ইসলাম সম্পর্কে প্রধানমন্ত্রীর উপলব্ধি মাঠ পর্যায়ের প্রশাসনে দেখতে চাই

14225380_1308007132544618_6405836576635742383_nগত ৩ আগস্ট প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা রাজধানীর আশকোনায় হজ ক্যাম্পের এক অনুষ্ঠানে পবিত্র ইসলাম ধর্ম সম্পর্কে অত্যন্ত মূল্যবান কিছু কথা বলেছেন। পুরোপুরি রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব হওয়া সত্ত্বেও ইসলাম সম্পর্কে সেই দিন প্রধানমন্ত্রী যে বক্তব্য দিয়েছেন, তাতে বোঝা যায় যে, তিনি ইসলাম সম্পর্কে ভালো জানেন এবং ধর্মকে বোঝার চেষ্টা করেন।

সকলেই বলেন, ইসলাম শান্তির ধর্ম, ইসলামে জঙ্গিবাদের কোনো স্থান নেই। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাও তেমন কথা মাঝে মাঝেই বলেন এবং সেই দিনের বক্তৃতাতেও বলেছেন। তিনি আরো বলেছেন, “কিছু বিপথগামী যুবক নিরীহ মানুষ হত্যা করে ইসলাম ধর্মকে হেয় করছে। যারা বিপথে যেয়ে খুন-খারাবি করে, মানুষ হত্যা করে আমাদের পবিত্র ধর্মকে হেয়-প্রতিপন্ন করছে, তাদের বিরুদ্ধে সমগ্র জাতিকে সোচ্চার হতে হবে”।

সে দিনের অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী আরো একটি গুরুত্বপূর্ণ কথা বলেছেন। তিনি বলেছেন, “তারা (জঙ্গি-সন্ত্রাসীরা) মানুষ খুন করে কী অর্জন করছে সেটা আমি জানি না। কিন্তু আমাদের ধর্ম আমরা যারা পালন করি, তাদের জন্য এই পৃথিবীতে বসবাস করাটা কঠিন করে দিচ্ছে। তারা আমাদের ইসলাম ধর্ম; যে ধর্ম সব থেকে শান্তির বাণী বলেছে, সহনশীলতার কথা বলেছে, সকল ধর্মের অধিকারের কথা বলে গেছে, সেই ধর্মটাকেই আজকে এভাবে হেয়-প্রতিপন্ন করে তারা কার স্বার্থ রক্ষা করছে আর কী অর্জন করছে- সেটাই আমার প্রশ্ন”। প্রধানমন্ত্রী বলেন, “আমার দুঃখ লাগে খুব, খুব কষ্ট লাগে, যখন আমি দেখি কিছু বিপথগামী ঠান্ডা মাথায় নিরীহ মানুষ হত্যা করে। আমি বলব, যারা নিরীহ মানুষকে হত্যা করছে,তারা ইসলাম ধর্মের কোনো ভালো কাজ করছে না, বরং ইসলাম ধর্মটাকে অন্যের কাছে হেয় করে দিচ্ছে। অন্যদের কাছে ইসলাম ধর্ম সম্পর্কে একটা ভীতি সৃষ্টি করে দিচ্ছে”।

এর আগে গত ১৯ জুলাই গণভবনের এক অনুষ্ঠানেও জনগণের প্রতি আহ্বান জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেছিলেন, “সন্তানদেরকে ধর্মীয় শিক্ষা দিন। তারা যাতে সঠিকভাবে ধর্মীয় শিক্ষা পায়, সেদিকে লক্ষ্য রাখতে হবে। কেননা সব ধর্মই শান্তির কথা বলে”।

প্রধানমন্ত্রী ইসলাম সম্পর্কে যা বলেছেন, নিশ্চয় সেটি বুঝে শুনেই বলেছেন। তাই তার ঐ বক্তব্য শুধুমাত্র তার দলের লোকদের মধ্যেই নয়, সর্বসাধারণ্যে ব্যাপকভাবে প্রশংসিত হয়েছে। দুর্ভাগ্যের বিষয় হলো এই যে, প্রধানমন্ত্রীর আশে পাশে এমন কিছু ব্যক্তি আছেন যারা ইসলাম বিদ্বেষী বলে সাধারণ মানুষের বদ্ধমূল ধারণা। এসব লোকের অবাঞ্ছিত উক্তির ফলে প্রধানমন্ত্রীর সাথে ইসলামপ্রেমিদের একটি দূরত্ব সৃষ্টি হয়। আরও অবাক লাগে যখন দেখা যায় যে, এক শ্রেণীর উচ্চপদস্থ পুলিশ অফিসারও মাঝে মাঝে এমন সব কথা বলেন, যে কথা শুনলে বোঝা যায় যে, ইসলাম সম্পর্কে তারা কতখানি অজ্ঞ। তাদের সেই অজ্ঞতা ঢাকার জন্য তারা মাঝে মাঝে এমনভাবে কথা বলেন, যেন মাঝে মাঝে মনে হয় যে, ইসলামের ব্যাপারে তারা একেক জন বিশেষজ্ঞ মুফতী।

