণিত হয়েছে। এখন প্রশ্ন হল, উক্ত ব্যভিচারিণীকে তার পিতার সমস্ত সম্পত্তি থেকে বঞ্চিত বা ত্যাজ্য করা শরীয়তের দৃষ্টিতে কেমন? এবং উক্ত ব্যভিচারিণীর সাথে তার আত্মীয়স্বজনরা সমস্ত সম্পর্কচ্ছেদ করেছে। এটা ইসলামের দৃষ্টিতে কেমন হয়েছে?

সমাধানঃ (ক) শরীয়তের নির্ভরযোগ্য কিতাবাদি অধ্যয়নে একথা প্রমাণিত হয় যে, বিবাহিত ব্যাভিচারের শরয়ী শাস্তি হল, পাথর নিক্ষেপে মৃত্যুদন্ড কার্যকর করা। আর যদি দু’জনই বিবাহিত হয়, তাহলে দুজনেরই শাস্তি হল, পাথর নিক্ষেপে মৃত্যুদন্ড। যাতে সে তার কুকর্মের উপযুক্ত ফলাফল ভোগ করতে পারে।

মনে রাখতে হবে, এ শাস্তি কেবল ইসলামী রাষ্ট্রেই দেওয়া যাবে এবং সে দেশের শরীয়া সরকার ইসলামী আইন অনুসারে সেটা প্রয়োগ করবে। ব্যক্তি পর্যায়ের কেউ নয়। ব্যভিচারী বা ব্যভিচারিণীর ব্যপারে এই শাস্তিই ইসলাম সমর্থন করে এবং বলে থাকে। এছাড়া অন্য কোনো শাস্তি যেমন উত্তরাধিকার সম্পত্তি থেকে বঞ্চিত করা বা সম্পর্কচ্ছেদ করা বা দেশান্তরিত করা ইত্যাদি কোনোভাবেই সমর্থন করে না। এর দ্বারা তার কোনো সংশোধন তো হয়ই না, বরং তাকে আরো উগ্রতার দিকে ঠেলে দেওয়া হয়। আমাদের দেশে যেহেতু ইসলামী শরীয়া মোতাবেক বিচারকার্য পরিচালনা হয় না, তাই এখন ব্যাভিচারী পুরুষ ও নারীর উপর আবশ্যকীয় কর্তব্য হলো, তারা নিজের গুনাহের জন্য অনুতপ্ত হয়ে ভবিষ্যতে আর এমন কর্মে না জড়ানোর দৃঢ় সংকল্প করে খাঁটি মনে মহান আল্লাহ তাআলার দরবাবে তাওবা করতে হবে। সাথে সাথে এ বিশ্বাস রাখতে হবে যে, অবশ্যই আল্লাহ তাআলা মাফ করে দিবেন।

মহান আল্লাহ তাআলা ইরশাদ করেন, “অবশ্যই আল্লাহ তাদের তাওবা কবুল করেন, যারা ভুলবশতঃ মন্দ কাজ করে, অতঃপর অনতিবিলম্বে তাওবা করে। এরাই হল সেই সব লোক, যাদেরকে আল্লাহ ক্ষমা করে দেন। আর আল্লাহ সর্বজ্ঞাত ও প্রজ্ঞাবান”। (সূরা নিসা- ১৭ আয়াত)।

অন্য আয়াতে আল্লাহ তাআলা আরো ইরশাদ করেন, “তবে যারা তাওবা করে ও বিশ্বাস স্থাপন করে এবং সৎকর্ম করে, আল্লাহ তাদের গোনাহকে পুণ্য দ্বারা পরিবর্তিত করে দিবেন। আল্লাহ ক্ষমাশীল ও পরম দয়ালু”। (সূরা ফুরক্বান- ৭০)।

আল্লাহ তাআলা আরো ইরশাদ করেন, “যে কেউ কোনো খারাপ কাজ করল অথবা নিজের উপর জুলুম করল, অতঃপর আল্লাহর কাছে ক্ষমা চাইল, তো সে আল্লাহকে অত্যন্ত ক্ষমাশীল ও পরম দয়ালু পাবে”। (সূরা নিসা- ১১০ আয়াত)।

হাদীস শরীফে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইরশাদ করেন, গুনাহ থেকে তাওবাকারী ঐ ব্যক্তির ন্যায়, যার কোনো গুনাহ নেই। (ইবনে মাজাহ)।

অন্য হাদীসে এসেছে, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইরশাদ করেছেন, যে ব্যক্তি দয়া করে না, তার উপরও দয়া করা হয় না।

এখন ঐ ব্যাভিচারিনী মহিলার আত্মীয় স্বজন পাড়া প্রতিবেশীর উপর কর্তব্য হল, ইসলামী শরীয়তের গন্ডির ভিতরে থেকে তাকে পরিপূর্ণ তাওবার প্রতি মনোনিবেশ করানো। আর তাওবা যত দিন সে না করবে, ততদিন সংশোধনের উদ্দেশ্যে সামাজিক কর্মকান্ডে তার সাথে বিরত থাকা যাবে। (সূরা নিসা- ১৭ ও ১১০, সূরা ফুরক্বান- ৭০, বুখারী শরীফ, হাদীস নং- ৫৭৭৯, আদ্দুররুল মুখতার- ১০/৫০৩)।

মসজিদ সংস্কার প্রসঙ্গে

(৭৯৫৮) মুহাম্মদ জাহিদুল ইসলাম, করেরহাট, জোরারগঞ্জ, চট্টগ্রাম।

জিজ্ঞাসাঃ আমাদের গ্রামের পুরাতন মসজিদ দুর্বল হওয়ার কারণে পুরাতন মসজিদের পশ্চিম পার্শ্বে একটি নতুন মসজিদ নির্মাণ করা হয় এবং নতুন মসজিদের গেট পুরাতন মসজিদের মেহরাব বরাবর হওয়াতে পুরাতন মসজিদ ভেঙ্গে নতুন মসজিদের প্রবেশ পথ করে পুরাতন মসজিদের জায়গাকে মাঠ হিসাবে ব্যবহার করা হয়। উল্লেখ্য নতুন মসজিদে প্রবেশের জন্য পুরাতন মসজিদ ভাঙ্গা ছাড়া কোনো উপায়ও ছিল না। এখন জানার বিষয় হল, পুরাতন মসজিদটি প্রবেশ পথ ও মাঠ হিসেবে ব্যবহার করা জায়েয হবে কি-না? বিস্তারিত দলীল সহকারে জানালে উপকৃত হব।

সমাধানঃ প্রশ্নোক্ত বর্ণনা অনুসারে উক্ত জমি কেবল মসজিদের কাজে ব্যবহার করা যাবে; তথা আযান দেওয়া, নামায পড়া ইত্যাদি। তবে শর্ত হচ্ছে যে, সেখানে মসজিদের বেহুরমতীমূলক (অবমাননাকর) কোন কাজ করা যাবে না। কেননা যে জায়গায় মসজিদ নির্মাণ করা হয়, তা ক্বিয়ামত পর্যন্ত মসজিদেরই হুকুমে থাকবে। আর জায়গাটিকে মসজিদের কাজ ব্যতীত অন্য কাজে ব্যবহার করা যাবে না এবং সুরক্ষা ও আদব-সম্মান বজায় রাখার জন্য দেওয়াল ইত্যদি দ্বারা বেষ্টন দেওয়া আবশ্যক।

