জিজ্ঞাসা-সমাধান

জিজ্ঞাসা-সমাধান

ইসলামী আইন ও গবেষণা বিভাগ

আল-জামিয়াতুল আহলিয়া দারুল উলূম মুঈনুল ইসলাম, হাটহাজারী, চট্টগ্রাম।

 

নীচতলায় মার্কেট উপরে মসজিদের হুকুম প্রসঙ্গে

(৭৯১৪) মুহাম্মদ মোস্তাফিজুর রহমান, আক্কেলপুর, জয়পুরহাট।

জিজ্ঞাসাঃ কিছু মসজিদের নীচে দোকান বা আফিস চালু আছে, অথচ উপর তলায় মসজিদ। শরীয়তের দৃষ্টিতে এ প্রকার মসজিদের যথার্থতা সম্পর্কে জানতে চাই।

সমাধানঃ প্রশ্নে বর্ণিত সূরতে দোকান বা অফিসের উপর প্রতিষ্ঠিত মসজিদ শরয়ী মসজিদ হিসাবে গন্য হবে। তবে শর্ত হল, তা মসজিদের জন্য ওয়াকফকৃত হতে হবে। অন্যথায় শরয়ী মসজিদ হিসাবে গণ্য হবে না এবং সেখানে নামায পড়ার দ্বারা মসজিদের সাওয়াবও পাওয়া যাবে না।

উক্ত মসজিদগুলো যদি মসজিদের নামে ওয়াকফকৃত জমির উপর নির্মাণ করা হয়, তাহলে দেখতে হবে যদি ওয়াকফকারী জমিন ওয়াকফ করার সময় মসজিদের উন্নয়নের স্বার্থে দোকান বা অফিসেরও নিয়ত করে থাকেন, তাহলে সহীহ হবে। আর যদি ভিন্ন কোনো নিয়ত না করে থাকেন, তাহলে সহীহ হবে না। কেননা, ওয়াকফের দ্বারা তা কিয়ামত পর্যন্ত জমির নীচ থেকে আসমান পর্যন্ত মসজিদ হিসেবেই বাকি থাকবে। (সূরা জ্বিন- ১৮, হেদায়া- ২/৬২০, ফাতাওয়ায়ে শামী- ৩/৩২৯, ফাতাওয়ায়ে হিন্দিয়া- ২/৪৫৪)।

 

কবরের সুন্নাত তরীক্বা  প্রসঙ্গে

(৭৯১৫) মাওলানা মুহাম্মদ আব্দুর রহমান, কুষ্টিয়া।

জিজ্ঞাসাঃ লাহাদ কবর সুন্নাত, না শক কবর? আমাদের এলাকায় এটা নিয়ে বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে। সঠিক সমাধান জানিয়ে বাধিত করবেন।

সমাধানঃ ফিক্বাহশাস্ত্রের নির্ভরযোগ্য কিতাবাদি অধ্যয়নে প্রমাণিত হয় যে, লাহাদ কবর সুন্নাত। যেমন ফাতাওয়ায়ে সিরাজিয়ায় উল্লেখ রয়েছে, “আল্লাহদু হুয়া সুন্নাতুন ইনদানা দূনাশ্-শাক”।

আর যদি জমি এতটাই নরম হয়ে থাকে; যেমন- কর্দমাক্ত অথবা ঝরঝরে বালুময়, যদ্দরুন লাহাদ কবর খনন করা সম্ভব নয়; সেক্ষেত্রে শক কবর খনন করে লাশ দাফন করবে। এ ক্ষেত্রে শরয়ী কোনো অসুবিধা নেই। (ফাতাওয়ায়ে সিরাজিয়া- ১৩৩, ফাতাওয়ায়ে হিন্দিয়া- ১/২২৬ ও ২২৭)।

 

মহিলাদের হজ্ব প্রসঙ্গে

(৭৯১৬) মুহাম্মদ আব্দুল্লাহ, হাটহাজারী, চট্টগ্রাম।

জিজ্ঞাসাঃ মহিলাদের উপর হজ্ব ওয়াজিব হওয়ার জন্য স্বামী অথবা কোনো মাহরাম আত্মীয় থাকা শর্ত কি-না?

যদি কোনো মহিলা স্বামী অথবা মহারাম ছাড়া হজ্ব পালন করে, তার হজ্ব কি আদায় হয়ে যাবে? কুরআন-হাদীস এবং ফিক্বাহশাস্ত্রের আলোকে জানালে উপকৃত হবো।

সমাধানঃ কুরআন-হাদীস ও ফিক্বাহশাস্ত্রের নির্ভরযোগ্য কিতাবাদি অধ্যয়নে প্রমাণিত হয় যে, মহিলাদের উপর হজ্ব ওয়াজিব হওয়ার জন্য সফর সঙ্গী হিসেবে তাদের স্বামী অথবা কোনো ধার্মিক মাহরাম আত্মীয় থাকা শর্ত। যদি স্বামী বা কোনো মাহরাম আত্মীয় না থাকে, অথবা মাহরাম আছে, কিন্তু সাথে যাওয়ার জন্য প্রস্তুত নয় এবং তাদের স্বামীরাও তাদের সফর সঙ্গী হতে ইচ্ছুক না হয়, তখন তাদের উপর হজ্ব ওয়াজিব হবে না।

উল্লেখ্য, মাহরাম বলতে সে সব পুরুষ আত্মীয়কে বুঝায়, যাদের সাথে বিবাহ-শাদী কোনো অবস্থাতেই বৈধ নয়। চাই বংশীয় কারণে হোক, অথবা দুধ পান করার কারণে। যেমন- দুধশরীক ভাই। অথবা বৈবাহিক সম্পর্কের কারণে হোক, যেমন শ্বশুর। কিন্তু বর্তমান ফিতনা ফাসাদের কারণে বৈবাহিক সম্পর্কের আত্মীয় এবং দুধ সম্পর্কের আত্মীয় থেকে সতর্ক থাকা জরুরী।

যদি কোনো মহিলা মাহরাম বা স্বামী ছাড়া হজ্ব পালন করেন, তখন তার হজ্ব আদায় হয়ে যাবে। কিন্তু মাকরূহে তাহরীমী হবে এবং ঐ মহিলা গুনাহগার হবেন। (বাদায়েউস সানায়ে- ২/২৯৯-৩০০, রদ্দুল মুহতার- ৩/৪৬৪ ও ৪৬৫, ফাতাওয়ায়ে কাযীখান- ১/১৭৩, ফাতাওয়ায়ে হিন্দিয়া- ১/২৮২)।

 

মসজিদ সংক্রান্ত

(৭৯১৭) মুহাম্মদ নাসির উদ্দীন, বি-বাড়ীয়া।

জিজ্ঞাসাঃ আমাদের এলাকায় এক ব্যক্তি মসজিদের জন্য কিছু জায়গা ওয়াকফ করেন, যার এক পাশে মসজিদ নির্মাণ করা হয়। কিছু দিন পর ঐ মসজিদটি ওয়াক্ফকৃত একই জমিনের অন্য প্রান্তে স্থানান্তর করা হয়।

এখন আমার জানার বিষয় হল, ঐ মসজিদের স্থায়ী আয়ের কোনো ব্যবস্থা নেই। তাই ঐ পুরাতন মসজিদের স্থানে কোনো মার্কেট নির্মাণ বা ভিন্ন কোনো প্রকল্পের মাধ্যমে মসজিদের ফান্ডকে শক্তিশালী করার ব্যবস্থা গ্রহণ জায়েয হবে কি-না?

সমাধানঃ প্রথম যে স্থানে মসজিদ নির্মাণ এবং জামাতের সাথে নামায পড়া হয়, সেই স্থান থেকে অন্য স্থানে মসজিদকে স্থানান্তর করা জায়েয নয়। এরপরও যদি কোনো ব্যক্তি না জানার কারণে ঐ মসজিদকে অন্য স্থানে স্থানান্তর করে, তাহলে ঐ পুরাতন মসজিদের খালি স্থানকে মসজিদ হিসাবে রেখে দিতে হবে। চাই তার মধ্যে মানুষ নামায পড়–ক কিংবা না পড়–ক। সর্বাবস্থায় ওই মসজিদের স্থানে কোনো ধরণের মার্কেট বা প্রকল্প গ্রহণ জায়েয হবে না। (রদ্দুল মুহতার- ৬/৫৫০, আশরাফুল ফাতাওয়া- ৫/৪৯৯, আহসানুল ফাতাওয়া- ৬/৪৫৬, কিফায়াতুল মুফতী- ৭/৩১)।

 

ইমাম নিয়োগ প্রসঙ্গে

(৭৯১৮) মুহাম্মদ আবু সুফিয়ান, জামালপুর।

জিজ্ঞাসাঃ ময়মনসিংহ জেলার এক মসজিদে ইমাম নিয়োগের বিজ্ঞপ্তি দেওয়া হয়। একজন হাফেয সেখানে আবেদন করলে তাকে সেখানে ইমাম নিযুক্ত করা হয়। পরবর্তীতে খোঁজ নিয়ে দেখা যায়, সেই হাফেয সাহেবের পিতা সংসারের খরচ সুদের অর্জিত টাকা দিয়ে বহন করেন এবং উক্ত হাফেযের ভরণ-পোষণও তার পিতা নির্বাহ করেন। এখন আমার জানার বিষয় হল, উক্ত হাফেযকে ইমাম নিয়োগ দেওয়ার হুকুম কী? শরয়ী দলীলের আলোকে জানালে উপকৃত হব।

সমাধানঃ ফিকাহশাস্ত্রের গ্রহণযোগ্য কিতাবাদি অধ্যয়নে প্রামাণিত হয় যে, প্রকাশ্য ফাসেক ব্যক্তিকে ইমাম নিযুক্ত করা মাকরূহে তাহরিমী। সুতরাং প্রশ্নে উল্লিখিত হাফেযের পিতা যদি সুদের টাকা তথা হারাম মাল দ্বারা সংসারের খরচ বহন করেন, এমতাবস্থায় ওই হাফেয যদি তার পিতাকে উক্ত সুদের টাকা সংসারে খরচ করতে নিষেধ করার আহ্বান করেন, তাহলে তাকে ইমাম নিযুক্ত করা যাবে। অন্যথায় মাকরূহ হবে। (ফাতাওয়ায়ে তাতারখানিয়া- ২/২৫১, ফাতাওয়ায়ে শামী- ২/২৮২)।

 

মসজিদে দাঁড়িয়ে আযান প্রসঙ্গে

(৭৯১৯) মুহাম্মদ সলিম উল্লাহ, উত্তরা, ঢাকা।

জিজ্ঞাসাঃ মসজিদে দাঁড়িয়ে আযান দেয়ার শরয়ী হুকুম কী?