আবার এমন কিছু বেশধারি আলেমও রয়েছন, যাদের ইসলাম সম্পর্কে কতদূর জ্ঞান আছে আমরা জানি না। কিন্তু তারা ইসলামকে এমনভাবে ব্যাখ্যা করেন, যেসব ব্যাখ্যা শুনলে মনে হয়, তারা ইসলামের একটি নতুন সংস্করণ বানাচ্ছেন, যে সংস্করণের নাম দেয়া যেতে পারে ‘দরবারি ইসলাম’। এসব অফিসার, বেশধারী আলেম বা ব্যক্তি, যারা প্রধানমন্ত্রীর আশে পাশের লোক, তাদের উচিত প্রধানমন্ত্রীর এই বক্তব্য ভালোভাবে পড়া এবং তার মর্মার্থ অনুধাবন করা। প্রধানমন্ত্রী তার সংক্ষিপ্ত ভাষণে ইসলামকে যেভাবে উপস্থাপন করেছেন, তাদেরও উচিত ইসলামকে একইভাবে উপস্থাপন করা। কথা বলার সময় প্রধানমন্ত্রীর বক্তব্যের আলোকেই কথা বলা।

এ প্রসঙ্গে একটা কথা না বললেই নয়। পুলিশ কোনো ব্যক্তিকে গ্রেফতার করার সময় বলে যে, তার কাছে অনেক ‘জিহাদী’ পুস্তক পাওয়া গেছে। অথচ জিহাদী পুস্তক নামে ঐসব বই যখন টেলিভিশনে দেখানো বা পত্রিকায় ছবি ছাপানো হয়, তখন অধিকাংশ সময়ই দেখা যায় যে, ঐসব পুস্তকের নাম হলো, ‘ইসলামের মর্মবাণী’, ‘ইসলামের দাওয়াত’, ‘ইসলামে নারীর অধিকার’, ‘ইসলামে যাকাতের বিধান’, ‘হজ্ব পালনের নিয়ম’ ইত্যাদি। অর্থাৎ ইসলামী পুস্তক হলেই সেইগুলোকে জিহাদী পুস্তক বলে পুলিশ আখ্যায়িত করছে। পুলিশের এসব বক্তব্য এবং কার্যক্রমের ফলে জনগণের একটি বিপুল অংশ মনে করছে যে, পুলিশ বুঝি ধর্ম সম্পর্কে বৈরী হয়ে উঠছে।

সরকার প্রধান হিসেবে এবং দীর্ঘ অভিজ্ঞতা সম্পন্ন রাজনীতিবিদ হিসেবে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা নিশ্চয় অনুধাবন করেন যে, পুলিশের এই ধরনের অবিবেচনা প্রসূত কার্যকলাপের দায়-দায়িত্ব চূড়ান্ত পর্যায়ে সরকারের ওপরেই বর্তায়। পুলিশের কার্যক্রমের ফলে ‘জিহাদ’ শব্দটির প্রতি মানুষের ঘৃণা ও নেতিবাচক ধারণা সৃষ্টি করা হচ্ছে। অথচ সন্ত্রাসী ও জঙ্গিরা যে মানুষ হত্যা করছে সেটি কোনোক্রমেই জিহাদ হতে পারে না। অনৈসলামিক কার্যক্রম, সন্ত্রাস, মানবতাবিরোধী অপরাধ এবং জাতীয় স্বার্থের ওপর আঘাত হানার বিরুদ্ধে প্রত্যাঘাত ও প্রতিরোধ করার নামই জিহাদ। গুলশান বা শোলাকিয়ায় সন্ত্রাসীরা যেটা করেছে সেটি জিহাদ তো নয়ই বরং সেটি জিহাদের সম্পূর্ণ পরিপন্থী কাজ। দাড়ি রাখা, টুপি ও কল্লিদার পাঞ্জাবী পরা এবং গলায় লাল ডোরাকাটা গামছা ঝুলালেই সেই ব্যক্তি ইসলামী জঙ্গি, সন্ত্রাসী বা জিহাদী, এমন ধারণা পুলিশকে পরিত্যাগ করতে হবে। প্রধানমন্ত্রী নিজেও তো হিজাব পরেন। কাজেই হিজাব ও বোরকা পরলেই কেউ নারী জঙ্গি হবেন, এমন ধারণা আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর মাথা থেকে ঝেড়ে ফেলে দেয়া জরুরী। যারা সরকারের আশে পাশে আছেন, তারা এবং আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর লোকেরা এসব কথা যদি মনে রাখেন এবং ইসলাম সম্পর্কে প্রধানমন্ত্রীর উক্তিমতো চলেন, তাহলে আমাদের সমাজদেহ থেকে অনেক অশান্তি এবং অস্থিরতা দূর হবে। #


Editor: Chowdhury Arif Ahmed
Executive Editor: Saiful Alam
Contact: 14/A, Road No 4, Dhaka, Bangladesh
E-mail: dailydhakatimes@gmail.com
© All Rights Reserved Daily Dhaka Times 2016
এই ওয়েবসাইটের কোন লেখার সম্পূর্ণ বা আংশিক আনুমতি ছাড়া নকল করা বা অন্য কোথাও প্রকাশ করা সম্পূর্ণ বেআইনি