উল্লেখ্য, উক্ত জায়গা ব্যতীত মসজিদে যাওয়া আসার জন্য যদি ভিন্ন কোন জায়গা না থাকে, তাহলে একেবারেই অপারগ অবস্থায় মসজিদে প্রবেশ করার জন্য যতটুকু জায়গা লাগবে তা ব্যবহার করবে। তবে লক্ষণীয় বিষয় হল, উক্ত জায়গাটির সম্মান বজায় রেখে মসজিদে যাওয়া-আসা করবে এবং মসজিদ হিসেবে যাওয়া আসা করবে, এবং মসজিদের অবমাননা বুঝায় এমনভাবে সেখানে জুতা রাখতে পারবে না। (সূরা জ্বীন- ১৮, আদ্দুররুল মুখতার মাআ রদ্দুল মুহতার- ৪/৩৫৮, ফাতাওয়ায়ে হিন্দিয়া- ১/৪১০, আল-আশবাহ ওয়ান-নাযায়ের- ১/১৪০, কিফায়াতুল মুফতী- ৭/২৭, ফাতাওয়ায়ে মাহমুদিয়া- ২১/২৯৮)।

মীলাদ প্রসঙ্গে

(৭৯৫৯) মুহাম্মদ নূরুন্নবী, লক্ষ্মীপুর।

জিজ্ঞাসাঃ পবিত্র কুরআনে সূরা আহজাবের ৫৬ নং আয়াতে আল্লাহ তাআলা বলেছেন, আমি নবীর উপর দরূদ পড়ি আমার ফেরেশতাগণও নবীর প্রতি দরূদ পড়েন। হে মুমিনগণ! তোমরাও আমার নবীর প্রতি দরূদ পড়।

আমাদরে সমাজের বেশ কিছু আলেম আছেন, তারা জানেন মীলাদ কিয়াম এর জন্ম ইতিহাস নবীর তরীকাভুক্ত কাজ নয়। এটা জানার পরও অর্থলোভী আলেম উলামারা পবিত্র কুরআন ও সহীহ হাদীসের জ্ঞান যাদের নাই ঐ সমস্ত মানুষকে বিপথগামী করে যাচ্ছে। মানুষ যখন কোনো একটা সৎ কাজ করার নিয়ত করে, তখন ঐ ভন্ড আলেমরা বলেন, সর্বপ্রথম তোমাকে মীলাদ পড়াতে হবে। তাহলে তুমি পুরো সাওয়াবের মালিক হবে। তোমার আর কোনো বালা-মুসিবত আসবে না।

আমি আপনার কাছে জানতে চাই যে, যেসব আলেম উলামা মীলাদ পড়ান, আর যে ব্যক্তি মীলাদ পড়ায়, উভয়ে কি গুনাহগার হবেন? নাকি যে মীলাদ পড়ার আয়োজন করেন সেই গুনাহগার হবেন? সমাধান দিয়ে উপকার করবেন।

সমাধানঃ যেসব আমল নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম, সাহাবায়ে কেরাম এবং তাবেয়ীন ও তাবে-তাবেয়ীনের যুগে দ্বীন হিসেবে ছিল না, সেসব আমলকে ফযীলতের বিষয় কিংবা দ্বীন মনে করা এবং সাওয়াবের নিয়তে সে অনুযায়ী আমল করা বিদআত ও হারাম, যা অবশ্যই পরিত্যাজ্য। যেহতু উল্লিখিত তিন যুগে প্রচলিত মীলাদ কিয়ামের অস্তিত্বই খুঁজে পাওয়া যায় না, তাই তা বিদআত ও গর্হিত কাজ।

সুতরাং কোন ভন্ড আলেম (!) যদি বিভিন্ন মিথ্যা ও অবান্তর ফযীলত বলে মানুষকে মীলাদ কিয়ামের প্রতি উদ্বুদ্ধ করে, তাহলে এরূপ নামধারী আলেমের কথা না শোনা ওয়াজিব। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইরশাদ করেন, ¯স্রষ্টার নাফরমানীতে কোনো মানুষের আনুগত্য করা যাবে না। অতএব, যারা মীলাদ কিয়াম করতে বলে এবং যারা তাদের ডাকে সাড়া দেয় ও নিজের বাড়িতে নিয়ে মীলাদ পড়ায়, তারা উভয়েই গুনাহগার হবেন। উভয়ের ব্যাপারেই হাদীসে ভয়ানক ধমকি এসেছে।

রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইরশাদ করেন, যে ব্যক্তি (দ্বীনের মধ্যে) কোনো নতুন জিনিস আবিষ্কার করে, অথবা কোনো বিদআতকে আশ্রয় দেয়, তার উপর আল্লাহর লানত এবং ফেরেশতা ও সমস্ত মানুষের লানত। কিয়ামতের দিন তার কোনো ফরয এবং নফল আমল কবুল করা হবে না। (সহীহ বুখারী- ২/১০৮৪ পৃষ্ঠা)।

আরেক হাদীসে আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইরশাদ করেন, যে ব্যক্তি কোনো বিদআতকে সম্মান করলো, তাহলে সে ইসলামকে ধ্বংস করার জন্য সাহায্য করলো। (মিশকাত- ৩১, সহীহ মুসলিম- ২/৭৭, সহীহ বুখারী- ২/১০৮৪, আল-ই’তিসাম- ৫২, ফয়যুল কালাম- ১০১)।

গযল, কবিতা ও ইসলামী সঙ্গীত

(৭৯৬০) নাম ঠিকানা বিহীন।

জিজ্ঞাসাঃ (ক) আমার প্রশ্ন হচ্ছে যে, ইসলামী গযল গাওয়া এবং ভিডিও করে তা প্রচার করা শরীয়তে জায়েয আছে কি-না?

ইসলামের কোনো ইতিহাসকে অভিনয় করে মানুষকে বুঝানোর জন্য ইসলামী নাটক তৈরি করা এবং তার ভিডিও চিত্র প্রচার করা জায়েয আছে কি?

(খ) মুখে বা অভিনয় করে মানুষকে আনন্দ দেওয়ার জন্য বা হাসানোর জন্য কৌতুক করা বা ভিডিও করে প্রচার করা জায়েয আছে কি?

মানুষ বিভিন্ন অনুষ্ঠানে গান-বাজনা এবং বিভিন্ন খারাপ নাটক এবং কৌতুক করে। বিয়ের অনুষ্ঠানে মিলনায়তনে বিভিন্ন জায়গায় এগুলো না করে, ইসলামী গান-গজল এবং কৌতুক এবং ইসলামী নাটক করা জায়েয আছে?

ইসলামি নাটকের অভিনয় করার জন্য বিভিন্ন পোশাক পরা, যেমন পুরুষ মহিলার কাপড় পড়া জায়েয আছে?

সমাধানঃ গযল গাওয়ার জন্য শর্ত হল, যদি তা তবলা সারিন্দা এবং বাদ্যযন্ত্রহীন ও পুরুষদের মজলিসে নারী কণ্ঠে না হয় এবং তার বিষয়বস্তু অশ্লীল না হয়, তাহলে তা জায়েয। তবে গজলকে ভিডিও করে সম্প্রচার করা নাজায়েয।

ইসলামের ইতিহাসকে নাটক সাজিয়ে অভিনয় জায়েয নয়। তা ঠাট্টা-বিদ্রুপ করার নামন্তর এবং ভিডিও করাও নাজায়েয।

বায়হাকী শরীফে উল্লেখ আছে, নবী কারীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইরশাদ করেন, যে ব্যক্তি মানুষকে হাসানোর উদ্দেশ্যে কোনো কথা বলে, এ কারণে সে ব্যক্তি আসমান জমিনের দুরুত্বের চেয়েও দূরে নিক্ষিপ্ত হয়। অর্থাৎ সে ব্যক্তি জাহান্নামের কিনারায় পৌঁছে যায়। এবং আল্লাহর রহমত হতেও আসমান জমিনের দুরুত্ব সমপরিমান দূরে সরে যায়।

উল্লেখ্য, শরীয়তের আলোকে গান গাওয়ার কোনো অবকাশ নেই। তা সর্বদা হারাম ও নাজায়েয, যে স্থানেই হোক না কেন। বহু হাদীসে কঠোরভাবে নিষেধ করা হয়েছে। ইসলামের দৃষ্টিকোণে নাটক করা নাজায়েয ও হারাম। যে প্রকার নাটক হোক না কেন। তবে উপরে বর্ণিত শর্ত সাপেক্ষে ইসলামী হামদ-নাত ও গযল গাওয়ার অবকাশ রয়েছে।