সমাধানঃ মসজিদে দাঁড়িয়ে আযান দেওয়া খেলাফে সুন্নাত। আর মাইক দিয়ে মসজিদে আযান দেওয়ার দ্বারা আযানের উদ্দেশ্য ‘তাবলীগে সাওত’ তথা দূর-দূরান্ত থেকে লোকদেরকে জামাআতে শরীক হওয়ার ব্যপারে অবগত করানোর বিষয়টি যদিও আদায় হয়ে যায়। কিন্তু খাইরুল কুরন, তথা নবী (সা.), সাহাবা, তাবেয়ী ও তাবে-তাবেয়ীনের যুগে এরকম আমল ছিল না। কেননা সুন্নাত তরীকা হলো, মসজিদের বাইরে অর্থাৎ- মিনারায় দাঁড়িয়ে আযান দেওয়া। আর ফুক্বাহায়ে কেরাম মসজিদের ভিতর আযান দেয়াকে সুন্নাতের খেলাফ ও মাকরূহে তানযীহী লিখেছেন। তাছাড়া মসজিদের ভিতরে থেকে খুতবা বা জুমার দ্বিতীয় আযান ছাড়া উঁচু আওয়াযে আযান দেওয়ার দ্বারা মসজিদের ইহতেরামের খেলাফ হয়। তাই মাইক্রোফোন বাইরে রেখে বাহির থেকে আযান দেয়ার চেষ্টা করতে হবে। তবে অপারগ হলে মসজিদ থেকেও আযান দেওয়া যাবে। (ফাতাওয়ায়ে হিন্দিয়া- ১/৫৫, মিশকাত- ২/৩৪৯, ফাতাওয়ায়ে শামী- ১/৩৫৭, রদ্দুল মুহতার- ২/৪৮, ইলাউস সুনান- ৮/৪৯, ফাতাওয়ায়ে মাহমুদিয়া- ৯/১০৩ পৃষ্ঠা)।

 

তারাবীর ইমামতি প্রসঙ্গে

(৭৯২০) মুহাম্মদ নূরুল আবছার, মানিকপুর, চকরিয়া।

জিজ্ঞাসাঃ আমাদের মসজিদে খতমে তারাবীর জন্য তিন জন হাফেয সাহেব ছিলেন। তাদের মধ্যে একজনের বয়স ১৪ বছর ছয় মাস ছিল। উক্ত হাফেজ সাহেব দশ দিন তারাবীর নামায পড়িয়েছেন। একজন আলেম অভিযোগ করে বলেন, এই হাফেজ তো নাবালেগ, সুতরাং তার ইমামতি সহীহ হবে না। একথাও বলেন যে, বালেগ হওয়ার জন্য পনের বছর পূর্ণ হতে হবে।

এখন জানার বিষয় হল, ছেলে বালেগ হওয়ার জন্য পনের বছর হওয়া জরুরী কি-না? নাকি এর থেকে কম হলেও বালেগ হওয়া সম্ভব? এবং উক্ত হাফেয সাহেব যদি বলেন, ‘আমি বালেগ হয়েছি’। তার এই বক্তব্য গ্রহণযোগ্য হবে কি না? দলীল সহকারে বিস্তারিত জানালে উপকৃত হব।

সমাধানঃ কুরআন-হাদীস ও ফিকাহশাস্ত্রের গ্রহণযোগ্য কিতাবাদি অধ্যয়নে এ কথা প্রামাণিত হয় যে, ছেলে বালেগ বা প্রাপ্তবয়স্ক হওয়ার একাধিক আলামত রয়েছে। যথা- স্বপ্নদোষ হওয়া। ঘুমে অথবা জাগ্রত অবস্থায় বীর্যপাত হওয়া। দাড়ি-গোঁফ, নাভির নীচে, বগলের নীচে পশম ইত্যাদি দেখা যাওয়া। কথার স্বর ভারী হওয়া। উল্লিখিত আলামতগুলো হল, মানুষের স্বভাবগত বা বাহ্যিক আলামত।

উক্ত আলামতের মাধ্যমে যদি বালেগ হওয়ার পরিচয় লাভ করা সম্ভব না হয়, তাহলে বয়সের মাধ্যমে বালেগ হওয়া না হওয়া নির্ভর করবে। আর বয়সের মধ্যে তিনটি বর্ণনা পাওয়া যায়। যথা- ১৮ বছর, ১৫ বছর, অথবা ১২ বছর। মানুষের স্বভাবের মধ্যে যেহেতু তারতম্য রয়েছে, সেহেতু বয়সের মধ্যেও তারতম্য হওয়া স্বভাবিক।

আল্লামা মুহাম্মদ বিন হুসাইন (রাহ.) বলেন, যদি ১২ বছর পূর্ণ হয়েছে- এমন কোনো ছেলে বলে, আমি বালেগ হয়েছি, তাহলে তা গ্রহণযোগ্য হবে। ১২ বছর থেকে কম হলে এমন দাবী গ্রহণযোগ্য হবে না। (বাহরুর রায়েক- ৯/১৫৪)। সুতরাং আপনাদের মসজিদের হাফেয সাহেবের বয়স যেহেতু চৌদ্দ বছর ছয় মাস হয়েছে, সেহেতু তার কথা ধর্তব্য হবে। সে যে দশদিন তারাবীর নামাযের ইমামতি করেছে, সেসব নামাযও সহীহ হয়েছে। বালেগ হওয়ার জন্য পনের বছর হতে হবে, তা যদি বয়স হিসাবে হয়। এর থেকে কম বেশির মধ্যেও বালেগ হতে পারে যদি উল্লিখিত নিদর্শনগুলো থেকে কোনো একটি পাওয়া যায়। (নাসবুর রায়া- ৪/১৬১, আদ্দুররুল মুখতার- ৯/২২৭, বাহরুর রায়েক- ৯/১৫৪, ফাতহুল ক্বাদীর- ৯/২৭৬, আল-ফিক্বহুল ইসলামী ওয়া আদিল্লা- ৫/৪২৪)।

 

হালাল প্রাণী জবাই এবং মৃত মাছের বিধান প্রসঙ্গে

(৭৯২১) মাওলানা এনায়েতুল্লাহ, উছখালী, হাতিয়া, নোয়াখালী।

জিজ্ঞাসাঃ (ক) রোগাক্রান্ত প্রাণী জবাই করার পর নড়াচড়া করলে এবং রক্ত বের না হলে, তার গোশত খাওয়া হালাল হবে কি না?

(খ) পুকুরে, ঝিলে বা অন্য কোথাও মাছ মারা গেলে খাওয়া জায়েয হবে কি না? এক মাওলানা সাহেব বলেন, খাওয়া যাবে না। বিস্তারিত জানালে উপকৃত হবো।

সমাধানঃ (ক) শরীয়তের নির্ভরযোগ্য গ্রন্থাদি অধ্যয়নে এ কথা প্রামাণিত হয় যে, কোনো রোগাক্রান্ত প্রাণী জবাই করার পর যদি নড়াচড়া করে, যেমন মুখ বন্ধ করে, চোখ বন্ধ করে, দুই পা গুটিয়ে নেয় এবং শরীরের পশম খাড়া হয়, অথবা রক্ত প্রবাহিত হয়, তাহলে ঐ প্রাণী খাওয়া জায়েয হবে। আর যদি নড়াচড়া না করে অথবা রক্ত বের না হয়, তাহলে খাওয়া জায়েয হবে না।

(খ) মাছ যদি পুকুরে ঝিলে বা অন্য কোথাও মৃত পাওয়া যায় এবং মৃত্যু কোনো কারণবশত হয়, যেমন আঘাতজনিত অথবা অধিক গরম,  অধিক ঠান্ডা, পানি স্বল্পতা এবং রোগাক্রান্ত হয়ে মারা যায়, তাহলে এ জাতীয় মাছ খাওয়া জায়েয হবে। আর যদি কোনো কারণ ছাড়া মারা যায়, তাহলে এ ধরণের মাছ খাওয়া জায়েয হবে না। (দুররুল মুখতার-৯/৫১৪, আল-জাওহারাতুন নায়ারা- ২/২৬৪, বাহরুর রায়েক- ৮/১৭৩, হিদায়া- ৪/৪২৬, বাদায়েউস সানায়ে- ৪/১৪৫, রদ্দুল মুহতার- ২৬/১২৩)।

 

মাসবুকের নামায প্রসঙ্গে

(৭৯২২) আব্দুল জাব্বার, পলাশ, নরসিংদী।

জিজ্ঞাসাঃ আমার জানার বিষয় হলো, যদি কোনো মাসবুক (যার এক রাকাত বা ততোধিক রাকাত জামাত থেকে ছুটে যায়) ইমামের সঙ্গে সালাম ফিরায়, তাহলে তার নামায নষ্ট হবে কি?