আনন্দ-ফূর্তির জন্য নারীর পোশাক পুরুষকে আর পুরুষের পোশাক নারীকে পরানো হারাম ও নাজায়েয। (সূরা তাওবা- ৮২, সূরা লোকমান- ৬, সূরা মুমিন- ৩, বুখারী শরীফ- ২/৮৮০ ও ২/৮৭৪, সূরা শূরা- ২২৪, মিশকাতুল মাসাবীহ- ২/৪০৯, সুনানে তিরমিযী- ২/৮৩, মুসনাদে আহমদ ইবনে হাম্বল- ১৭/৪৩১, মাআরিফুল কুরআন- ৬/৫৫৪, আহসানুল ফাতাওয়া- ৯/৮৯)।

বাইয়ে সলম প্রসঙ্গে

(৭৯৬১) মুসাম্মৎ মাহমুদা আক্তার, বাগবাড়ী, ফুলছড়ি, গাইবান্ধা।

জিজ্ঞাসাঃ আমাদের এলাকায় আশ্বিন কার্তিক মাসে মানুষের অভাব-অনটন দেখা দেয়। তখন অভাবী মানুষ ধনী লোকের নিকট থেকে এই শর্তে টাকা ধার নেয় যে, এখন ১,০০০ (এক হাজার) টাকা দিবো, ১/২ মাস পরে সেই ১,০০০ (এক হাজার) টাকার বিনিময়ে ২ মণ ধান দিতে হবে। চুক্তি আদায়ের সময় টাকার মালিক কখনো ধান না নিয়ে তৎকালীন বাজার দর হিসাবে ২ মণ ধানের মূল্য ঋণগ্রহীতার কাছ থেকে নিয়ে নেয়। অনেক মানুষ এ ধরণের লেন-দেনকে সুদের কারবার বলে থাকেন। কারণ হল, এর মাঝে ঋণদাতার লাভ হয়ে থাকে। মাননীয় মুফতী সাহেবের নিকট জানার বিষয় হল, উল্লিখিত লেন-দেন সম্পর্কিত বিষয়টি কুরআন-হাদিসের মাধ্যমে সমাধান দিলে আমরা খুশি হব।

সমাধানঃ কুরআন-হাদীস ও ফিক্বাহ শাস্ত্রের গ্রন্থাদি অধ্যয়নে জানা যায় যে, চুক্তির মাধ্যমে আগে মূল্য পরিশোধ পরে বিক্রিত দ্রব্য আদায় করলে জায়েয হবে। এটাকে বাইয়ে সলম বলে। তবে কিছু শর্ত সাপেক্ষে। প্রশ্নে বর্ণিত লেন-দেনে পরিপূর্ণ শর্ত উল্লেখ না থাকায় জায়েয হয়নি। নিচে সঠিক পদ্ধতি নিয়ে আলোচনা করা হল।

(১) চুক্তি সম্পাদন করার সময় উভয় পক্ষ এক বৈঠকে হাজির থাকতে হবে। (২) দ্রব্যের ধরণ নির্ধারণ করতে হবে। যেমন, ধান না গম। (৩) ফসলের মান নির্ণয় করতে হবে। যেমন- উৎকৃষ্ট ফসল দিবে, নাকি মধ্যম বা নিম্নমানের। (৪) ওজনের ধরণ নির্ধারণ করতে হবে। অর্থাৎ কেজি বা সেরের মাপ। (৫) মেয়াদ ও তারিখ ঠিক করতে হবে, নতুবা সহীহ হবে না এবং এত তারিখে দিতে হবে। (৬) মূল্য নির্ধারণ করবে। যেমন- ১,০০০ (এক হাজার) টাকার বিনিময়ে কত মণ ধান বা চাল। (৭) স্থান নির্ধারণ করতে হবে। যেমন, অমুক জায়গায় পণ্যদ্রব্য দেওয়া হবে।

প্রশ্নে বর্ণিত পদ্ধতিতে শুরুতে শর্ত করা ধান না নিয়ে সরাসরি টাকা নেওয়া জায়েয হয়নি। তবে প্রথমে ধান ঋণদাতার মালিকানায় নেওয়ার পর যদি সেই ঋণগ্রহীতার কাছে পুনরায় বিক্রি করে টাকা নেয়, তাহলে জায়েয হবে। কারণ হল, এখন নতুন সূত্রের বেচা কেনা হচ্ছে। এই ধরণের বেচা কেনাকে সুদ বলা ঠিক হবে না। (সূরা বাক্বারা- ২৮২, সুনানে তিরমিযী- ১/২৪৫, হিদায়া মাআ দারায়া- ৩/৭৯)।

পাত্রী দেখা প্রসঙ্গে

(৭৯৬২) মুহাম্মদ আব্দুল আলীম, বাগবাড়ী, ফুলছড়ি, গাইবান্ধা।

জিজ্ঞাসাঃ বিয়ে সংক্রান্ত বিষয়ে আমাদের এলাকার নিয়ম হল, বিয়ের পূর্বে ছেলের বাবা, ভাই, চাচা, দুলাভাই প্রমুখ পাত্রীকে দেখে থাকেন। ছেলে শুধু বিয়ে ঠিক হওয়ার পর মেয়েকে দেখেন। অনেকেই পিতা-মাতা, ভাই, চাচার দেখার উপর নির্ভর করে বিয়ে করে থাকেন। যদি কোনো ছেলে উল্লিখিত অভিভাবকগণের পূর্বে কোনো পাত্রীকে দেখে, তখন সেই ছেলের উপর অভিভাবকগণ নারায হন এবং ছেলেকে অবাধ্য মনে করেন। মাননীয় মুফতি সাহেবের নিকট জানার বিষয় হল, এমনভাবে পাত্রের বাবা চাচা ভাই প্রমুখ বিয়ের পূর্বে পাত্রীকে দেখা জায়েয হবে কি? শরীয়তের আলোকে পাত্রী দেখার নিয়ম জানতে চাই।

সমাধানঃ কুরআন-হাদীস ও ফিক্বাহশাস্ত্র অধ্যয়নে জানা যায় যে, প্রশ্নে বর্ণিত পন্থায় পাত্রীকে দেখা কারও জন্য জায়েয নয়। কারণ হল, প্রত্যেক ব্যক্তি ঐ পাত্রীর জন্য গাইরে মাহরাম, অর্থাৎ- তাদের প্রত্যেকের সঙ্গে বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ হতে পারবে। তাই সবার জন্য পর্দা করা ফরয। যখন বিয়ে হবে তখন পিতার জন্য দেখা করা জায়েয হবে। কিন্তু বিয়ের পূর্বে নয়। এমনকি ছেলের আগে পিতা সেই পাত্রীকে বিয়ে করতে পারবে। কিন্তু পুত্রবধূ হওয়ার পরে নয়। ছেলে যদি প্রথমে পাত্রীকে দেখে, তাহলে অভিভাবকগণ অবাধ্য মনে করাটা ঠিক হবে না। তবে ছেলের জন্য উচিত হবে না এমন মেয়েকে প্রস্তাব দেওয়া অথবা বিয়ে করা, যাদের সঙ্গে আত্মীয়তা করতে অভিভাবকগণ নারায।

পাত্রী দেখার নিয়ম- (১) পাত্র কোনো গোপন পদ্ধতিতে পাত্রীকে দেখে নিবে। তবে সতর্কতা অবলম্বন করবে, যেন কোনোভাবে সতরের উপর দৃষ্টি না পড়ে।

(২) আরেকটি পন্থা হল যে, প্রথমে পাত্রের পক্ষের নারী আত্মীয়রা দেখে আসবে। তাদের বিবরণ শুনে পছন্দ হলে, তখন ছেলে নিশ্চিত হওয়ার জন্য আলোচনার মাধ্যমে মেয়েকে দেখতে পারবে। তবে স্পর্শ করতে পারবে না। আরো সতর্কতা হল, মেয়ে পক্ষের কোনো পুরুষ মাহরাম অভিভাবক সঙ্গে থাকা। (সূরা নিসা- ৩ ও ২৪ ও ২৩, সূরা নূর- ৩০, মিশকাতুল মাসাবিহ- ২/২৬৮, আবু দাউদ- ১/২৮৪)।

রোযা প্রসঙ্গে

(৭৯৬৩) মুহাম্মদ হালিমা আক্তার, বাগবাড়ী, ফুলছড়ি, গাইবান্ধা।

জিজ্ঞাসাঃ আমাদের এলাকায় রোযার মাসে কেউ রোযা অবস্থায় অসুস্থ হলে, চিকিৎসার ক্ষেত্রে যদি ইনজেকশন অথবা স্যালাইন পুশ করা হয়, তখন রোগী রোযা ভেঙ্গে ফেলেন। মনে করেন রোযা নষ্ট হয়ে গেছে। অনেকেই মনে করেন, ভুলে পানাহার করলে বা স্বপ্নে কিছু খেলে রোযা নষ্ট হয়ে যায়।

আবার অনেকে মনে করেন, “আল্লাহুম্মা লাকা সুমতু ওয়াআলা রিযকিকা আফতারতু” এই দোয়া দিনের বেলায় পড়া যাবে না। কারণ হল, রোযা শেষ হয়ে যাবে। কেউ মিসওয়াক করলে লোকজন তাকে বলে থাকেন যে, তোমার রোযা ভেঙ্গে গেছে। এমনকি কাঠি দিয়ে কান চুলকানো যাবে না ইত্যাদি কথা বলে থাকেন। এর সঠিক সমাধান চাই।

সমাধানঃ কুরআন হাদীসের আলোকে একথা জানা যায় যে, রোযা অবস্থায় ইনজেকশন বা স্যালাইন পুশ করলে এবং ভুলে পানাহার করলে বা স্বপ্নে কিছু খেলে অথবা ইফতারের দোয়া দিনের বেলায় পাঠ করলে রোযা নষ্ট হয় না। তদ্রুপ মেসওয়াক করলে বা কান চুলকানোর কারণে রোযার কোনো সমস্যা হবে না। (সূরা বাকারা- ১৮৭, সুনানে তিরমিযী- ১/১৫৩ ও ১৫৪, আহসানুল ফাতাওয়া- ৪/৪২২)।

নামায প্রসঙ্গে

(৭৯৬৪) মুহাম্মদ আজিজুর রহমান, দেওয়ানগঞ্জ, জামালপুর।

জিজ্ঞাসাঃ একজন ইমাম সাহেব বলেন যে, মুক্তাদি রুকুতে বা সিজদায় গিয়ে ৩ অথবা ৫ বার তাসবীহ বলে চুপ করে থাকবে। এর চেয়ে বেশি তাসবীহ পড়বে না। কারণ হিসাবে বলেন, তিন অথবা পাঁচ বারের চেয়ে বেশি পড়লে ইমামের সঙ্গে বেয়াদবি হবে।

হতে পারে মুক্তাদিরা তাসবীহ বেশি পড়েছে, আর ইমাম কম পড়েছেন। এটাতো ইমামের চেয়ে অগ্রসর হওয়ার মত, যা বেয়াদবির শামিল। কুরআন-হাদিসের মাধ্যমে জানতে চাই যে, উক্ত ইমাম সাহেবের কথা কতটুকু সঠিক?

সমাধানঃ কুরআন-হাদীস হতে জানা যায় যে, প্রশ্নে বর্ণিত ইমামের বক্তব্যটি সম্পূর্ণ মনগড়া ও ভিত্তিহীন কথা। আসল কথা হল, নামাযের মাঝে আল্লাহ তাআলার তাসবীহ ও যিকির বেশি পাঠ করা। এক্ষেত্রে কারও সাথে তুলনা করে বেশি পড়া যাবে না, এমনটি নয়। বরং যে যতবার তাসবীহ পড়তে পারে, পড়বে। হাদীস শরীফে তিন অথবা পাঁচ বার পড়াকে ন্যূনতম সুন্নাত বলা হয়েছে।

উল্লেখ্য, বর্তমান যুগে ইমামগণের উচিত হল যে, ফরয নামাযকে বেশি দীর্ঘ করবে না। বরং মধ্যম পন্থায় আদায় করবে। যাতে মুসল্লিগণ জামাতের প্রতি অমনোযোগী না হয়। (সূরা ত্ব-হা- ১৪, সূরা আহযাব- ৪১, সুনানে তিরমিযী- ১/৫৫ ও ৬০)।

শবে বরাতে হালুয়া-রুটি প্রসঙ্গে

(৭৯৬৫) মুসাম্মৎ মাহমুদা আক্তার, বাগবাড়ী, ফুলছড়ি, গাইবান্ধা।

জিজ্ঞাসাঃ শাবান মাসের ১৪ তারিখের দিবাগত রাতে, অর্থাৎ- যাকে শবে-বরাত বলা হয়, সে রাতে আমাদের এলাকার লোকজন খুব গুরুত্ব দিয়ে হালুয়া রুটির ব্যবস্থা করেন। এছাড়া অন্যান্য ভাল খাবারও বিশেষভাবে আয়োজন করে থাকেন। লোকজন একথা বলে যে, উহুদ যুদ্ধে নবী কারীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের পবিত্র দাঁত মোবারক শহীদ হবার পর নবী কারীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম হালুয়া রুটি খেয়েছেন। এজন্যই এই চাঁদে হালুয়া রুটি খাই। এর স্বপক্ষে গ্রামের মুন্সীরাও ফাতাওয়া দিয়ে থাকেন। তার কারণ হল, সেই রাতে গ্রামের মুন্সীরা কমপক্ষে ২০ বাড়ী দাওয়াত পাবেন। হাদিয়ার নামে টাকা-পয়সা পাবেন। অনেকেই সেই রাতে মুসল্লিদেরকে হালুয়া-রুটি বা মিষ্টি দ্রব্য বিতরণ করে থাকেন নবীর মুহাব্বতে। শরীয়তের আলোকে এর সমাধান চাই।

সমাধানঃ শাবান মাসের ১৪ তারিখের দিবাগত রাত্রে ইবাদত বন্দেগী করার কথা হাদীস শরীফে উল্লেখ আছে। অর্থাৎ- নফল নামায, যিকির-আযকার, তিলাওয়াত, দোয়া ইত্যাদি আমল করে রাত্রি জাগরণের কথা বর্ণিত আছে। মানুষ আল্লাহ তাআলার নৈকট্য লাভ করতে পারে। এজন্যই আল্লাহ তাআলা এই রাতটি দান করেছেন। নবী কারীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের দাঁত মোবারক শহীদ হওয়ার পর হালুয়া-রুটি খেয়েছেন এমন কথাবার্তা বলা ও বিশ্বাস পোষণ করা সম্পূর্ণ মনগড়া ও ভিত্তিহীন।

নবী কারীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের পবিত্র দাঁত মোবারক শহীদ হয়েছিল উহুদ যুদ্ধে। উহুদ যুদ্ধ সংঘটিত হয়েছিল তৃতীয় হিজরীর শাওয়াল মাসে শনিবার সকালে। আপনাদের এলাকার হালুয়া-রুটির প্রচলন হল শা’বান মাসে। সুতরাং যুক্তির মাধ্যমেই তো এই প্রথা মনগড়া ও ভন্ড প্রমাণিত হচ্ছে। শরীয়তহীন মুহাব্বত রেখে মিষ্টান্ন বিতরণ করা নিষ্ফল কর্মের অন্তর্ভুক্ত, যা পরিহার করা সবার জন্য জরুরী। আল্লাহ তাআলা সবাইকে আমল করার তাওফীক দান করুন। (সুনানে ইবনে মাজাহ- ১/৯৯, হাদীস নং- ১৩৮৮, ১৩৮৯, ১৩৯০)।