সমাধানঃ ফিক্বহের নির্ভরযোগ্য কিতাবাদি অধ্যয়নে প্রমাণিত হয় যে, যদি মাসবুক ব্যক্তি ভুলে ইমামের সঙ্গে সঙ্গে বা আগে সালাম ফিরায়, তাহলে তার নামায নষ্ট হবে না এবং সিজদায়ে সাহুও আদায় করতে হবে না। হ্যাঁ, যদি ভুলে ইমাম সাহেবের পরে অর্থাৎ- ইমামের প্রথম সালামের (লফয সালামের) মীম সমাপ্তির পর যদি মাসবুক সালাম ফিরায়, তাহলে সিজদায়ে সাহু আদায় করতে হবে। তবে যদি ইমামের পরে ইচ্ছাকৃত সালাম ফিরায়, তখন নামায নষ্ট হয়ে যাবে এবং পুনরায় আদায় করতে হবে। (বাদায়েউস সানায়ে- ১/৪২২, ও ১/৪৫৭, ফতহুল কাদ্বীর- ১/২৭৯, বাহরুর রায়েক- ২/১৬৯, ফাতাওয়ায়ে তাতারখানিয়া- ২/৪২৬, ফাতাওয়ায়ে আলমগীরী- ১/৯১, মারাকিউল ফালাহ- ২৫১ পৃষ্ঠা)।

 

জানাযার ইমামতি প্রসঙ্গে

(৭৯২৩) আব্দুল কাদের, আজিজিয়া, সন্দ্বীপ, চট্টগ্রাম।

জিজ্ঞাসাঃ জানাযার নামাযে ইমামতি করে ভাতা নেওয়া জায়েয আছে কি না?

সমাধানঃ জানাযার নামাযের ইমামতি করে ভাতা গ্রহণ জায়েয হবে না। (ফাতাওয়ায়ে শামী- ৯/৭৬, বাদায়েউস সানায়ে- ৪/৪৪, তাবয়ীনুল হাকায়েক- ২/১১৭, ফাতহুল কদীর- ৬/৯৮, ফাতাওয়ায়ে মাহমুদিয়া- ২২৫, ফাতাওয়ায়ে হিন্দিয়া- ৪/৪৪৮)।

 

রোযার ফিদয়া প্রসঙ্গে

(৭৯২৪) নাম-ঠিকানা বিহীন।

জিজ্ঞাসাঃ এক ব্যক্তি বার্ধক্যের কারণে খুব বেশি অসুস্থ, রোযা রাখার শক্তি নেই। ভবিষ্যতে সুস্থ হওয়ার সম্ভাবনাও নেই। সুতরাং রমযান মাসের ৩০ রোযা না রাখার কারণে তার উপর কয়টি ফিদয়া আসবে, আর ফিদয়ার পরিমান কত? একজন গরীবকে ৩০টি ফিদয়া দেওয়া যাবে কি? জানালে উপকৃত হবো।

সমাধানঃ ফিক্বাহশাস্ত্রের নির্ভরযোগ্য কিতাবাদির আলোকে প্রমাণিত হয় যে, প্রশ্নে উল্লিখিত বর্ণনা মোতাবেক বার্ধক্যের কারণে দুর্বল অসুস্থ ব্যক্তির উপর ত্রিশ রোযা না রাখার দরুন ত্রিশ ফিদয়া দিতে হবে। ফিদয়ার পরিমাণ হল সদকাতুল ফিতর এর সমান। সদকাতুল ফিতর, যেমন- এক সা’ (তিন কেজি ২৫৬ গ্রাম) খেজুর, যব, পনির ও কিসমিস অথবা আধা সা’ (এক কেজি ৬৩৬ গ্রাম) গম (এর যে কোন একটি পরিমাপ) দ্বারা আদায় করতে হয়। ফিদয়াও উল্লিখিত শ্রেণীর সমপরিমান খাদ্যদ্রব্যের যেকোনো একটি দ্বারা একটি ফিদয়া আদায় হবে এবং এগুলোর মূল্য পরিশোধ দ্বারাও আদায় হবে। একজন (গরীব-মিসকীন)কে ত্রিশ ফিদয়া একসাথে দেওয়া যাবে। (বাদায়েউস সানায়ে-২৫২, দুররুল মুখতার- ৪২৭, হাশিয়ায়ে তাহতাবী- ৪৬৫)।

 

যাকাত প্রসঙ্গে

(৭৯২৫) মুহাম্মদ আব্দুল্লাহ, হালিশহর, চট্টগ্রাম।

জিজ্ঞাসাঃ আমি একজন বড় ব্যবসায়ী। আমার কাছে ব্যবসায়ী পণ্য বিদ্যমান রয়েছে, তবে সেটা এখনো বিক্রি হয়নি। এই পণ্য আমি যাকাত হিসাবে দিতে পারব কি? সঠিক উত্তর জানানোর অনুরোধ রইল।

সমাধানঃ হ্যাঁ, যাকাত হিসাবে আপনি ব্যবসায়িক পণ্য দিতে পারবেন। ব্যবসায়ী পণ্যের যাকাতের ক্ষেত্রে এটা জরুরী নয় যে, যাকাত হিসেবে নগদ টাকা দিতে হবে। বরং যেই পণ্যের যাকাত দেওয়া হবে, সেই পণ্য দিয়েও যাকাত আদায় করা যাবে।

তবে যদি সেই পণ্যটি সাধরণ পর্যায়ে ব্যবহার না হয় এবং গরীব অসহায়দেরও কোনো উপকারে না আসে, তাহলে উচিত হলো, সেই পণ্যের আনুমানিক একটি মূল্য ধরে সে অনুপাতে নগদ টাকা দিয়ে যাকাত আদায় করা। (ফাতাওয়ায়ে হিন্দিয়া- ১/১৯২, বাদায়েউস সানায়ে- ২/১৬, ফাতাওয়ায়ে রহিমিয়া- ১/১৬০, হিদায়া- ১৭০)।

 

বিতরের নামায প্রসঙ্গে

(৭৯২৬) ফয়সাল মামুন, লক্ষীপুর।

জিজ্ঞাসাঃ বিতরের তৃতীয় রাকাতে ইমাম যদি ভুলে দোয়ায়ে কুনূত ছেড়ে দেয় এবং রুকুতে যাওয়ার পর স্মরণ হয়, তখন ইমাম পুনরায় দাঁড়িয়ে দোয়ায়ে কুনূত পড়বে কি-না?

সমাধানঃ ফিক্বহে ইসলামীর গ্রহণযোগ্য কিতাবাদি অধ্যয়নে প্রমাণিত হয় যে, ইমাম সাহেব দোয়ায়ে কুনূত পড়ার জন্য পুনরায় দাঁড়াবে না, বরং শেষে সিজদায়ে সাহু করবে। (দুররুল মুখতার- ২/৫৩৮, বাদায়েউস সানায়ে- ১/৬১৫, বাহরুর রায়েক- ১/৭৫, ফাতাওয়ায়ে হিন্দিয়া- ১/১৭০)।

 

তালাক প্রসঙ্গে

(৭৯২৭) মুহাম্মদ মুশফিকুর রহমান, টঙ্গীবাড়ি, মুন্সীগঞ্জ।

জিজ্ঞাসাঃ তিন তালাকপ্রাপ্তা মহিলাকে হালাল করার নিয়ম কী? হালাল করার জন্যে দ্বিতীয় স্বামীর সাথে রাত যাপন বা সহবাস করা কি শর্ত? যদি কেউ হালালকারীর সাথে এমন শর্ত করে যে, তোমার সাথে বিবাহ হওয়ার পর তাকে সহবাস করা ব্যতিত তালাক দিবে, তবে কি এরকম শর্ত করা শরীয়ত মোতাবেক সহীহ হবে? উল্লিখিত বিষয়টি দলীলসহ জানিয়ে উপকৃত করার জন্য অনুরোধ রইল।

সমাধানঃ কুরআন-হাদীস এবং ফিক্বাহশাস্ত্রের নির্ভরযোগ্য কিতাবাদির আলোকে প্রমাণিত হয় যে, তিন তালাকপ্রাপ্তা মহিলা প্রথম স্বামীর জন্য হালাল হওয়ার শর্ত হল, প্রথম স্বামীর তালাকের পর সে ইদ্দত শেষ করবে এবং দ্বিতীয় স্বামী গ্রহণ করে তার সাথে সহবাসের পর দ্বিতীয় স্বামী তাকে তালাক দিলে অথবা সে ইন্তিকাল করলে পুনরায় ইদ্দত পালন করতে হবে। আর তখনই এই স্ত্রী প্রথম স্বামীর জন্য পুনরায় বিবাহ করা হালাল হবে।

আর হালাল করার ক্ষেত্রে কোনোরূপ শর্ত করা জায়েয নেই। (সূরা বাকারা- ২৩০, সহীহ বুখারী- ২/৬৫২, হিদায়া মাআ দিরায়া- ২/৩৯৯)।

 

তারাবীর নামায প্রসঙ্গে

(৭৯২৮) নিজাম উদ্দীন আক্কেলপুর, জয়পুরহাট।

জিজ্ঞাসাঃ গত রমযানে একজন আলেম ইমাম তারাবির নামায পরপর ২ দিন ৮ রাকাত নামায পড়ে জামাত শেষ করেন। ইমাম সাহেবকে জিজ্ঞাসা করলে তিনি বলেন যে, আমি একজন মুফতির নিকট শুনেছি, নামায হয়েছে। এতে এলাকায় মুসল্লিদের মধ্যে মতবিরোধ দেখা যায়। আমি তার সাথে ব্যক্তিগতভাবে পরিচিত। তাকে বলি যে, আপনি এলাকায় দলীল হয়ে থাকলেন। হয়তো আপনার নামায নফল হিসাবে হয়েছে, তারাবির নামায হয়নি। উক্ত ইমাম সাহেব একজন হানাফি মাযহাবভুক্ত এবং হাটহাজারী মাদ্রাসায় পড়েছেন। উক্ত বিষয়টি বিবেচনা করে তারাবির নামাযের সঠিকতা সম্পর্কে শরীয়তের বস্তুনিষ্ঠ ব্যাখ্যা জানতে চাই।