নামাযরত অবস্থায় মোবাইল রিংটোন বন্ধ করা প্রসঙ্গে

(৭৯৬৬) মুহাম্মদ আব্দুল আল-মামুন, নেত্রকোনা।

জিজ্ঞাসাঃ জামাতে নামায পড়ার সময় সিজদারত অবস্থায় মোবাইলে রিং বেজে উঠলে কেউ কেউ সিজদা থেকে উঠে বসার প্রায় কাছাকাছি গিয়ে পকেট থেকে মোবাইল বের করে রিং বন্ধ করে থাকেন। অথচ তখনও ইমাম ও মুসল্লী সকলেই সিজদায় থাকেন। জানার বিষয় হল, এভাবে রিং বন্ধ করলে নামায ভেঙ্গে যাবে কি? জানালে কৃতজ্ঞ থাকব।

সমাধানঃ প্রশ্নে বর্ণিত পদ্ধতিতে মোবাইলের রিং বন্ধ করার দ্বারা নামায ভেঙ্গে যাবে। যদিও এভাবে রিং বন্ধ করার দ্বারা তিন তাসবিহ পরিমাণ সময় ব্যয় না হয়। কারণ, যেখানে দুই হাতের ব্যবহারকেই নামায ভঙ্গের কারণ বলা হয়েছে, সেখানে গোটা দেহকে নামাযের অবস্থা থেকে সরিয়ে নিয়ে আসা নিঃসন্দেহে নামায ভঙ্গের কারণ হবে। তাছাড়া এ অবস্থায় কেউ তাকে দেখলে সে নামাযে নেই বলেই মনে করবে; যা আমলে কাসীরের অন্তর্ভুক্ত। আর আমলে কাসীর নামায ভঙ্গের অন্যতম কারণ। (ফাতাওয়ায়ে হিন্দিয়া- ১/১০৬, দুররুল মুখতার আলা রদ্দুল মুহতার- ২/৩৮৫, ফাতাওয়ায়ে আলমগীরী- ১/১০১ পৃষ্ঠা)।

মৃত ব্যক্তির বাড়িতে খানার জন্য আগুন জ্বালানো প্রসঙ্গে

(৭৯৬৭) মুহাম্মদ কাউসার আহমদ, নেত্রকোনা।

জিজ্ঞাসাঃ আমাদের এলাকায় প্রচলন রয়েছে যে, কোন ব্যক্তি মারা গেলে তিন দিন পর্যন্ত মৃতের ঘরের চুলায় আগুন জ্বালায় না। এই তিন দিন তার আত্মীয়-স্বজন খানা-পিনার ব্যবস্থা করে। এবং এই নিয়মটি তারা আবশ্যকীয় মনে করে পালন করে। জানার বিষয় হল, শরীয়তের দৃষ্টিতে এর গ্রহণযোগ্যতা কতটা?

সমাধানঃ প্রশ্নে আপনাদের এলাকায় কোন ব্যক্তি মারা গেলে তিন দিন পর্যন্ত তার চুলায় আগুন জ্বালায় না বলে যে প্রথার বর্ণানা করেছেন, এটি সম্পূর্ণ শরীয়ত বিরোধী একটি কাজ। এটা থেকে সকলের বিরত থাকা উচিত। তবে কোনো ব্যক্তি মারা গেলে তার আত্মীয়-স্বজন ও প্রতিবেশীর জন্য একদিনের খানার ব্যবস্থা করা মুস্তাহাব। কেননা হযরত জাফর (রাযি.)এর ইন্তিকালের পর রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইরশাদ করলেন, তোমরা জাফরের পরিবারের জন্য খাবারের ব্যবস্থা কর। (জামেউত তিরমীযী- ২/১৯৫, ফাতাওয়ায়ে শামী- ৩/২৪৮, মিরকাত- ৪/৯৬)।

স্ক্রীনে ছবিওয়ালা মোবাইল সামনে রেখে নামায আদায় প্রসঙ্গে

(৭৯৬৮) মুহাম্মদ খলীলুর রহমান খান, নেত্রকোনা।

জিজ্ঞাসাঃ মোবাইলের স্ক্রীনে প্রাণীর ছবি সেভ করে মোবাইল সামনে রেখে নামায আদায় করলে নামায সহীহ হবে কি? জানালে চির কৃতজ্ঞ থাকব।

সমাধানঃ স্ক্রীনে প্রাণীর ছবি সেভ করা মোবাইল সামনে রেখে নামায পড়লে নামায সহীহ হবে কি-না, তা ব্যাখ্যার বিষয়। কারণ সেভ করা প্রাণীর ছবিটি দু’ ধরনের হতে পারে। (১) অতি ছোট আকারের ছবি, যা মাটিতে রাখা অবস্থায় দাঁড়িয়ে স্পষ্ট দেখা যায় না। নাক, কান, চোখ, কপাল ইত্যাদি স্পষ্টভাবে দেখা যায় না। এ ধরণের ছবি সম্বলিত মোবাইল সেট সামনে রেখে নামায পড়লে নামাযের কোনো সমস্যা হবে না। তবে ছবি তোলা ও সেভ করে রাখার গোনাহ অবশ্যই হবে। যা নামায শুদ্ধ-অশুদ্ধ হওয়ার সাথে সম্পর্কিত কোনো বিষয় নয়।

২। ছবিটি যদি বড় হয় এবং মাটিতে রাখা অবস্থায় দাঁড়িয়ে স্পষ্ট দেখা যায় অথবা স্পষ্ট দেখা না গেলেও কল আসার কারণে কিংবা অন্য কোন কারণে স্ক্রীনে আলো জ্বলে উঠার দরুন ছবিটি স্পষ্ট হয়ে ওঠে, তবে নামায মাকরূহে তাহরীমি হবে।

হ্যাঁ, যে কোনোভাবে একবারও যদি অস্পষ্ট ছবিটি স্পষ্ট না হয়ে ওঠে, তাহলে নামাযের কোন ক্ষতি হবে না। (ফাতাওয়ায়ে হিন্দিয়া- ১/১০৭, ফাতাওয়ায়ে শামী- ৯/৫২০, ফাতহুল কদীর- ১/৪২৭, ইমদাদুল ফাতাওয়া- ৪/১৬৭, বাহরুরু রায়েক- ২/৪৮-৫০ পৃষ্ঠা)।

এতীমের টাকা মাদ্রাসায় খরচ প্রসঙ্গে

(৭৯৬৯) নাম-ঠিকানা বিহীন।

জিজ্ঞাসাঃ আমি একটি মাদরাসার খেদমতে আছি। এই মাদ্রাসায় চার পাঁচ জন এতীম ছাত্র পড়েন। এই ছাত্রদেরকে একজন লোক কিছু টাকা দান করলেন। দান করার পর মাদরাসার মুহতামিম সাহেব এই টাকা মাদরাসার কাজে ব্যয় করেন। আর কিছু টাকা এতিমদের দেন।

এখন আমার জানার বিষয় হল, এই টাকা দিয়ে যে মাদরাসার কাজ করেছেন, এই কাজটি শরীয়ত সম্মত হয়েছে কি-না? যদি না হয়, তাহলে এখন কি করতে হবে? দয়া করে কুরআন ও হাদীস দিয়ে সমাধান দিলে ভাল হত।

আরেকটি জানার বিষয় হল, কুরবানীর চামড়া বিক্রির টাকা দিয়ে মাদ্রাসার কাজ করতে চান। এই টাকা কীভাবে ব্যয় করলে শরীয়তসম্মত হবে, দয়া করে জানাবেন?

সমাধানঃ প্রশ্নের বর্ণনা অনুযায়ী মুহতামিম সাহেবের জন্য উক্ত টাকা মাদরাসার কাজে ব্যয় করা শরীয়ত সম্মত হয়নি। তাই মুহতামিম সাহেবের কর্তব্য হল, উক্ত টাকা পরিমাণ মাদরাসার ফান্ড থেকে এতিমদেরকে দিয়ে দেওয়া। অন্যথায় তিনি গুনাহগার হবেন।

আর একান্ত প্রয়োজনে কুরবানির চামড়ার টাকা মাদ্রাসার কাজে ব্যয় করার ক্ষেত্রে নিম্নে উল্লিখিত পদ্ধতিটি অবলম্বন করা যেতে পারে। আর তা হলো, যাকাত বা সদকার টাকার হকদার এমন কাউকে উক্ত টাকার মালিক বানিয়ে দেওয়া, যে উক্ত টাকা মাদরাসায় দান করে দিবে। তাহলে সেই টাকা শিক্ষক-কর্মচারীর বেতন এবং মাদরাসার উন্নয়নমূলক কাজে ব্যয় করা যাবে। (সূরা মুহসিনাত- ২৯, ফাতাওয়ায়ে রহিমিয়া- ১০/৪১ ও ৪২, ফাতাওয়ায়ে আলগীরী- ১/২৫০)।

পুত্রবধূ থেকে খেদমত নেয়া প্রসঙ্গে

(৭৯৭০) মুহাম্মদ রমযান হোসেন, ঢাকা।

জিজ্ঞাসাঃ (ক) কোনো কোনো আলেমের মুখে শোনা যায়, পুত্রবধূর উপর নিজ শ্বশুর-শাশুড়ির খেদমত করা জরুরী নয়। এখন প্রশ্ন হল, ছেলে (স্বামী) সব সময় বাসায় থাকে না। তো এমন সময় মাতা-পিতার খেদমত করবে কে? দায়িত্ব কার? করনীয় কী?

(খ) পুত্রবধূ শ্বশুর-শাশুড়ির সাথে থাকতে আগ্রহী নয়। বরং ভাড়া বাসায় থাকতে আগ্রহী। কিন্তু এতে শ্বশুর-শাশুড়ি রাযী নন। এমতাবস্থায় ছেলে তার স্ত্রী নিয়ে পৃথকভাবে বাসা ভাড়া নিয়ে থাকতে পারবে কি-না?

সমাধানঃ (ক) শরয়ী বিধান মতে শ্বশুর-শাশুড়ির খেদমত করা যদিও পুত্রবধূর উপর ওয়াজিব নয়, তবে তার নৈতিক কর্তব্য হলো নিজ সাধ্যমতে শ্বশুর-শাশুড়ির স্বাভাবিক খেদমত করা। আর এ ক্ষেত্রে মূল দায়িত্ব ছেলের উপর। সে নিজে বা অন্যের মাধ্যমে মাতা-পিতার খেদমত করবে। তবে ছেলে বাসায় না থাকলে এবং অন্যের মাধ্যমে তাদের খেদমত করানোর সমর্থ্য না থাকলে এমতাবস্থায় স্বামী যদি স্ত্রীকে আদেশ করেন, তাহলে স্ত্রীর কর্তব্য হয়ে দাঁড়ায় নিজ সাধ্য অনুযায়ী তাঁদের খেদমত করা। এক্ষেত্রে খেয়াল রাখতে হবে যেন স্ত্রীর উপর জুলুম না হয়ে যায়, যা অনেক জায়গায় লক্ষ্য করা যায়, তা কোনোভাবেই জায়েয নয়।

(খ) কোনো কারণে শ্বশুর-শাশুড়ির সাথে এক বাড়িতে থাকতে স্ত্রীর সমস্যা হলে এবং স্ত্রী উচ্চ বংশীয় ধনী পরিবারের হলে এমতাবস্থায় স্ত্রীর জন্য আলাদা বাসা-বাড়ির ব্যবস্থা করা স্বামীর উপর ওয়াজিব। আর স্ত্রী গরীব বা স্বাভাবিক পরিবারের হলে আলাদা বাড়ির ব্যবস্থা করা স্বামীর জন্য জরুরি না। এক্ষেত্রে বিশেষভাবে খেয়াল রাখতে হবে, যেন বিনা কারণে মাতা-পিতা থেকে আলাদা হয়ে না যায়। কারণ এতে মাতা-পিতা কষ্ট পেতে পারেন। (রদ্দুল মুহতার- ৫/৩২২, কিফায়াতুল মুফতী- ৫/২৩০, বেহেশতী জেওর- ৪/৩১৯)।

কবর যিয়ারত প্রসঙ্গে

(৭৯৭১) হাফেয মাওলানা মুহাম্মদ আবু বকর সিদ্দিক, ঝালকাঠী।

জিজ্ঞাসাঃ কবর যিয়ারত করা কী? কবর যিয়ারত করার সুন্নাত তরিকা কী? আমাদের দেশে অনেক লোক মিলে কবর যিয়ারত করেন এবং অনেক জায়গায় দেখা যায় কবরের পাশে বসে কুরআন শরীফ তিলাওয়াত করা হয়। এটা শরীয়তে জায়েয আছে কি-না? দলীলের আলোকে জানিয়ে বাধিত করবেন।

সমাধানঃ কবর যিয়ারত করা অত্যন্ত মর্যাদাপূর্ণ একটি মুস্তাহাব আমল। রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম নিজে কবর যিয়ারত করতেন এবং উম্মতকে কবর যিয়ারত করার নির্দেশ দিয়েছেন।

কবর যিয়ারত করার দ্বারা অন্তর নরম হয় এবং আখিরাতের কথা স্মরণ হয়। তবে একাকী কবর যিয়ারত করা উত্তম। ডাকাডাকি করে দলবদ্ধভাবে কবর যিয়ারত করা বিদআত।

যিয়ারতের তরীকা- কবরের কাছে পৌঁছে প্রথমে সালাম দিবে। এরপর কবরের দিকে মুখ করে সূরা ইয়াসীন, সূরা ইখলাস, সূরা ফাতিহা ইত্যাদি সূরা তিলাওয়াত করে কিবলামুখী হয়ে মাইয়্যেতের জন্য দোয়া করবে। (মিশকাত শরীফ- ১/১৫৪, ফাতাওয়ায়ে শামী- ৩/১৫০, ফাতাওয়ায়ে আলমগীরী- ১/২২৭, ফাতাওয়ায়ে দারুল উলূম হাটহাজারী- ২/১৫৮)।

তালাক সম্পর্কে

(৭৯৭২) মাওলানা মুনিরুল ইসলাম, ভোলা।

জিজ্ঞাসাঃ স্বামী-স্ত্রী উভয়ের পিতা-মাতার বাড়ি বরিশাল। তারা দু’ জন শুধু ঢাকায় থাকেন। একদিনের ঘটনাঃ মহিলার স্বামী টাকা কর্য দিয়ে ছিলেন। সেই টাকা আদায় করতে বাসা থেকে বের হন।

মহিলা তার স্বামীর অপেক্ষায় থাকেন বাসায় ফিরবে বলে। কয়েক দিন গত হওয়ার পরও কোনো খোঁজ-খবর নাই। তার পর মহিলা তার ননদ এর বাসায় চলে যান খোঁজ করার জন্য। সে ঢাকায় থাকে। তাদের কাছে তেমন কোনো সন্ধান পাওয়া যায় না। বরং ভাইকে কি করেছ ইত্যাদি  ইত্যাদি কথা বলে।

এভাবে ২/৩ মাস চলে যাওয়ার পর মহিলা বহুমুখী সমস্যার সম্মুখীন হন। যেমন ভরণ-পোষণ, বাসা ভাড়া ইত্যাদি।

তখন মহিলা গার্মেন্টসে চাকুরী নেয় এবং তার স্বাভাবিক অবস্থায় ফিরে আসে। এর মাঝে মহিলার স্বামী ফোন করে কথা বলে, কিন্তু ঠিকানা বলে না। এমনভাবে ২/৩ বার কথা বলেছে।