সমাধানঃ ইসলামের স্বর্ণযুগ তথা সাহাবায়ে কেরাম, তাবেয়ীন, তবে-তাবেয়ীনের যুগ থেকে চলে আসা নিয়ম অনুযায়ী গোটা ইসলামী দুনিয়ায়, পশ্চিম থেকে পূর্ব পর্যন্ত এক অবিচ্ছিন্ন কর্মধারা ও ইজমায়ে উম্মতের মাধ্যমে প্রতি মসজিদে বিশ রাকাআত তারাবীহ পড়া হয়। এই ভূখন্ডে ইংরেজের অশুভ অনুপ্রবেশের আগে বিশ রাকাআত তারাবীর চেয়ে কম তারাবীর নামায কোনো মসজিদে হত, এমন কোনো প্রমাণ কেউ দেখাতে পারবে না। তারাবীর নামায বিশ রাকাআত, মাসআলাটি অকাট্য এবং শক্তিশালী। অনেক দলীল দ্বারা প্রমাণিত, যা এখানে একেবারে সংক্ষিপ্ত আকারে উল্লেখ করা হল। যথা-

১. খুলাফায়ে রাশেদীনের সুন্নাহ। ২. মুহাজির ও আনসারী সাহাবীগণের ইজমা। ৩. মারফু হুকমী। ৪. সুন্নাতে মুতাওয়ারাসা। ৫. এবং ফুক্বাহায়ে কিরামের ইজমা। প্রত্যেকটি দলীল স্পষ্ট ঘোষণা দেয় যে, তারাবী নামায বিশ রাকাআত। আর যারা আট রাকাআতে সীমাবদ্ধ মনে করেন এবং বিশ রাকাত মাসনূন হওয়াকে অস্বীকার করেন, তারা একটি মারাত্মক ভুলের মধ্যে আছেন। উপরন্তু এ বিষয়ে একটি মারফূ হাদীসও আছে, যা অত্যন্ত স্পষ্ট এবং উপরোক্ত দলীলসমূহের ভিত্তিতে গ্রহণযোগ্য, মুতাওয়াতির পর্যায়ের।

এছাড়াও সহীহ হাদীসে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের সুন্নাহর পাশাপাশি খুলাফায়ে রাশেদীনের সুন্নাহ অনুসরণ করার এবং সেটাকে মজবুতভাবে অবলম্বন করার আদেশ রয়েছে।

হাদীসে ইরশাদ এসেছে, “মনে রেখো! আমার পরে তোমরা যারা জীবিত থাকবে, তারা বহু মতানৈক্য দেখতে পাবে। তখন আমার সুন্নাহ ও আমার হিদায়াতপ্রাপ্ত খলীফাগণের সুন্নাহকে আঁকড়ে রাখবে। একে অবলম্বন করবে এবং মাড়ির দাঁত দিয়ে প্রাণপণে কামড়ে রাখবে। এবং তোমরা (ধর্মীয় বিষয়ে) নবআবিষ্কৃত বিষয়াদি থেকে খুব সতর্কতার সাথে বেঁচে থাকবে। কেননা, প্রতিটি নবআবিষ্কৃত বিষয় বিদআত। আর প্রতিটি বিদআত হল, পথভ্রষ্টতা”। (সুনানে আবু দাউদ, হাদীস ৪৬০৭, জামে তিরমিযী- ৫/৪৩, হাদীস ২৬৭৬, মুসনাদে আহমাদ- ৪/১২৬ হাদীস- ১৬৬৯২, সুনানে ইবনে মাজাহ, হাদীস- ৪২, সহীহ ইবনে হিববান হাদীস- ৫)।

উপরোক্ত দলীলসমূহের বিরোধিতার মাধ্যমে গোটা মুসলিম উম্মাহর অনুসৃত পথ থেকে বিচ্যুত হয়ে আমাদের যে বন্ধুরা এই নতুন পন্থা উদ্ভাবন করেছেন (শুধু আট রাকাআত পড়া এবং বিশ রাকাআতকে বিদআত বা নাজায়েয আখ্যা দেওয়া), তাদেরকে যখন জিজ্ঞেস করা হল, আপনাদের কাছে তারাবী আট রাকাআতে সীমাবদ্ধ হওয়া এবং বিশ রাকাআত নাজায়েয হওয়ার দলীল কী? তখন সর্বসাকুল্যে তারা যা উপস্থাপন করেন, তা নি¤œরূপ-

১. তারা তাহাজ্জুদ বিষয়ক একটি সহীহ হাদীসের ভুল ব্যাখ্যা করে তা তারাবীর ব্যাপারে প্রয়োগ করেন। বলেন, তারাবীহ ও তাহাজ্জুদ এক নামাযেরই দুই নাম। যে নামায এগারো মাস তাহাজ্জুদ থাকে, সেটা কিনা রমযানে তারাবীহ হয়ে যায়। তাদেরকে যখন চ্যালেঞ্জ দেওয়া হল যে, তারাবীহ তাহাজ্জুদ একই নামায, এটা সহীহ হাদীস দ্বারা প্রমাণ করুন এবং আরো প্রমাণ করুন তাহাজ্জুদ নামায আট রাকাআতের বেশি পড়া যায় না। তখন তাদের পক্ষে কোনো কথাই হাদীস দ্বারা প্রমাণ করা সম্ভব হয়নি এবং তারা কখনোই এর সপক্ষে প্রমাণ উপস্থাপন করতে পারবেও না। (সুনানে বাইহাকী- ২/৪৯৬, নাসবুর রায়া- ২/১৫৪, মুসলিম শরীফ- ১১০৪, মুসান্নিফ ইবনে আবী শাইবা- ৫/২২৪ ও ৫/২৮৫, মাজমুআল ফাতাওয়া- ২৩/১১২-১১৩, সূরা নিসা- ১১৫)।

 

বিবিধ প্রসঙ্গে

(৭৯২৯) মুহাম্মদ শাহাদাত আলম, শ্যামপুর ডিগ্রী কলেজ, শ্যামপুর, রংপুর।

জিজ্ঞাসাঃ আমি কয়েকটি বিষয়ে জানতে ইচ্ছুক। যথা- (ক) আল্লাহর নূরে নবী তৈরী। নবীর নূরে জগৎ তৈরী। এ আক্বীদা কতটুকু ইসলাম সম্মত?

(খ) “বিদায় বেলায় মোরে দিওগো দেখা হে প্রিয় রাসূল”, এই গানটি ইসলামী আক্বীদার কতটুকু অনুকূল?

(গ) নবীর কাজকে যারা কাজ বানাবেন, নবী কবরে তাদের সাথে মোয়ানাকা করবেন। এ কথা সহীহ কি-না?

সমাধানঃ (ক) আল্লাহর নূরে নবী তৈরী, নবীর নূরে জগৎ তৈরী; এটি একটি ভ্রান্ত আক্বীদা। কারণ, আল্লাহ কুরআনে বলেছেন, হে নবী আপনি বলে দিন আবশ্যই আমি তোমাদের মত মানুষ। এবং হাদীসের ভাষ্য মতে মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আল্লাহর বান্দা ও রাসূল। আল্লাহ তাআলা হলেন স্রষ্টা, আর রাসূল (সা.) হলেন সৃষ্টি। আর সৃষ্টি কখনো স্রষ্টার অংশ হতে পারে না। তাই এ ধরনের ভ্রান্ত আক্বীদা হতে আমাদেরকে বিরত থাকতে হবে।

(খ) এই গানটি যদি একাকি এই খেয়ালে গায় যে, হে আল্লাহ, আমাকে মরণের আগে স্বপ্নযুগে হলেও রাসূল (সা.)এর সাথে দেখা করিয়ে দিও। তাহলে তাতে কোনো অসুবিধা নেই।

আর যদি রাসূল (সা.)কে হাযির নাযির মনে করে এ গানটি গায়, তাহলে তা শিরক হবে। তা থেকে বেঁচে থাকা অপরিহার্য। অথবা শুধু নবীর মুহাব্বতে কোনো ধরনের খেয়াল ছাড়া গাইতে পারবে।

(গ) “নবীর কাজকে যারা কাজ বানাবে, নবী কবরে তাদের সাথে মোয়ানাকা করবেন” এ কথাটি সঠিক নয়। কেননা, হাদীস শরীফে এ কথার বিপরীতে এভাবে বর্ণিত আছে যে, বান্দা যখন মুনকার নাকীরের তিন প্রশ্নের উত্তর সঠিকভাবে দিবে, তখন আসমান থেকে আল্লাহ তাআলা ডেকে বলবেন, আমার বান্দা ঠিক বলেছে। তাই তার জন্য জান্নাতের বিছানা বিছিয়ে দাও এবং তাকে জান্নাতের পোশাক পরিয়ে দাও, জান্নাতের দিকে একটি দরজা খুলে দাও। অতঃপর দরজা খুলে দেওয়া হবে। তা দিয়ে জান্নাতের বাতাস ও সুঘ্রাণ আসতে থাকবে এবং কবর দৃষ্টি অনুপাতে প্রশস্ত করে দেয়া হবে। হাদীসে মোয়ানাকার কথা আসেনি। তাই এ ধরনের আক্বীদা হতে বিরত থাকতে হবে। (সূরা কাহাফ- ১১০, কিফায়াতুল মুফতী- ১/৯১, ইমদাদুল আহকাম- ১/৪০, ফাতাওয়ায়ে রশিদিয়া- ১০৩, তিরমিযী শরীফ- ২/৫৩, মিশকাত- ১/২৫)।

 

মসজিদে টাকা দিয়ে ফেরত নেওয়া প্রসঙ্গে

(৭৯৩০) মুহাম্মদ আব্দুর রহমান, ভোলা।

জিজ্ঞাসাঃ আমাদের এলাকায় বিগত ২০১২ সালের ইউপি নির্বাচনে মেম্বার প্রার্থী আব্দুশ শহীদ গাজী সাহেব ৫,০০০ টাকা আমাদের মসজিদে দান করে বললেন, আপনারা আমাকে ভোট দিবেন। কিন্তু নির্বাচনের দিন অনেকেই তাকে ভোট দেয়নি। গাজী সাহেব উক্ত নির্বাচনে জয়যুক্তও হননি। অতঃপর গাজী সাহেব টাকা ফেরত চাইলো, কিন্তু উক্ত টাকা মসজিদের কাজে ব্যয় হয়ে গেছে। তাই তাকে টাকাও ফেরত দেওয়া হয়নি। এখন আমাদের জানার বিষয় হলো, এই ধরনের অনুদান আমাদের নেওয়া ও তার দেওয়া সঠিক হয়েছে কি না? এবং টাকার বিনিময়ে ভোট ক্রয়-বিক্রয় জায়েয আছে কি-না? বিস্তারিত জানালে উপকৃত হতাম।