এখন মহিলার ইচ্ছা হল, আর ১ মাস অপেক্ষা করবে তার স্বামী ফেরত আসে কি-না। আর যদি ফেরত না আসে, তাহলে এমতাবস্থায় উক্ত স্ত্রী তার স্বামীকে ডিভোর্স দিতে পারবে কি-না? বা অন্য কোনো পন্থা আছে কি-না, যার মাধ্যমে স্বামী-স্ত্রীর মাঝে বিবাহ বিচ্ছেদ হয়ে যায় এবং তার পদ্ধতি কী? কুরআন-হাদীসের আলোকে এর সমাধান চাই।

সমাধানঃ প্রশ্নের বিবরণ অনুযায়ী মহিলার উপর কর্তব্য হল, প্রথমে উভয় পক্ষের আভিভাবকগণকে ডেকে এক সঙ্গে বসে তাদের অর্থাৎ- স্বামী-স্ত্রীর মাঝে সংশোধন করে নেওয়ার আপ্রাণ চেষ্টা করা। আর যদি কোনোভাবেই স্বামী-স্ত্রীর মাঝে সংসার করা সম্ভব না হয় এবং একান্তই যদি অপারগ হয়ে যান, বিবাহের সময় অথবা বিবাহের পরে স্বামী যদি স্ত্রীকে তালাক প্রদানের অধিকার দিয়ে থাকেন, স্বামীর দেওয়া ক্ষমতা বলে স্ত্রী নিজের উপর তালাক গ্রহণ করতে পারবে।

যদি এ সুযোগ না থাকে, স্বামীকে তালাক দিতে বলবেন। আর যদি স্বামী তালাক দিতে রাযী না হয়, তখন সন্ধি অর্থাৎ- অর্থের বিনিময়ে চুক্তি করার চেষ্টা করবেন। যেমন, বলা যেতে পারে, মহর মাফ করে দিব আমাকে তালাক দাও, অথবা এই পরিমাণ সম্পদ দিব যদি আমাকে তালাক দাও।

যদি রাজি হয়, তালাকের পর ইদ্দত অতিবাহিত হওয়ার পর অন্যত্র বিবাহ বসতে পারবেন। স্বামী যদি কোনোক্রমেই রাযী না হয়, তাহলে পাঁচ সদস্যবিশিষ্ট মুসলিম কমিটি যাদের অধিকাংশই বিজ্ঞ আলেম, তাঁদের সামনে বিষয়টি পেশ করবেন। তাঁরা প্রথমে সংশোধনের চেষ্টা করবেন। সম্ভব না হলে সকলের ঐক্যমতে বিবাহ বিচ্ছেদ করে দিবেন।

উল্লেখ্য, মহিলা ঋতুবর্তী হলে তিন ঋতু, গর্ভবতী হলে সন্তান প্রসব করা পর্যন্ত, আর বৃদ্ধা হলে তিন মাস ইদ্দত পালন করবে। (সূরা নিসা- ৩৫, সুনানে তিরমিযী- ১/২২৫, কিফায়াতুল মুফতী- ৬/১২১)।

দাড়ি-গোঁপ প্রসঙ্গে

(৭৯৭৩) আশরাফ উদ্দীন, হাটহাজারী, চট্টগ্রাম।

জিজ্ঞাসাঃ মুখের উপরের অংশের দাড়ি ও নীচের অংশের দাড়ি (অর্থাৎ- গলার দাড়ি) ব্লেড দিয়ে সেভ করা জায়েয আছে কি-না? এবং গোঁফ ও নিম দাড়ি সেভের হুকুম কি? জরুরি ভিত্তিতে জানতে চাই।

উপরোক্ত বিষয় বিবেচনা করে সঠিক উত্তর দিয়ে বাধিত করবেন।

সমাধানঃ মুখের উপরের দাড়ি এবং গলার দাড়ি ব্লেড দিয়ে সেভ করা জায়েয। গোঁফ মুন্ডানোর চেয়ে কাঁচি দিয়ে কাটা উত্তম। নিম দাড়ি দাড়ির হুকুমে, তাই রাখা ওয়াজিব এবং কাটা হারাম। (সহীহ বুখারী- ১/৫০২, সহীহ মুসলীম- ২/২৫৯, কিফায়াতুল মুফতী- ৯/১৭৮, ফাতাওয়ায়ে মাহমুদিয়া- ২৭/৫০৬)।

উলামাদের সাথে সাক্ষাত করা সম্পর্কে

(৭৯৭৪) মুমিনুল ইসলাম, সাঘাটা, গাইবান্ধা।

জিজ্ঞাসাঃ তাবলীগের মুরুব্বীরা বয়ানে বলে থাকেন, উলামাদের যিয়ারত অর্থাৎ সাক্ষাত করাকে ইবাদত মনে কর। কথাটার যথার্থটা আছে কিনা, জানালে উপকৃত হব।

সমাধানঃ প্রশ্নে বর্ণিত মুরুব্বীর কথা সঠিক। উলামায়ে সালেহ অর্থাৎ- নেককার আলেমগণের ব্যাপারে আল্লাহ তাআলা বলেন, হে ঈমানদারগণ, আল্লাহকে ভয় কর এবং সত্যবাদীদের সাথে থাক। (সূরা তাওবা- ১১৯, মিশকাতুল মাসাবিহ- ২/৪২৬)।

বিবাহ সম্পর্কে

(৭৯৭৫) মুহাম্মদ জিয়াউর রহমান, গাইবান্ধা

জিজ্ঞাসাঃ স্ত্রী মারা গেলে স্বামী কত দিন পর বিবাহ করতে পারবে, শরীয়তের আলোকে এর সমাধান চাই।

সমাধানঃ পুরুষের জন্য কোন ইদ্দত পালন করতে হয় না। যখন ইচ্ছা বিবাহ করতে পারবে।

জুমার পূর্বে চার রাকাত সুন্নাত সম্পর্কে

(৭৯৭৬) মুহাম্মদ জিয়াউর রহমান, গাইবান্ধা।

জিজ্ঞাসাঃ বর্তমানে কিছু মানুষ বলেন যে, জুমার পূর্বে দুই রাকাত সুন্নাত আদায় করলে যথেষ্ট। ৪ রাকাত পড়ার কথা কোনো হাদিসে উল্লেখ নেই। মুফতী সাহেবের নিকট জানার আবেদন হল, হাদীস শরীফে চার রাকাত পড়ার কথা আছে কি-না?

সমাধানঃ হাদীসের আলোকে একথা জনা যায় যে, নবী কারিম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম জুমার পূর্বে এক সালামে চার রাকাত সুন্নাত আদায় করতেন। তাদের কথা মনগড়া ও ভিত্তিহীন। (সুনানে ইবনে মাজাহ- ১/৭৯, বাদায়েউস সানায়ে- ১/৬৩৭)।

মসজিদের সিঁড়িঘরে ইমামের জন্য রুম নির্মাণ

(৭৯৭৭) আফজল হুসাইন, দক্ষিণ পাড়া জামে মসজিদ, মানিকগঞ্জ।

জিজ্ঞাসাঃ মসজিদের বারান্দার সিঁড়ির নীচে এবং দ্বিতীয় তলায় সিঁড়ির বর্ধিত অংশে ইমাম সাহেবের জন্য রুম এবং বাথরুম ইত্যাদি করা যাবে কি-না? উল্লেখ্য, উক্ত মসজিদ নির্মাণকালের পূর্ব থেকেই এভাবে ইমাম সাহেবের জন্য রুম নির্ধারণ করা মসজিদ কমিটির সিদ্ধান্ত ছিল।

সমাধানঃ হ্যাঁ, আপনাদের মসজিদ নির্মাণকালের পূর্ব থেকেই যদি মসজিদ কমিটির সিদ্ধান্ত থাকে যে, আমরা উক্ত জায়গাগুলোতে রুম এবং বাথরুম নির্মাণ করবো, তাহলে ইমাম সাহেবের জন্য রুম এবং বাথরুম নির্মাণ করা যাবে। আর যদি মসজিদ নির্মাণকালে এরূপ সিদ্ধান্ত না থাকে এবং পরবর্তীতে মনগড়াভাবে যদি বলা হয় যে, হ্যাঁ আমাদের সিদ্ধান্ত বা পরিকল্পনা ছিল, তাহলে তা গ্রহণযোগ্য হবে না। সেই ক্ষেত্রে রুম, বাথরুম ইত্যাদি নির্মাণ করা জায়েয হবে না। (হাশিয়ায়ে তাহতাবী- ২/৫৩৭, হিন্দিয়া- ২/৪০৮, বাহরুর রায়েক- ৫/৪২১)।

আত্মহত্যাকারীর জনাযার নামায পড়া এবং তার মাল বণ্টন প্রসঙ্গে

(৭৯৭৮) ওয়ালীউল্লাহ, কুমিল্লা।

জিজ্ঞাসাঃ (ক) আত্মহত্যা করে মারা গেলে তার জানাযার নামায পড়তে হবে কি? আত্মহত্যাকারীর জন্য ঈসালে সাওয়াবের উদ্দেশ্যে কুরআন খতম মীলাদ মাহফিল ইত্যাদি করতে পারবে কি?

(খ) আত্মহত্যাকারীর রেখে যাওয়া সম্পদের কি হুকুম, এগুলো কি তার ওয়ারিশদের মাঝে বণ্টন করতে হবে, নাকি দান-সদকা করে দিতে হবে। শরীয়তের আলোকে জানালে উপকৃত হব।

সমাধানঃ (ক) আত্মহত্যা করে মারা গেলেও তার জানাযার নামায পড়তে হবে। কিন্তু মুক্তাদায়ে কওম বা গুরুত্বপুর্ণ ব্যক্তিত্বগণ যেমন আলেম ও জনপ্রতিনিধিগণ আত্মহত্যাকারীর জানাযায় শরীক না হওয়াই উত্তম। যাতে অন্যরা এমন আত্মসংহারি গুনাহের কাজ থেকে বিরত থাকার বিষয়ে সতর্ক হতে সহায়ক হয়।

(খ) তার জন্য ঈসালে সাওয়াবের উদ্দেশ্যে কুরআন খতম করা যাবে, তবে প্রচলিত মীলাদ যেহেতু শরীয়ত সমর্থিত নয়, তাই তা করা যাবে না।

ইসলামী উত্তরাধিকার নীতিমালা অনুযায়ী বুঝা যায় যে, তার সম্পদ ওয়ারিশদের মাঝেই বণ্টন করতে হবে, সদকা করা জায়েয নেই। (ফাতাওয়ায়ে হিন্দিয়া- ১/২২৪, দুররে মুখতার- ৩/১০৮, হাশিয়ায়ে তাহতাবী- ৬০২, বজলুল মাজহুদ- ৪/২০২)।

সূদ প্রসঙ্গে

(৭৯৭৯) আহমদ রেজা, কুমিল্লা।

জিজ্ঞাসাঃ বর্তমান সময়ে বিকাশের মাধ্যমে অর্থের আদান-প্রদান করতে গিয়ে দোকানদার ১ হাজারে ২০ টাকা নিয়ে নেন, তা সুদ হবে কি-না?

যদি না হয়, তাহলে গ্রামীণ ব্যংকওয়ালারা গ্রামে বা দোকানে টাকা দিয়ে তা কিস্তিতে কিছু বেশী নিয়ে আদায় করেন। যেমন ৫ হাজার টাকা দিয়ে ৫ মাসে ৫ হাজারে ৫ শত টাকা আদায় করেন। তাদের এই বর্ধিত টাকা সুদ হবে কেন? সহীহ জওয়াবের জন্য আকুল আবেদন করা হল?

সমাধানঃ বিকাশের মাধ্যমে টাকা আদান-প্রদান করা এবং ব্যাংক থেকে ঋণ নিয়ে তা কিছু বাড়তি দিয়ে পরিশোধ করা উভয়টি এক রকমের লেন-দেন নয়, বরং এতে ভিন্নতা রয়েছে। তাই একটিকে অপরটির সাথে তুলনা করা যাবে না। কারণ, বিকাশের লেন-দেন নগদ টাকা আদান-প্রদানের সাথে সম্পৃক্ত অথচ ব্যাংকের লেন-দেন ঋণ দেয়া-নেয়ার সাথে সম্পৃক্ত।

আর বিকাশ করতে গিয়ে হাজারে যে বিশ টাকা নেয়া হয়, তাতো বিভিন্ন খরচ বাবদ নেয়া হয় যা সুস্পষ্ট। এখানে তো এরকম নয় যে, বিকাশওয়ালা থেকে প্রথমে ঋণ নেয়া হয়, পরবর্তীতে তা পরিশোধ করার সময় ২০ টাকা বাড়তি দিয়ে পরিশোধ করা হয়।

যদি ব্যাপারটি এরকম হতো তাহলে অবশ্যই সুদ হতো। কিন্তু যেহেতু বাস্তবতা এরকম নয় তাই তা সুদের অন্তর্ভুক্ত হবে না।

এদিকে ব্যাংক মানুষকে ঋণ দিয়ে তা আদায় করার সময় অতিরিক্ত যা নেয়, তাতো ঋণ দেয়ার পরিবর্তেই নিচ্ছে। এখানে একথা বলার কোনই সুযোগ নেই যে, বিকাশের মত ব্যাংকেরও তো বিভিন্ন খরচ আছে। সেই খরচ পুরণের জন্য কিছু বাড়তি নেয়া হয়। (তাই তা সুদ হবে না)।

কারণ, শুধু ঋণ আদান-প্রদানের জন্যই একটি ব্যাংক প্রতিষ্ঠিত হয় না, বরং তার আরো বিভিন্ন কার্যক্রম থাকে, যেখান থেকে তার খরচাদি বহন করা হবে। আর যদি শুধু ঋণ আদান-প্রদানের জন্যই কোনো ব্যাংক প্রতিষ্ঠিত হয়, তাহলে খরচাদির বাহানা দিয়ে হলেও ঋণগ্রহিতা থেকে অতিরিক্ত কিছুই নিতে পারবে না, নিলে তা  জায়েয হবে না বরং হারাম হবে।

কারণ, ঋণ দেয়া একটি নফল ইবাদত, যার প্রতি আল্লাহ এবং রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম উৎসাহিত করেছেন। আর ইবাদতের বিনিময় নেয়া জায়েয নেই। দ্বিতীয় কথা হলো, কর্য বা ঋণ দিয়ে তা বাড়তি নিয়ে আদায় করাকে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সুদ বলেছেন। (ইলাউস সুনান- ১৪/৪৯৮)। তদুপরি আল্লাহ তাআলা সুদকে হারাম করেছেন, (সূরা বাকারা- ২৭৫)।

এবং যারা সুদী কারবার করে তাদের প্রতি আল্লাহ এবং রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের পক্ষ থেকে যুদ্ধের ঘোষণা দিয়েছেন। (সূরা বাকারা- ২৭৮)। তাই সুদের শর্তে ঋণ দেয়া বা নেয়া উভয়টিই হারাম। এ থেকে অবশ্যই অবশ্যই বেঁচে থাকা জরুরী। আল্লাহ বুঝার এবং আমল করার তাওফীক দান করুন। আমীন॥ (সূরা বাকারা-  ২৭৫, ২৭৮, ইলাউস সুনান- ১৪/৪৯৮)। #


Editor: Chowdhury Arif Ahmed
Executive Editor: Saiful Alam
Contact: 14/A, Road No 4, Dhaka, Bangladesh
E-mail: dailydhakatimes@gmail.com
© All Rights Reserved Daily Dhaka Times 2016
এই ওয়েবসাইটের কোন লেখার সম্পূর্ণ বা আংশিক আনুমতি ছাড়া নকল করা বা অন্য কোথাও প্রকাশ করা সম্পূর্ণ বেআইনি