সমাধানঃ বর্তমান যামানায় নির্বাচনের পূর্বে প্রার্থীরা ভোটারদের মাঝে যে টাকা পয়সা, চা-নাস্তা ইত্যাদি বিতরণ করে থাকেন, তা ভোটারদেরকে নিজের সপক্ষে ভোট প্রদানের উদ্দেশ্যেই দিয়ে থাকেন। আর সাক্ষীকে নিজের পক্ষে সাক্ষ্য প্রদানের জন্য কোনো কিছু দেয়া ঘুষের অন্তর্ভুক্ত। তাই ভোটের ক্রয় বিক্রয় নাজায়েয ও হারাম। কেননা ভোট প্রদান করা মানুষের ব্যক্তিগত অধিকার, যাকে শরয়ী পরিভাষায় হক বলে। আর হকের ক্রয় বিক্রয় নাজায়েয।

প্রার্থী যদি প্রকৃতপক্ষে নিঃস্বার্থে মসজিদে দান করে থাকেন, তাহলে তার উক্ত টাকা দান করা জায়েয হয়েছে এবং মসজিদ কর্তৃপক্ষের জন্য তা গ্রহণ করাও জায়েয হয়েছে। তাই কোনোক্রমেই উক্ত টাকা ফেরত দেওয়া ও তার নেওয়া জায়েয হবে না। চাই উক্ত টাকা মসজিদের কাজে ব্যয় হোক বা না হোক। আর যদি প্রার্থী উক্ত টাকা ঘুষ হিসেবে দিয়ে থাকে, তাহলে তার উক্ত টাকা ফেরত দিতে হবে। (কানযুল উম্মাল, হাদীস নং- ১৫০৮০, ফাতহুল ক্বাদীর- ৮/৩ ও ৯/৫৭ ফাতাওয়ায়ে আলমগীরী- ৪/৪৩৪, মুহীতে বোরহানী- ৭/২০২)।

 

টেস্টটিউব বেবি প্রসঙ্গে

(৭৯৩১) মুহাম্মদ আতাউর রহমান, মাগুরা।

জিজ্ঞাসাঃ টেস্টটিউব বেবির কয়েকটি পদ্ধতির দু’টি পদ্ধতি হলো- ১. স্বামী-স্ত্রীর শুক্রাণু ও ডিম্বানু মেশিনের মাধ্যমে সংগ্রহ করে বৈজ্ঞানিক পাত্রে রাখার পর নিশিক্ত করে নির্দিষ্ট প্রক্রিয়া শেষে মেশিনের মাধ্যমে স্ত্রীর জারায়ুতে প্রবেশ করানো। ২. নিজ স্ত্রী ব্যতীত অন্য মহিলার ডিম্বানু সংগ্রহ করে উল্লিখিত বর্ণনা অনুযায়ী নিজ স্ত্রীর জরায়ুতে প্রবেশ করানো।

এ পর্যায়ে আমার প্রশ্ন হচ্ছে, আমি দীর্ঘদিন যাবত, অর্থাৎ- ১১ বছর যাবত বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ হয়েছি। কিন্তু দুঃখের বিষয় আমার স্ত্রীর মারাত্মক শারীরিক সমস্যার কারণে আমার কোনো সন্তানাদি হচ্ছে না। যার কারণে সুখের সংসার দুঃখে পরিণত হতে চলেছে। এমনকি সংসার ভেঙে যাওয়ারও আশংকা রয়েছে। তাই ডাক্তার আমাকে পরামর্শ দিয়েছেন যে, উপরে উল্লিখিত দু’টি পদ্ধতির প্রথম পদ্ধতিটি গ্রহণ করলে আল্লাহ চাহে তো সন্তান ধারণের সম্ভাবনা ২০ ভাগ পর্যন্ত আশা করা যায়। আর দ্বিতীয় পদ্ধতিটি অবলম্বন করলে সন্তান ধারণের সম্ভাবনা প্রায় ৮০ ভাগ পর্যন্ত রয়েছে।

এখন আমার জানার বিষয় হল, আমি বিশেষভাবে দ্বিতীয় পদ্ধতিটি গ্রহণ করতে পারবো কি না? আর দ্বিতীয়টি না পারলে প্রথম পদ্ধতিটি গ্রহণ করাতে কোনো ধরনের অসুবিধা হবে কি না?

উল্লেখ্য, বিজ্ঞ মহিলা ডাক্তার না থাকায় পুরষ ডাক্তারের মাধ্যমে চিকিৎসা নেওয়া কেমন হবে?

সমাধানঃ ইসলামী শরীয়তে বিশেষ প্রয়োজনে স্বামী-স্ত্রীর বীর্য সংমিশ্রনের মাধ্যমে টেস্টটিউব বেবির অনুমোদন পাওয়া যায়। তাই প্রশ্নে উল্লিখিত সমস্যার কারণে আপনি প্রথম পদ্ধতিটি গ্রহণ করতে পারবেন। আর এটা যদি স্বামী স্ত্রীর মাধ্যমেই সম্ভব হয় তাহলে ভাল। আর যদি কোনো ডাক্তারের শরণাপন্ন হতে হয়, তাহলে দৃঢ় বিশ্বাস থাকতে হবে যে, উক্ত স্বামীর শুক্রই স্ত্রীর গর্ভাশয়ে প্রবেশ করানো হবে। তাহলে তার দ্বারা যদি স্ত্রী গর্ভবতী হয় তবে সন্তানটি বৈধ এবং নিজের বংশীয় বলে গণ্য হবে। আর প্রশ্নে উল্লিখিত দ্বিতীয় পদ্ধতিটি জায়েয হবে না।

ইসলামে সতর ঢেকে রাখা ফরয। সতর দেখা বা দেখানো কোনটাই জায়েয নয়। তবে বিশেষ প্রয়োজনের ক্ষেত্রে মহিলাদের জন্য মহিলা ডাক্তার এবং পুরুষদের জন্য পুরুষ ডাক্তার চিকিৎসার প্রয়োজন পুরণ করার অনুমতি আছে। আর যদি মহিলাদের জন্য মহিলা বিজ্ঞ ডাক্তার না পাওয়া যায়, তবে দ্বীনদার পুরুষ ডাক্তারের কাছে প্রয়োজন সারাতে পারলে ভাল। (বাহরুর রায়েক- ৪/৪৫২, সূরা বাকারা- ১৭৩, আশবাহুন নাজায়ের- ১/২৫২, ২৫১,আল-ফিকহুল ইসলামী ওয়া আদিল্লাতুহু- ৩/৫৫৯ ও ৩/৫৬৩)।

 

দোকানে টিভি বিক্রয় প্রসঙ্গে

(৭৯৩২) মুহাম্মদ আবু তাহের, বাথুয়া, চট্টগ্রাম।

জিজ্ঞাসাঃ ওয়ালটন শো রুমে কোম্পানির অন্যান্য পণ্যের পাশাপাশি টিভি বিক্রি করতে চাই। এবং টিভি বিক্রির সময় আমরা তা দেখব না, তবে শুধু ক্রেতাকে চালিয়ে দেখাব। এখন আমার জানার বিষয় হল, এ অবস্থাতে আমাদের শো রুমে টিভি বিক্রি করতে পারব কি না? অনুগ্রহ পূর্বক জানালে কৃতজ্ঞ হব।

সমাধানঃ টিভি অধিকাংশ ক্ষেত্রেই নাচ-গান, খেলা-ধূলা, পরনারী, অশ্লীল ছবি প্রদর্শনের জন্যই ব্যবহার হয়। তাই এগুলো মানব সমাজে অতি ধ্বংসাত্মক প্রতিক্রিয়া বিস্তার করে। এসব বিনোদনের ফলে বেহায়াপনা, নির্লজ্জতা এতটা বৃদ্ধি পেয়েছে, যার কারণে সামাজিক অবকাঠামো সম্পূর্ণ বিনষ্ট হয়ে সর্বজনবিদিত মানবিক মূল্যবোধের কবর রচিত হয়েছে। মানবতা ও ধর্মীয় মূল্যবোধ ধ্বংসের সব চেয়ে বড় হাতিয়ার হিসেবে পরিণত হয়েছে এগুলো। ফলে টিভি ব্যবহার বহু অপরাধ বিষয়ক বস্তুর মিলনকেন্দ্র হওয়ায় শরয়ী দৃষ্টিকোণ থেকে তা বর্জনীয়, অবৈধ ও মারাত্মক গুনাহের কারণ। তাই টিভি ব্যবসার মাধ্যমে মানুষকে গুনাহের কাজের প্রতি উৎসাহিত এবং সাহায্য করা হয়। আর এ ব্যাপারে কুরআনে কারিমে নিষেধ করা হয়েছে। আল্লাহ তাআলা ইরশাদ করেন, তোমরা সৎকর্ম ও খোদাভীতিতে একে অন্যের সহযোগিতা কর, পাপ ও সীমালঙ্ঘনের ব্যাপারে একে অন্যের সহায়তা করো না”। (সূরা মায়েদা- ২)।

আরো ইরশাদ করেন, “যে লোক সৎকাজের জন্য কোনো সুপারিশ করবে, তা থেকে সেও একটি অংশ পাবে। আর যে লোক সুপারিশ করবে মন্দ কাজের জন্য, সে তার পাপের একটি অংশ বহন করবে”। (সূরা নিসা- ৮৫)। সুতরাং আপনার জন্য টিভি বিক্রি করা জায়েয হবে না। কারণ টিভি বৈধ কাজের জন্য ব্যবহার করা গেলেও মানুষ তা অবৈধ কাজেই অধিক ব্যবহার করে থাকে। (মায়েদা- ২, নিসা- ৮৫, তিরমিযী- ২/১৫৪, জাওয়াহিরুল ফিক্বহ- ২/৪৪২, রদ্দুল মুহতার- ৪/২৬৮, আহসানুল ফাতাওয়া- ৮/৩০৬)।

 

একত্রে মহিলাদের তাবলীগ এবং তালীম প্রসঙ্গে

(৭৯৩৩) মুহাম্মদ হুসাইন আহমদ জাকির, বরিশাল।

জিজ্ঞাসাঃ (ক) মাহরাম পুরুষ ব্যতীত মহিলারা বাড়ি বাড়ি তাবলীগ এবং তালীম করা ও ইসলামের দাওয়াত দেওয়া শরীয়ত সম্মত কি-না?

(খ) আমাদের এলাকায় অন্য এলাকা থেকে মহিলারা এসে তালিম করে এবং যে বাড়িতে তালিমের স্থান নির্ধারিত হয়, সে বাড়িতে আমাদের এলাকার মহিলারাসহ অন্য এলাকার মহিলারা এসে তালিম শোনে। অনুরূপভাবে এক বাড়িতে তালিম হয়, অন্য বাড়ির মহিলারা যোগ দিয়ে তালিম শোনে। আবার, একই বাড়িতে এক ঘরে তালিম হয় অন্য ঘরের মহিলারা যোগ দেয় এবং তালীম শোনে।

উল্লেখ্য যে, উক্ত তালীম করনেওয়ালী মহিলাদের মধ্যে বে-আলেমা বা দ্বীন সম্পর্কে পূর্ণ জ্ঞান নেই এমনও আছে। এখন প্রশ্ন হলো, এদের সম্পর্কে শরীয়তের হুকুম কী? দলীলসহ বিস্তারিত জানালে কৃতজ্ঞ থাকবো।

সমাধানঃ (ক) মহিলারা বাড়ি বাড়ি তাবলীগ এবং তালীম করা শরীয়তের দৃষ্টিতে জায়েয হবে না। হ্যাঁ, যদি মাহরাম সাথে থাকে, তাহলে পরিপূর্ণ পর্দার সাথে, শরীয়তের সীমার মধ্যে থেকে, তাবলীগের মুরুব্বীদের পক্ষ থেকে যে সমস্ত শর্তারোপ করা হয়েছে, তা মেনে তাবলীগের নিসবতে, মহিলারা মাস্তুরাত ও তালীমের পয়েন্টে যেতে পারবেন।

(খ) অনুরূপভাবে মহিলারা তালীম শোনার জন্য এক বাড়ি থেকে অন্য বাড়ি অথবা এক বাড়িতে এক ঘর থেকে অন্য ঘরে, মাহরাম ব্যতীত যাওয়া জায়েয হবে না। তবে ফিতনার আশঙ্কা না থাকলে এক বাড়িতে এক ঘর থেকে আরেক ঘরে মাহরাম ব্যতীত যাওয়ার অবকাশ রয়েছে। কিন্তু তালীমের ক্ষেত্রে লক্ষণীয় বিষয় হল, তালীম এমনভাবে করবে না, যাতে পর পুরুষরা আওয়ায শুনতে পায়।  যেমন উচ্চ আওয়াযে, অথবা মাইকের মাধ্যমে। (বুখারী শরীফ- ১/২০, মুয়াত্তায়ে মালিক- ২০, ফাতাওয়ায়ে শামী- ২/৭৯, ফাতাওয়ায়ে রহিমিয়া- ৫/১৪৭ পৃষ্ঠা)।

 

মহর প্রসঙ্গে

(৭৯৩৪) মুহাম্মদ ইমরান, ছাগলনাইয়া, ফেনী।

জিজ্ঞাসাঃ সম্মানিত মুফতি সাহেব, আমি দু’বছর পূর্বে বিয়ে করেছি। মহর (মহরে ফাতেমী হিসাব করে) দু’ লক্ষ ধার্য হয়েছিল। আর আমি স্বর্ণালংকার যা দিয়েছিলাম, তার মূল্য মহর থেকে অনেক বেশি ছিল (৩,৫০,০০০/- টাকা প্রায়)। সুতরাং বিয়ের আসরে উপস্থিত সবাই বলেছিল মহর আদায় হয়ে গেছে এবং কাবিনে মহর উসূল লিখা হয়েছে। বিয়ের কিছু দিন পর আমার স্ত্রী উক্ত স্বর্ণালংকারের একাংশ হারিয়ে ফেলেছে, যার মূল্য ১,৪০,০০০/- টাকা প্রায়। এখন আমার প্রশ্ন হল, বিয়ের সময় দেওয়া সব স্বর্ণালংকার কি মহর হিসাবে গণ্য হবে? এবং হারিয়ে যাওয়া সোনা কার জিন্মা থেকে যাবে?

সমাধানঃ ফিকাহশাস্ত্রের নির্ভরযোগ্য কিতাবাদি অধ্যয়নে প্রমাণিত হয় যে, প্রশ্নে বর্ণিত মহরে ফাতেমী হিসাবে ধার্যকৃত দু’ লক্ষ টাকার পরিবর্তে আপনি যে স্বর্ণ আপনার স্ত্রীকে দিয়েছেন, তার সব মহর হিসাবে গন্য হবে। আর হারানো স্বর্ণ স্ত্রীর মহর থেকে গণ্য হবে। (ফাতাওয়ায়ে হিন্দিয়া- ৩৭৯, রদ্দুল মুহতার- ৪/২৪৬, কিফায়াতুল মুফতী- ৫/১১৮)।

 

ব্যাংকের জমাকৃত টাকার মুনাফা ব্যায় ও মৃত প্রাণী খাওয়া প্রসঙ্গে

(৭৯৩৫) মুহাম্মদ আখতারুল ইসলাম ইবনে উসমান, পলাশবাড়ী, বীরগঞ্জ, দিনাজপুর।

জিজ্ঞাসাঃ (ক) বাংলাদেশের প্রায় প্রতিটি জেলায় খ্রীস্টানরা তাদের ধর্মপ্রচারের কাজে এবং অবুঝ, অসহায় গরীব দুঃখী, মুসলিমদেরকে তাদের অন্তর্ভুক্ত করার কাজে আদাজল খেয়ে নেমেছে। বিশেষ করে আমাদের দিনাজপুর রংপুর জেলায়।

তারা আমাদের গরীব, দুঃখী, মুসলিম ভাই-বোনদেরকে টাকা-পয়সা গরু ছাগল ঘর-বাড়ি ইত্যাদি দিয়ে, তাদেরকে খ্রীস্টধর্মের প্রতি উৎসাহিত করে, খ্রীস্টানে পরিণত করছে। আর এদিকে আমার অসহায় ভাই-বোনেরা, তাদের অভাব মিটাতে হয়তো সুদি লেনদেনের সাথে জড়িত হচ্ছে, নতুবা খ্রীস্টানদের খাতায় নাম দিয়ে তারা তাদের অভাব মিটাচ্ছে।

ঠিক এই মুহূর্তে আমি কি পারব যে, কিছু টাকা কোনো ব্যাংকে জমা রেখে এর থেকে যে মুনাফা আর্জিত হবে, তা সওয়াবের নিয়ত ছাড়াই; গরীব আত্মীয়স্বজন ও প্রতিবেশীদের মাঝে বণ্টন করে দিতে, যাতে তারা খ্রীস্টানদের আগ্রাসন থেকে বাঁচতে পারে। বিস্তারিত জানালে আশা করি অনেক উপকৃত হব।

(খ) চাউলের মধ্যে এক ধরণের কালো কালো পোকা জন্ম নেয়। এমনকি ভাত রান্নার পরও কিছু কিছু পোকা ভাতের সাথে থেকে যায়। এখন আমার জানার বিষয় হল, এই পোকাগুলো ভাতের সাথে খাওয়া জায়েয হবে, না হারাম হবে। হারাম হলে কতটুকু?

(গ) আজ থেকে প্রায় ১৪০০ বছর পূর্বে, অর্থাৎ- রাসূল (সা.)এর যামানার দিকে এবং সাহাবা ও তাবিয়ীনদের যামানার দিকে লক্ষ্য করলে দেখা যায়, তাদের কারো নামের শুরুতে (মুহাম্মদ) এবং শেষে (ইসলাম) শব্দ পাওয়া যায় না। কিন্তু বর্তমান সময়ের প্রায় প্রতিটি মুসলমানের নামে (মুহাম্মদ) অথবা (ইসলাম) দেয়া হয়। এমনটি হওয়ার কারণ কী? এবং এই শব্দগুলোর ব্যাবহার কখন থেকে শুরু হয়েছে, বিস্তারিত জানালে অনেক আনন্দিত হব।

সমাধানঃ (ক) বর্ণিত প্রশ্নানুযায়ী আপনি কোন ব্যাংকে কিছু টাকা রেখে তা থেকে অর্জিত মুনাফা দ্বারা গরীবদের মাঝে বণ্টন করতে পারবেন না, যদিও তা সাওয়াবের নিয়ত ছাড়াই হয়। কেননা বর্তমানে ব্যাংকগুলো সুদমুক্ত নয়। যেহেতু সূদ ছাড়াও সাহায্য করার অনেক পন্থা রয়েছে, সুতরাং উক্ত সূরতে হারাম মুনাফা দিয়ে গরীবদের সাহায্য সহযোগিতা করার কোনো অবকাশ নেই। তবে আপনি এই নাজুক পরিস্থিতিতে খ্রীস্টানদের আগ্রাসন থেকে তাদেরকে ফিরিয়ে আনার জন্য কয়েকটি পদ্ধতি অবলম্বন করতে পারেন। যেমন দাওয়াত ও তাবলীগের মাধ্যমে তাদের মাঝে বিশেষ মেহনত চালু রাখা, হালাল পন্থায় ব্যবসা বা বিনিয়োগের মাধ্যমে তাদেরকে সহযোগিতা করা, মানুষদেরকে বেশী বেশী মাদ্রাসা ও আলেম উলমামুখী করা ইত্যাদি।

(খ) এই সমস্ত কালো পোকা ইত্যাদি খাওয়া জায়েয হবে না। বরং তা বেছে বেছে ফেলে দিতে হবে। তবে যে সমস্ত পোকা ভাত ইত্যাদির সাথে এমনভাবে মিশে গেছে, যা পৃথক করাও অসম্ভব তাই নিরুপায় বা অসতর্কতায় তা পেটে গেলে কোন সমস্যা নেই।

(গ) হাদীস শরীফে বর্ণিত রয়েছে যে, সবচেয়ে উত্তম নাম হল আব্দুল্লাহ ইত্যাদি, অতঃপর নবীদের নাম। বরকতের জন্য মুসলমানগণ অধিকাংশ নামের সাথে মুহাম্মদ নাম সংযোগ করে থাকেন তাতে কোনো সমস্যা হবে না। তবে বাংলাদেশ, ভারত, পাকিস্তানে হিন্দুদের আধিক্যতা ও প্রভাবের দরুণ ইংরেজ শাসনামলে কোন কোন স্থানে মুসলমানদের নামের শুরুতেও শ্রী ইত্যাদি লেখার প্রচলন শুরু হয়। সেটা বন্ধ করার জন্যেই মুসলমানদের নামের শুরুতে ‘মুহাম্মদ’ লেখার প্রচলন ঘটে। তবে আরবদের মধ্যে নামের সাথে বিজাতীয় শব্দের মিশ্রনের প্রবণতা না থাকার দরুন আজও সেখানে এই প্রচলন নেই। (মিশাকত শরীফ- ২৪৪, ফাতাওয়ায়ে রহিমিয়া- ৯/২৩৯, মিশকাত – ২/৪০৭, ফাতাওয়ায়ে শামী- ৫/৩২৮, আশরাফুল ফাতাওয়া- ৩/৫০৭)।

 

অসিয়ত প্রসঙ্গে

(৭৯৩৬) মুহাম্মদ শহীদুল ইসলাম (শহীদ), নাগেশ্বরী, কুড়িগ্রাম।

জিজ্ঞাসাঃ যদি কোনো পিতা-মাতা তার কোনো সন্তানকে এ কথা বলেন যে, আমি মারা গেলে তুমি আমার জানাযা বা দাফন কাফনে শরীক হবে না। এমতাবস্থায় পিতা-মাতা মারা গেলে, সন্তানের জন্য জানাযায় বা কাফন দাফনে শরীক হওয়া যাবে কি-না? এহেন পরিস্থিতিতে সন্তানের করণীয় কি? বিস্তারিত জানিয়ে বাধিত করবেন।

সমাধানঃ হ্যাঁ, সন্তান তার পিতা-মাতার কাফন-দাফন ও জানাযায় শরীক হতে পারবে। কারণ, তার পিতা-মাতা যে শরীক না হওয়ার অসিয়ত করেছিল, সেটা শরীয়তের জায়েয কাজে ধর্তব্য হবে না।

উল্লিখিত অবস্থায় সন্তানের জন্য করণীয় হল, তার পিতা-মাতা যদি জীবিত থাকে, তাহলে তাদের থেকে ক্ষমা চেয়ে নেওয়া। আর যদি মৃত্যুবরণ করে থাকে, তাহলে তাদের কাফন দাফন ও জানাযার ব্যবস্থা করা এবং তাদের জন্য ইস্তিগফার ও ঈসালে সাওয়াব করা।

লক্ষণীয়, সন্তানের জন্য বাঞ্ছনীয় হল যে, পিতা-মাতার সন্তুষ্টি অর্জনে সর্বাত্মক চেষ্টা করা এবং তাঁদের সাথে কোনো ধরণের মন্দ ব্যবহার না করা, যাতে তাঁরা চরম অসন্তুষ্ট হয়। (দুররে মুখতার- ১০/৪১৯, ফাতাওয়ায়ে হিন্দিয়া- ১১/২২৪, ফাতাওয়ায়ে দারুল উলূম- ৫/৩২৬)।

 

মশা মারা  ইলেক্ট্রিক ব্যাট প্রসঙ্গে

(৭৯৩৭) হারিছ আহমদ, সিলেট।

জিজ্ঞাসাঃ আমরা জানি, কোনো প্রাণীকে পুড়িয়ে মারা জায়েয নেই। কিন্তু বর্তমানে মশা মাছি বা এই ধরণের প্রাণীকে মারার জন্য যে ইলেক্ট্রিক মেশিন ব্যাট বা যন্ত্রের প্রচলন আছে, এগুলো ব্যবহার করা জায়েয হবে কি?

সমাধানঃ হাদীস ও ফিক্বাহশাস্ত্রের নির্ভরযোগ্য কিতাবাদি অধ্যয়নে প্রমাণিত হয় যে, মশা মাছি মারার এক ধরণের ইলেক্ট্রিক ব্যাট আবিষ্কার হয়েছে।

সেই ব্যাট দিয়ে যেহেতু মশা-মাছি বিদ্যুতের আগুনে পুড়িয়ে মারা হয়, তাই মশা মাছি মারার জন্য এমন ব্যাট ব্যবহার করা জায়েয হবে না। তবে মশা মাছি থেকে বেঁচে থাকার জন্য কোনো মাধ্যম না থাকলে একান্ত প্রয়োজনে ইলেক্ট্রিক ব্যাট ব্যবহার করা জায়েয। (আবু দাউদ শরীফ- ২/৩৬৩, রদ্দুল মুহতার- ৪/১২৯, ৬/৭৫২)। #

 

বাল্যবিবাহ ও সামাজিক বাস্তবতা

আলহাজ্ব মাওলানা এরফান শাহ

ছেলে-মেয়েদের বিয়ের বয়স নিয়ে আমাদের দেশে যথেষ্ট বিতর্ক রয়েছে। বিশেষ করে নারী ও মানবাধিকার সংগঠনগুলো দরদী ও অতিউৎসাহী হয়ে এত বেশি বিতর্ক তৈর করছে, যা রীতিমত বিরক্তিকর, সন্দেহযুক্ত ও রহস্যাবৃত। পিতা-মাতা সন্তানের জন্মদাতা, সমস্ত দায়দায়িত্ব বহনকারী ও অভিভাবক। প্রবাদ আছে, ঘুমিয়ে আছে শিশুর পিতা সব শিশুদের অন্তরে। যেখানে মা-বাবা নিজ প্রাণের চেয়ে সন্তানকে বেশি ভালবাসেন, সন্তানের ভবিষ্যত নিয়ে সদা-সর্বদা ব্যতিব্যস্ত, চিন্তিত ও উদ্বিগ্ন থাকেন, সেখানে নারীবাদী ও মানবাধিকার সংগঠনগুলো কোন অধিকারে সন্তানের বিষয়ে সম্মানিত পিতা-মাতাকে অসম্মান, হয়রানী ও আদালতের কাঠগড়ায় দাঁড় করাতে চান? তাদের মায়াকান্না, অনধিকার চর্চা ও অযাচিত হস্তক্ষেপ ভাল চোখে দেখে না সন্তানের পিতা-মাতা, অভিবাবক ও জনগণ। কথায় বলে মায়ের চেয়ে মাসির দরদ বশি! তাদের অতি উৎসাহী কর্মকান্ড দেখে আমরা পিতা-মাতারা মনে মনে হাসি।

পবিত্র কুরআনে আল্লাহ তাআলা ইরশাদ করেন, তোমরা সৎকাজ ও খোদা ভীতিতে পরস্পর সহযোগিতা করো। সরকার ছেলে-মেয়েদের বিয়ের বয়স যথাক্রমে একুশ ও আঠার নির্ধারণ করেছে। তবে মা-বাবা ইচ্ছা করলে প্রয়োজনে বিশেষ ব্যবস্থায় আগেও বিয়ে দেয়ার বিধান রাখা হয়েছে। মা-বাবার প্রতি এ সম্মান ও মর্যাদা তাদের পাওনা ও ন্যায্য অধিকার। যুগের চাহিদা, প্রয়োজনীয়তা ও বাস্তবতার নিরিখে সরকার ন্যূনতম মাত্রার হলেও একটি বাস্তবসম্মত, যথাযথ ও যুগান্তকারী সিদ্ধান্ত নিয়েছে। এজন্য সরকারকে আন্তরিক অভিনন্দন, সাধুবাদ ও মোবারকবাদ জানাই।

জন্ম, মৃত্যু ও বিয়ে মহান আল্লাহর নিয়ন্ত্রিত মহিমা। কে, কখন, কোথায় জন্মগ্রহণ করবে, কখন, কোথায়, কীভাবে মৃত্যুবরণ করবে, কখন বয়ঃসন্ধিতে পৌঁছবে, তা কারো ইচ্ছাধীন নয়। এটি একমাত্র বিধাতার বিধান, তার নিয়ন্ত্রণাধীন ও ইচ্ছাধীন। অতএব, যে বিষয়টি মানুষের নিয়ন্ত্রণাধীন নয়, তা নিয়ন্ত্রণ করার চেষ্টা করা কতটা যুক্তিযুক্ত, ন্যায় সঙ্গত ও বাস্তব সম্মত? কেউ কী তার জন্ম ও মৃত্যুর সময় নির্ধারণ করতে পারবে? মহান আল্লাহ জন্মের আগেই মৃত্যু নির্ধারণ করে রেখেছেন। জন্মের আগেই রিযীক নির্ধারণ করে রেখেছেন। জন্মের আগেই তার সঙ্গিনী নির্ধারণ করে রেখেছেন। এগুলো মহান রব ও সৃষ্টিকর্তার সৃষ্টি ও রহস্য।

এ তিনটি বিষয় মানুষের ইখতিয়ার বহির্ভুত। এগুলো নিয়ন্ত্রণ করার চেষ্টা করা মানে বিধাতার বিধানকে চ্যলেঞ্জ করা এবং বাস্তবতাকে অস্বীকার করা। বিয়ের উপযুক্ত বয়স কোনটি? বয়ঃসন্ধিতে উপনীত হওয়ার পর একজন বালক ও বালিকা যখন শারীরিক আকাঙ্খী হয়, তবে সে সময়টিই তার বিয়ের বয়স বা সময়। এ শুভক্ষণটি কারো জন্য ১৪ বছরে হতে পারে, কারো জন্য ১৬ বছরে, কারো জন্য ১৮ বছরে, কারো সারা জীবনে নাও আসতে পারে। আবার স্থান, কাল ও পাত্র ভেদে রয়েছে এর ভিন্নতা, ব্যতিক্রম ও পার্থক্য। এক কথায় পরিস্থিতি, পরিবেশ, শরীর ও মনের উপযুক্ততাই বিয়ের বয়সের মাপকাঠি। এজন্য ধর্মীয় দৃষ্টিকোণ থেকে বিবাহ কখনো ফরয, কখনো ওয়াজিব, কখনো সুন্নাত, আবার কখনো হারাম তথা নিষিদ্ধ।

অতএব, সোনা, রূপা ও লোহা এক পাল্লায় পরিমাপ করা হবে হঠকারী সিদ্ধান্ত। বিয়ের সময় হয়েছে কিনা, বিয়ের জন্য শরীর ও মন প্রস্তুত কীনা, তা সবচেয়ে ভালো বুঝতে পারে ব্যক্তি নিজেই। তবে অভিভাবকদের সতর্কতা ও সচেতনতা জরুরী। আর সব চেয়ে বড় কথা, অভিভাবকরা তো এ সময়টা পার করেই এসেছেন। অতএব, তাদের নতুন করে বিবাহের গল্প শোনানোর কোনো মানে নেই। এখানে পিতা-মাতা ও অভিভাবকের সততা, দায়বদ্ধতা ও আন্তরিকতা নিয়ে প্রশ্ন তোলা হবে হাস্যকর, অতিরঞ্জন ও বাড়াবাড়ি রকমের।

কথায় বলে, ভদ্রতার দাম নেই। এ কথাটি রাজনীতি, সমাজনীতি, অর্থনীতি, বিভিন্ন নীতিতে যেমন সত্য, তেমনি বিয়ে নীতিতেও ততোধিক বেশি সত্য বলে মনে হয়। যতক্ষণ না ছেলের বিরুদ্ধে ইভটিজিং আর পাশের বাড়ির চালে ঢিল মারার অভিযোগ আসছে, ততক্ষণ অনেক অভিভাবক বুঝতেই চান না ছেলের বিয়ের বয়স হয়েছে। এক কথায় অনেক অভিভাবকের কাছে ছেলের বিয়ের উপযুক্ততার প্রমাণ হলো ইভটিজিং। অপর দিকে ছেলেটি ভদ্রভাবে লেখা-পড়া করছে, লেখাপড়া শেষে চাকুরী করছে, মাথায় টাক পড়ে যাচ্ছে, চুল পেকে যাচ্ছে, তব্ওু ছেলেটির বিয়ের বয়স হয়নি। কারণ,  সে অতি ভদ্র। অবশ্য এ ক্ষেত্রে মেয়েরা অনেকটা ভাগ্যবতী। অতীতকাল থেকেই মেয়েদের উপার্জনে বাবা-মা অভ্যস্ত নয় বলে প্রাপ্তবয়স্ক হওয়ার পর যত দ্রুত পারেন মেয়েকে পার করার চেষ্টা করেন। কিন্তু হঠাৎ করেই অভিভাবকরা অতি আধুনিক হয়ে উঠেছেন! মেয়ে লেখাপড়া শেষে আয়-রোযগারী না হওয়া পর্যন্ত বিয়ের চিন্তা করাকে তারা সেকেলে মনে করেন। মনে রাখা দরকার, অবিবাহিত ছেলে-মেয়ে যদি অনৈতিক কর্মে লিপ্ত হয়, তখন তার দায়ভার কিন্তু পিতা-মাতার উপর বর্তায়।

ছেলে-মেয়েদের অবৈধ প্রেম-ভালবাসা, লিভ-টুগেদার ও সমকামিতার মতো অনৈতিকতা, ধ্বংস ও অভিশাপের হাত থেকে রক্ষা করতে বৈধভাবে জৈবিক চাহিদা পূরণের জন্যই মহান রাব্বুল আলামীন বিবাহের নির্দেশ দিয়েছেন। প্রাপ্ত বয়স্ক ও সামর্থ্যবান হলে কাল বিলম্ব না করে বিবাহ করা প্রত্যেক মুসলমানের ঈমানি দায়িত্ব। বিয়ে শুধু জৈবিক চাহিদাই নয়, বরং একটি মহান ইবাদতও বটে। বিবাহ মানুষের জীবনকে পরিশীলিত, মার্জিত ও পবিত্র করে তোলে। ইসলাম একদিকে যেমন কৌমার্য দ্বারা মানুষের সহজাত প্রবৃত্তিকে দমন করার পক্ষপাতি নয়, ঠিক তেমনি এটি লাগামহীন অবিবেচক যৌনজীবনকেও অনুমোদন করে না। রাসূল (সা.) বলেন, “হে যুবসমাজ! তোমাদের মধ্যে যারা বিবাহ করতে সক্ষম তারা যেন বিবাহ করে। কারণ, এটি চোখকে আকর্ষণপূর্ণ দৃষ্টি থেকে দূরে রাখে এবং যৌনাঙ্গের পবিত্রতা রক্ষা করে। আর যারা বিবাহের সামর্থ্য রাখে না, তারা যেন রোযা রাখে। যাতে এটি ঢাল হিসেবে তাকে অনৈতিক ও অসামাজিক কার্যকলাপ থেকে রক্ষা করতে পারে।

বিবাহের মতো সহজ ও জরুরী একটি বিষয়কে আমরা জটিল ও গুরুত্বহীন মনে করছি। বিয়ে মানে এ নয় যে, জাগতিক সকল কাজকর্ম বন্ধ করে সারাক্ষণ এর পিছনে ছুটতে হবে, বরং বিবাহিত পুরুষরা যেমন চাকুরী, ব্যবসা ও কাজকর্ম করে, অনুরূপভাবে ছাত্র-ছাত্রীরা বিয়ে করলে তারাও তেমনি তাদের পড়ালেখা চালিয়ে যাবে। আর শিক্ষা জীবন ধ্বংসের হাতিয়ার অনৈতিক প্রেম-ভালবাসা থেকে বিবাহিত ছাত্র-ছাত্রীরা মুক্ত থাকায় স্বাভাবিকভাবে শিক্ষা ক্ষেত্রে তারা আরো বেশী মনোযোগী ও উৎসাহিত হবে। এক্ষেত্রে মরহুম বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান জাতির জন্য উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত হতে পারেন। তিনি নবম শ্রেণীতে পড়াকালীন বিবাহ করেন। তখন তার বয়স ছিল আঠার বছর, আর মরহুমা বেগম ফজিলাতুন্নেছার বয়স ছিল আট বছর। তার হাত ধরেই বাংলাদেশ স্বাধীনতা অর্জন করে। বাল্য বিয়ে তাঁকে বর্ণাঢ্য রাজনৈতিক ও কর্মজীবনে কোনো প্রকার প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করেনি। বরং ইতিবাচক উৎসাহ ও প্রেরণা যুগিয়েছে। তবে প্রয়োজন শিক্ষা, সতর্কতা, উদারতা, সচেতনতা মূলক প্রচারণা ও পরিকল্পনা।

বলা হয়ে থাকে, প্রয়োজন আবিষ্কারের জননী। বিবাহের প্রয়োজনীয়তা, উপকারিতা ও বাধ্যবাধকতা অনস্বীকার্য। এখানে পিতা-মাতা, জন্মদাতা ও অভিভাবকের ভূমিকা, দায়িত্ব ও আন্তরিকতা নিয়ে প্রশ্ন তোলা হবে হাস্যকর। মা-বাবার উপর নজরদারী, মোড়লিপনা ও কর্তৃত্ব খাটানো হবে দৃষ্টিকটূ, অনাধিকার চর্চা ও বাড়াবাড়ি। মা-বাবাকে সন্তানের মুখোমুখী দাঁড় করানো হবে বিদ্বেষ প্রসূত, সংকীর্ণতা ও ব্যক্তি স্বাধীনতা এবং সুন্দর পরিবার ব্যবস্থার পরিপন্থী। বিবাহের মাধ্যমে ঈমানের পরিপূর্ণতা অর্জন হয়। সঠিক সময়ে বিবাহের মাধ্যমে ইভটিজিং, ধর্ষণ ও ব্যভিচারের মতো বড় বড় পাপসমূহ এবং মরণব্যধি এইডস, গণোরিয়া ও যৌনরোগ থেকে নিরাপদ থাকা যায়। বিবাহে মানসিকভাবে দেহ ও মন সুস্থ থাকে। বিবাহে চরিত্রের উন্নতি ঘটে, বংশ পরম্পরা অব্যাহত থাকে। সুখময় সমাজ ও আদর্শ পরিবার গঠন সম্ভব হয় একমাত্র বিবাহের মাধ্যমেই। সর্বোপরি ইহকালীন ও পরকালীন কল্যাণ লাভ হয় বিয়ে ব্যবস্থায়।

আল্লাহ তাআলা আমাদের প্রত্যেককে ধর্মীয় অনুশাসন মেনে বিবাহ করার মাধ্যমে সুন্দর সমাজ বিনির্মাণের তাওফীক দান করুন। আমীন॥ #


Editor: Chowdhury Arif Ahmed
Executive Editor: Saiful Alam
Contact: 14/A, Road No 4, Dhaka, Bangladesh
E-mail: dailydhakatimes@gmail.com
© All Rights Reserved Daily Dhaka Times 2016
এই ওয়েবসাইটের কোন লেখার সম্পূর্ণ বা আংশিক আনুমতি ছাড়া নকল করা বা অন্য কোথাও প্রকাশ করা সম্পূর্ণ বেআইনি